শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:৫৪ পিএম, ২০২২-০৭-২৩
ঢাকাবাসী আগামী বছর ডিসেম্বরে দেশের প্রথম মেট্রোরেলে চড়বে—এ লক্ষ্য ধরে এগোচ্ছে সরকার। রাজধানীর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার অংশে প্রথমে চালু হবে মেট্রোরেল। এর প্রস্তুতি হিসেবে আগামী রোববার প্রথমবারের মতো মেট্রোরেল আগারগাঁও পর্যন্ত চালিয়ে দেখা হবে। এর আগে মিরপুর-১০ নম্বর পর্যন্ত মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচল সীমাবদ্ধ ছিল। পরীক্ষামূলক এই চলাচলে যাত্রী পরিবহন করা হবে না।
গত আগস্ট মাসে মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক (পারফরম্যান্স টেস্ট) চলাচল শুরু হয়েছে। এটি ছয় মাস চলবে। এরপর তিন মাস ধরে চলবে সমন্বিত পরীক্ষামূলক (ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট) চলাচল। পরের পাঁচ মাসে চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক চলাচল (ট্রায়াল রান) সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ আগামী বছরের ডিসেম্বরে যাত্রী নিয়ে চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকবে ট্রেন।
প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পারফরম্যান্স টেস্ট আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। শুরুতে উত্তরা থেকে তিনটি স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করে মেট্রোরেল। গত মাসে দ্বিতীয় ধাপে তা সম্প্রসারণ করে মিরপুর-১০ নম্বর পর্যন্ত ছয়টি স্টেশনে আসে। শেষ ধাপে রোববার আগারগাঁও পর্যন্ত পারফরম্যান্স টেস্ট শুরু হবে।
এসব কোচে ৪৮ জন করে যাত্রী বসতে পারবে। মাঝখানের চারটি কোচ হচ্ছে মোটরকার। এতে বসার ব্যবস্থা আছে ৫৪ জনের। সব মিলিয়ে একটি ট্রেনে বসে যেতে পারবে ৩০৬ জন। প্রতিটি কোচ সাড়ে ৯ ফুট চওড়া। মাঝখানের প্রশস্ত জায়গায় যাত্রীরা দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করবে। দাঁড়ানো যাত্রীদের ধরার জন্য ওপরে হাতল এবং স্থানে স্থানে খুঁটি আছে। সব মিলিয়ে একটি ট্রেনে বসে এবং দাঁড়িয়ে মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০৮ জন যাত্রী চড়তে পারবে।
ঢাকা ও এর আশপাশে মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। কোম্পানি সূত্র জানায়, মেট্রোরেলের পারফরম্যান্স টেস্টের অংশ হিসেবে প্রথম কোনো অংশে চলাচলের শুরুতে গতি থাকে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। অর্থাৎ মিরপুর-১০ থেকে আগারগাঁও অংশে ১৫ কিলোমিটারের কম গতিতে ট্রেন চলবে। অবশ্য ট্রেন উত্তরা থেকে মিরপুর-১০ পর্যন্ত অনেক আগে থেকেই পরীক্ষামূলক চলাচল করছে। ওই পথে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি তোলা হয়েছে। মেট্রোরেল পুরোপুরি বিদ্যুৎ–চালিত। সংকেত, যোগাযোগসহ ১৭ থেকে ১৮টি ব্যবস্থা ট্রেন চলার ক্ষেত্রে কাজ করে।
উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইনের দৈর্ঘ্য ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৮ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মিত হয়েছে। এই পথে ১৬টি স্টেশন থাকবে। ইতিমধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে ছয়টি স্টেশনের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। বাকি স্টেশনগুলোর কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে আছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত রেললাইন ও বিদ্যুৎ–ব্যবস্থাও সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের অগ্রগতিসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুসারে, গত নভেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের কাজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭২ শতাংশ। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পূর্তের কাজের অগ্রগতি ৮৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশের অগ্রগতি ৭০ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
দুই প্রান্তের দুটি কোচে দুটি করে চারটি হুইলচেয়ার বসানোর ব্যবস্থা আছে। প্রতিটি ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। তবে ট্রেন কোন স্থানে কত গতিতে চলবে, সেটা ঠিক করবে কর্তৃপক্ষ।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন সিদ্দিক বলেন, আগামী বছরের ডিসেম্বরে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলে যাত্রী চলাচল করবে—এই লক্ষ্য ধরেই কাজ এগোচ্ছে। রোববার আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল নিয়ে আসার লক্ষ্যে গত দুদিন বৃষ্টির মধ্যেও কাজ চলেছে। তিনি আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতি বর্তমানের মতো থাকলে কাজে কোনো ব্যাঘাত হবে না। আগামী ডিসেম্বরেই মেট্রোরেলে যাত্রী চড়তে পারবে।
মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। অর্থায়ন করছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকা। প্রকল্পের অধীনে জাপান থেকে ২৪ সেট ট্রেন (প্রতি সেটে ৬টি কোচ) কেনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সাত সেট ট্রেন উত্তরা ডিপোতে মজুত আছে। এক সেট ট্রেন মোংলা বন্দর থেকে ডিপোর উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আরও দুই সেট ট্রেন জাপান থেকে বাংলাদেশের পথে আছে। বাকি ট্রেনের নির্মাণকাজও চলমান।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত