শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:২২ পিএম, ২০২২-১০-০৯
নানা চেষ্টার পরও রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীর সংখ্যা কমছে না। স্টেশনে টিকিট পাওয়া যায়নি অথবা টিকিট কাটার সময় ছিল না এ রকম অযুহাত দেখিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ট্রেনে ভ্রমণ করছেন টিকিট ছাড়াই। এতে সরকার যেমন রাজস্ব পাচ্ছে না তেমনি বাড়তি এসব যাত্রীদের কারণে ভোগান্তির শিকার হন টিকিট নিয়ে ট্রেনে ওঠা যাত্রীরা।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনগুলোতে দেখা গেছে, টিকিট না কেটেই অনেক যাত্রী ভ্রমণ করেন। তারা সাধারণ কামরাগুলোতে টিকিট কেটে ট্রেনে ওঠা যাত্রীদের আসনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। কেউ কেউ টিকিট না থাকলেও অন্যজনের আসনে বসে থাকেন। পরে টিকিট নিয়ে যাত্রী এসে তাকে উঠতে বললে উল্টো বাগবিতণ্ডায় জড়ান। কখনও কখনও টিকিট না থাকলেও যাত্রীরা এসি কামরাতে গিয়েও দাঁড়িয়ে থাকেন। অথচ এসি কামরায় স্ট্যান্ডিং টিকিটেও কোনো যাত্রীকে ঢুকতে দেওয়া হয় না।
অভিযোগ রয়েছে, টিকিট কালেক্টররা ট্রেনের ভেতরেই টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে টিকিট ছাড়াই তাদের ভ্রমণের সুযোগ করে দেন। তবে ট্রেনে এসব যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিটের মূল্যসহ জরিমানাও আদায় করা হয়। তারপরও বিনা টিকিটে ভ্রমণ কমছেই না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার (৮ অক্টোবর) তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৭৭ জন বিনাটিকিটের যাত্রীকে ১৪ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা করা হয়। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার নিজেই এ অভিযান চালান। তিনি যাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৭ জন হকারকেও জরিমানা করে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেন।
এর আগে গত শুক্রবার বিনাটিকিটে ভ্রমণ করায় ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৩২ যাত্রীকে জরিমানা করেন তিনি। পাবনার ঈশ্বরদী বাইপাস থেকে রাজশাহী পর্যন্ত ট্রেনে অভিযান চালিয়ে তাদের জরিমানা করেন অসীম কুমার তালুকদার। তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা আদায় করা হয়।
অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘পাকশিতে দাপ্তরিক কাজ সেরে ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী আসছিলাম। তখনই বিনাটিকিটের যাত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করি। এ সময় টিকিটবিহীন ৩২ যাত্রী পাওয়া যায়। এদের কাছ থেকে টিকিটের ভাড়াসহ জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ দিন মোট ৩২ জন যাত্রীর কাছ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা আদায় করা হয়।’
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা-রাজশাহী রুটের সাঁগরদাড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের ১৬৫ জন বিনাটিকিটের যাত্রী শনাক্ত করে তাদের কাছ থেকে জরিমানাসহ মোট ১৯ হাজার ৬৪০ টাকা আদায় করা হয়। এ অভিযানও চালান পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার।
অসীম কুমার তালুকদার জানান, ‘ট্রেনটিতে উঠে প্রচুর ভিড় দেখি। ট্রেনের ভেতরে হাঁটা যাচ্ছিলো না। ওয়াশরুমে যাওয়া কষ্টসাধ্য ছিল। ট্রেনটির অনেক যাত্রী বিনা টিকিটে সফর করছিলেন। একজনের কাছে টিকিট চাইলে তিনি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে তিন কোচ ঘুরিয়ে জানালেন তিনি আসলে টিকিটই কাটেননি। তাঁর কাছ থেকে জরিমানাসহ আদায় করা হয় ৬২০ টাকা। একজন নিজেকে রেলওয়ে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে টিকিট না কাটার সুযোগ খুঁজছিলেন। তাকে ও তাঁর এক সহযোগীকে ১ হাজার ২৪০ টাকা জরিমানা করা হয়। এভাবে মোট ১৬৫ জন বিনাটিকিটের যাত্রী শনাক্ত করে জরিমানাসহ ১৯ হাজার ৬৪০ টাকা আদায় করা হয়।’
এর আগে ১ অক্টোবর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালান মহাব্যবস্থাপক। সেদিন ৮০ জন বিনাটিকিটের যাত্রীর কাছ থেকে আদায় রা হয় ১৪ হাজার ৭০০ টাকা।
পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপকের পাশাপাশি ট্রেনে দায়িত্বরত কর্মকর্তারাও অভিযান চালান। কিন্তু টিকিট ছাড়াই ট্রেনে ওঠার প্রবণতা কমছে না।
মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘ট্রেনে বিনাটিকিটের যাত্রী থাকলে টিকিট কেটে ওঠা বৈধ যাত্রীদের ভোগান্তি হয়। যারা টিকিট না কেটে সিট দখল করেন তাঁরাই উল্টো বৈধ যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাই বিনাটিকিটের যাত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সব কর্মকর্তাদেরই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও ট্রেনে থাকলে বসে না থেকে যাত্রীদের টিকিট চেক করে দেখি। যাদের কাছে টিকিট থাকে না তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করি।’
প্যা.ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত