শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:১৪ পিএম, ২০২২-০৮-০৯
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে অন্তত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে পণ্য পরিবহনের ভাড়া। ডিজেলের দর সাড়ে ৪২ শতাংশ বাড়লেও ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ মালিক-চালকরা তাঁর চেয়ে বেশি ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে দাঁড় করাচ্ছেন খোঁড়া যুক্তি। তাঁরা বলছেন, বর্ধিত দরের সমান ভাড়া বাড়ালে তাঁদের সমন্বয় হয় না। কারণ জ্বালানি তেলের দর বাড়ার ফলে জীবনযাত্রার খরচও বাড়ে। সেই খরচ পণ্য পরিবহনের ভাড়া থেকেই তুলতে হয়।
গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে সরকার জ্বালানি তেলের দর পুনর্নির্ধারণ করে। প্রতি লিটার ডিজেলের দর করা হয় ১১৪ টাকা, আগে যা ছিল ৮০ টাকা। ৫০ শতাংশ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় যে পণ্য পরিবহনে আগে ১০ হাজার টাকা গুনতে হতো, এখন দিতে হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার বলেন, অতীতে যে হারে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, সেই হারে ট্রাক-কাভার্ডাভ্যানের ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। এবারও তাই করা হয়েছে। তবে বাস ভাড়ার মতো কোনো অফিস আদেশ জারি করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে কোনো মালিক ভাড়া কম নিতে চাইলেও নিতে পারেন। বেশি নিলেও সমিতির কিছু করার নেই। খবর সমকাল
তিনি আরও বলেন, যখন গাড়ি বেশি পণ্য কম, তখন ভাড়া কম নেন মালিকরা। পণ্য বেশি গাড়ি কম হলে ভাড়া বেশি নেওয়া হয়। বিষয়টি চাহিদা ও জোগানের তত্ত্বের মতো বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা আনঅফিসিয়ালি জ্বালানি তেলের দাম যে কয়েক শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিকদেরও একই হারে ভাড়া বাড়াতে বলেছি।
বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মো. মনির বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম একটি রিটার্ন ট্রিপে ডিজেল লাগে ১৫০ লিটার। ডিজেলের দর বাড়ার ফলে এক ট্রিপের ডিজেলের জন্য ৫ হাজার ১০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দর বাড়ার ফলে জীবনযাত্রার খরচও বেড়েছে। সেই খরচ ভাড়া থেকেই তুলতে হচ্ছে। তাই ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে আগে ট্রাক বা কাভার্ডভ্যানে এক ট্রিপের ভাড়া ছিল ১৪ থেকে ১৭ হাজার টাকা। এখন ডিজেলের জন্য ৫ হাজার ১০০ টাকা অতিরিক্ত গেলেও ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ৭ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, 'ডিজেলের দাম বাড়লে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা ভাড়া বাড়িয়ে জনগণের কাছ থেকে নিয়ে ওটা কাভার করি। ফলে তেলের দাম বাড়লে আমাদের কোনো ক্ষতি নেই।'
ট্রাকচালক সাগর বলেন, আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এক ট্রাক আম আনতে ৩০ হাজার টাকা লাগত। এখন সেটা ৪৫ হাজার টাকা হয়েছে। একই হিসাব সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে ফরিদপুর থেকে কারওয়ান বাজারে প্রতিবস্তা পেঁয়াজ আনতে পরিবহন খরচ পড়ত ৮০ থেকে ৯০ টাকা। এখন সেটা পড়ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি চাল বিক্রেতা নোয়াখালী রাইস এজেন্সির মালিক আবদুল কাদের বলেন, জ্বালানি তেলের দর বাড়ার পর দেখা গেছে, এক কেজি চালে ১২ টাকাও বেড়েছে। ধানের দর বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি চালের বাজারে অস্থিরতার কারণ।
পরিবহন মালিক-চালকরা জানান, ভাড়া নির্ধারণের সঙ্গে আরও কিছু বিষয় জড়িত। সেটা হলে কী ধরনের পণ্য, ওজনের পরিমাণ প্রভৃতিও মূল্যায়ন করা হয়। হালকা ওজনের পণ্য, তবে আকারে বড়- সে রকম হলে ভাড়া এক ধরনের। আবার লোহার মতো পণ্য হলে ভাড়া আরেক ধরনের। কারণ ওজন বেশি হলে গাড়ির ইঞ্জিনের আয়ুস্কাল কমে, জ্বালানিও লাগে বেশি। এ ধরনের হলে ভাড়া আরও বেশি হয়।
খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া থেকে নিয়মিত ট্রাকে সবজি এনে কারওয়ান বাজারে বিক্রি করেন হাবিব মিয়া। তিনি জানান, বড় ট্রাকে (৫ টনের ওপরে) করে সবজি ঢাকায় আনতে এতদিন ভাড়া বাবদ তাঁর খরচ হতো ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর ছোট ট্রাকে খরচ হতো ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এখন ১৮ থেকে ২০ হাজারের কমে বড় গাড়ি (ট্রাক) পাওয়া যায় না। ছোটগুলোর ভাড়াও গুনতে হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা।
কারওয়ান বাজারের পাকা সবজি মার্কেটের এক নম্বর আড়তের বিক্রয়কর্মী মনির হোসেন বলেন, মানিকগঞ্জ ও সাভার থেকে সাধারণত ছোট ট্রাকে সবজি আসে কারওয়ান বাজারে। তিন-চার দিন আগেও এসব ট্রাকের ভাড়া ছিল দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে। এখন তিন হাজারের কমে আসতে চায় না। এ জন্য সবজির দামও বেড়ে গেছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত