উত্তর জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে রেলওয়ের কর্মচারী

Passenger Voice    |    ০৩:০৮ পিএম, ২০২২-০৮-০২


উত্তর জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে রেলওয়ের কর্মচারী

সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মচারী। গত চার বছর ধরে তিনি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে কর্মরত।

এরপরেও তিনি কিভাবে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন এ নিয়ে প্রশ্ন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের।  

তারা বলছেন, দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। এরপরেও আমাদের কমিটিতে রাখা হয়নি। কমিটিতে রাখা হয়েছে বিবাহিত, চাকরিজীবী ও অছাত্রদের। যারা ছাত্রলীগ বানানটাও ঠিক মতো লিখতে জানে না। খবর বাংলা ‍নিউজ

জানা গেছে, রেলওয়ে শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত নেতা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ জোবায়ের ইসলাম গত ৪ বছর ধরে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দফতর সিআরবি ভবনের ২য় তলায় সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দফতরের অফিস সহকারী পদে কর্মরত রয়েছেন। রেলওয়েতে কর্মরত থেকে জোবায়ের ইসলাম ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। তাই তাকে এ পদ দেওয়া হয়েছে।  

রেলওয়ের চাকরির বিষয়টি অস্বীকার করে জোবায়ের বলেন, আমি একসময় অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করতাম। এখন করি না। আমি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএতে পড়ি। সেখানেও আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, জোবায়ের আর আমার ২০১৮ সালে একই সঙ্গে চাকরি হয়েছে। দীর্ঘ চার বছর আমরা একসঙ্গে রেলওয়েতে চাকরি করছি।  

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের  শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক নেয়ামত উল্লাহ তপন বলেন, কমিটি গঠন হওয়ার আগে এ রকম অনেক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। যাচাই বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। কমিটি গঠনের পরে যদি কারো বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকে আমরা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।  

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।  

সম্মেলনের সাড়ে চার বছর পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের ৩১৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এক বছর মেয়াদি এই কমিটি ঘোষণা করে।

তবে কমিটিতে মামলার আসামি, বিবাহিত, চাকরিজীবীসহ বিতর্কিত অনেকে ঠাঁই পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পদবঞ্চিতদের একটি অংশ সোমবার বিকেলে ফটিকছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।