অবৈধ কমিশন দিয়ে চলছে বীমার নেতাদের প্রতিষ্ঠান

Passenger Voice    |    ১১:৩৮ পিএম, ২০১৯-১০-১০


অবৈধ কমিশন দিয়ে চলছে বীমার নেতাদের প্রতিষ্ঠান

নন-লাইফ বীমা খাতে ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন নয়। এমন অঙ্গিকার করলেও এরইমধ্যে তা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনের প্রতিষ্ঠান সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সসহ আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অন্য তিন কোম্পানি হলো এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ও ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বেশি কমিশন ও প্রিমিয়াম হার কমিয়ে ব্যবসা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়ে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বরাবর চিঠি দিয়েছে কয়েকটি বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। এমনটাই জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র মতে, ১৫ শতাংশের অধিক কমিশন বন্ধে গত মে মাসের দিকে ৬২ নং সার্কুলার জারি করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এরপরই তা বাস্তবায়নে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও সিইও’দের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত একাধিক সভায় ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন না দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এ সময় সংবাদ সম্মেলন করেও বেশি কমিশন নো দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

জানা যায়, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স এবং চট্টগ্রামের জুবিলি রোডে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের শাখা অফিস ৩০ শতাংশ কমিশন দিয়ে সম্প্রতি ব্যবসা হাতিয়ে নিয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে উক্ত গ্রাহকের ব্যবসা করে আসছিল অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স। অতিরিক্ত কমিশন দিয়ে মেরিন কভার নোট ইস্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে আইডিআরএ’র কাছে চিঠি দিয়েছে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ডিএমডি ও সিএফও বাদল চন্দ্র রাজবংশী।

আবার ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মতিঝিল শাখায় বাকীতে ও অতিরিক্ত কমিশন দিয়ে ব্যবসা সংগ্রহের অভিযোগ করেছে ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স। অতিরিক্ত কমিশন দিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা সংগ্রহের বিষয়ে ইতিপূর্বে কয়েকবার ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের সিইও’কে নিষেধ করার হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন ইসলামী কমার্শিয়ালের ইন্স্যুরেন্সের সিইও মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদ। তবে এসব লিখিত অভিযোগের সাথে কোনো প্রমাণাদি দাখিল করা হয়নি বলে জানায় সূত্রটি।

অন্যদিকে সোনার বাংলা ইন্স্যুরন্সের বিরুদ্ধে কম প্রিমিয়াম ও বাজার দরের নিচে কভার নোট ইস্যুর অভিযোগ করা হয়েছে। ভু্ক্তভোগী কোম্পানির একজন উন্নয়ন কর্মকর্তার বরাতে অভিযোগে বলা হয়েছে, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের খাতুনগঞ্জ শাখা একটি মেরিন কভার নোটে প্রিমিয়াম রেট নেয়া হয়েছে ০.১৯%-১০%, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই প্রিমিয়াম রেট হবে ০.৩০%-১০%।

প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের সিইও মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আইডিআরএ’র কাছে অভিযোগ দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট বীমা পলিসিগুলো বাতিলের কথা জানিয়েছে ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স। এরপরও আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে এ নিয়ে সরেজমিন তদন্ত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। না হলে অতিরিক্ত কমিশনে ব্যবসা সংগ্রহ বন্ধ হবে না। অভিযোগের বিষয়ে ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের সিইও এএমএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে আইডিআরএ’র নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ও সার্ভিলেন্স কমিটির আহবায়ক খলিল আহমদ বলেন, আমরা এ ধরণের অবৈধ ব্যবসা করতে দেব না। খুব শিগগিরই আমরা অভিযোগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।