শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্বান্ত উপেক্ষিত
Passenger Voice | ০১:২৬ পিএম, ২০২২-০৯-২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সম্প্রতি বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অফিসের কর্মঘণ্টা কমানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে। চলতি বছরের ২৪ আগস্ট থেকে সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে ২২ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তবে উক্ত নির্দেশনা সারাদেশের সকল প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করা হলেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম সার্কেল অফিসে কর্মরত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড মানছে না। চট্টগ্রাম বিআরটিএর কার্যক্রম নির্দেশনা অনুযায়ী বিকেল ৩ টায় বন্ধ করা হলেও মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড এর কর্মীরা রাত ৮ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এই বিষয়ে মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় এসিস্টেন্ট ম্যানেজার মাহবুব কবির জানায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসন বিভাগ বিআরটিএর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নির্ধারিত সময়ের পরেও অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা। বিআরটিএর কোন কর্মকর্তা এমন নির্দেশনা দিয়েছেন সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করেন নি তিনি।
এই বিষয়ে বিআরটিএর চট্টমেট্রো-১ সার্কেলের উপপরিচালক (ইঞ্জিঃ) তৌহিদুল হোসেন প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, বিআরটিএর পক্ষ থেকে মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড কে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়ের পরে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করার কোন অনুমতি দেয়া হয়নি।
এই বিষয়ে আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিআরটিএ চট্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) প্রদীপ কুমার দে’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের কেউ আমাদের কাছে অফিস সময় বৃদ্ধি করার বিষয়ে আবেদন করেনি। আমাদের এই বিষয়ে কোন নির্দেশনা দেয়ার সুযোগও নেই। তবে যেহেতু এইটা পাবলিক ডিলিং এর বিষয় আছে সেহেতু বিকেল ৩ টার পরে যদি ৫ থেকে ১০ জন লোকের বায়োমেট্রিক দেয়া বাকি থাকে তারা সর্ব্বোচ্চ ১ ঘন্টা সময় নিয়ে কাজটা শেষ করতে পারবে। এর বাহিরে তারা কোন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছেনা মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড এর বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকে নানান রকম সমালোচনা চললেও এবার শ্রম আইন ও শ্রম নীতিমালা অমান্য করে কর্মীদের দিয়ে দৈনিক ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩) ও বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ যথাযথভাবে অনুসরণ করে আইনের Working Hour Policy (কর্মঘন্টার নীতিমালা) এর ২ ধারার উপধারা ২.১ ও ২.২ এর নির্দেশনা মতে কোন প্রাপ্ত বয়ষ্ক শ্রমিক সাধারণতঃ সপ্তাহে ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘন্টার অধিক সময় কাজ করবেন না বা তাকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১০৮ এর বিধান সাপেক্ষে একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক শ্রমিক দৈনিক ১০ (দশ) ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন এবং এক্ষেত্রে অধিককাল কাজের জন্য তার মূল মজুরীর দ্বিগুণ হারে ভাতা পাবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, কোন সপ্তাহে উক্তরূপ কোন শ্রমিকের মোট কর্ম সময় ৬০ (ষাট) ঘন্টার অধিক হবে না এবং কোন বৎসরে ইহা গড়ে প্রতি সপ্তাহে ৫৬ (ছাপ্পান্ন) ঘন্টার বেশী হবে না।
মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কর্মরত কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত পূর্বের নির্ধারিত সময়ে তারা অফিস পরিচালনা করার কথা ছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের জিম্মি করে রাত ৮ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত কাজ করিয়ে নেয়া হতো। পরবর্তীতে সরকারী নির্দেশনা আসলে অফিস সময় সকাল ৯ টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত করা হলেও রাত ৮ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত কাজ করানো হচ্ছে কর্মীদের। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩) এর ১০৮ ধারা অনুযায়ী কোন ধরনের মূল মজুরীর দ্বিগুণ হারে ভাতা প্রদান করছে না। এমনকি সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত কাজ করিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক-কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড এর এইচ আর আশরাফ বিন মুতুর্জাকে হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা বিআরটিএর নির্ধারিত টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে তাদের অনুমতি সাপেক্ষে অফিস পরিচালনা করছি।
এদিকে বিদ্যুতের সমস্যার কারনে ড্রাইভিং লাইসেন্স বায়োমেট্রিক প্রদান করতে আসা গ্রাহকরা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এবং সমালোচিত হচ্ছে খোদ বিআরটিএ। সাম্প্রতিক মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড এর নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা করে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে বিআরটিএর পরিচালক অপারেশন বরাবরে পত্র প্রেরন করেছেন বিআরটিএ চট্টমেট্রো-২ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ)।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত