যাত্রীদের ভরসা ‘বনলতা’, তাও টিকিট মিলছে না

Passenger Voice    |    ০৩:১৫ পিএম, ২০২২-০৭-১৭


যাত্রীদের ভরসা ‘বনলতা’, তাও টিকিট মিলছে না

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত শুধুমাত্র বনলতা ট্রেন চলাচল করছে। এ ট্রেনে চাহিদার তুলনায় কম টিকিট বরাদ্দ থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে জেলাবাসীর। 

ঢাকার যাত্রীরা বলছেন, অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটা যাচ্ছেনা। যারা অনলাইনে খুব সিদ্ধহস্ত, তারাই ট্রেনের টিকিট কাটতে পারছে। আর দীর্ঘ লাইন হওয়ায় টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনাও তেমন থাকেনা।

করোনাকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশন থেকে মোট ৫টি ট্রেন বন্ধ হলেও মাত্র একটি ট্রেন চালু হয়েছে। বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো ফের চালু হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করেন জেলার সচেতন নাগরিকরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত বনলতা ট্রেন চলাচল করে নিয়মিত। ট্রেনটিতে এ জেলার জন্য মোট ১৯৬ টা টিকিট বরাদ্দ রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকার যাত্রীরা স্টেশন থেকে ৯৮টা আর অনলাইন থেকে বাকি ৯৮টা টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

উসমান, পেশায় তিনি ব্যংকার। ট্রেনের টিকের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন লাইনে। কিন্তু ঘণ্টা তিনেক দাঁড়িয়ে টিকিট না পেয়ে তিনি হতাশ। উসমান বলেন, অনলাইনে ট্রেনের টিকিটি কাটা যাচ্ছেনা। অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করেছি, কোন লাভ হয়নি। পরে রেল স্টেশনে এসে দেখি লম্বা লাইন। কিন্তু প্রায় ৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পরেও টিকিট পেলাম না। চাহিদা থাকা পরেও রেল কতৃপক্ষ টিকিটের পরিমাণ বাড়াচ্ছেন না।

সেরাজুল ইসলাম নামের আরেক যাত্রী বলেন, অনলাইনে অনেক দিন টিকিট কাটার চেষ্টা করেছি, পারিনি। যারা অনলাইনের মাইর প্যাঁচ বোঝে, তারা ফের টিকিট কাটতে পারছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ট্রেনে করে ঢাকা যাওয়া এখন স্বপ্ন। এ স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিতে গেলে, সন্ধ্যা থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। টিকিট তো কম, লাইনে দাঁড়ালে টিকিট পাওয়া যাবে কিনা তাও সন্দেহ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার পথে শুধুমাত্র বনলতা ট্রেন চলায় টিকিটের সঙ্কট হয়েছে। করোনাকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে মোট ৫টি ট্রেন বন্ধ করা হয়। ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জ মেইল চালু হলেও স্যাটল-২, স্যাটল-৪, রাজশাহী লোকাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রহনপুর লোকাল মোট ৪টি ট্র্রেন বন্ধ রয়েছে। এ ট্রেনগুলো চালুর দাবি জেলাবাসীর।বন্ধ ট্রেনগুলো চালু করার জন্য একাধিক কর্মসূচিও পালন করেছে জেলার সর্বস্তরের জনগণ। কিন্তু দাবিগুলো অধরাই রয়ে গেছে।

সাইফুল নামের এক শিক্ষক বলেন, সড়ক পথে যাতায়াতের চেয়ে রেলপথে চলাফেরা করতে ভালোলাগে। কিন্তু আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে একাধিক ট্রেন বিভিন্ন রুটে চলাচল করতো। তেমন ভোগান্তি হতো না। কিন্তু এখন ট্রেন কম, যেগুলো যাতায়াত করে সবগুলো সকালে। বেলা ১১টার পর আর কোন ট্রেন নাই, সব বন্ধ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘এ জেলার রেল ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। জেলায় আধুনিক রেলস্টেশন, বাইপাস লাইন নির্মাণ করেছেন। অথচ করোনার সময়ে বন্ধ করা ট্রেনগুলো আর চালু করা হয়নি, এটা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, আশপাশের সব জেলার মানুষ ৪-৫টি আন্তঃনগরসহ বিভিন্ন ট্রেনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছেন। কিন্তু ট্রেনগুলো বন্ধ থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রীরা রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ট্রেনগুলো চালু হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলের স্টেশন মাষ্টার ওবাইদুল্লাহ বলেন, ঢাকা যাওয়ার জন্য এ জেলার জন্য মোট ১৯৬ টা টিকিট বরাদ্দ রয়েছে।তারমধ্য থেকে ৯৮টা স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে, আব বাকিগুলো অনলাইন থেকে সংগ্রহ করতে হবে। টিকিট কমবেশি করার এখতিয়ার আমরা রাখিনা। আমাদেরকে ‍উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেগুলো আমরা ফলো করি।

বন্ধ হওয়া ট্রেনগুলো চালুর বিষয়ে ওবাইদুল্লাহ বলেন, আপডাউনসহ মোট ৪ জোড়া ট্রেন বন্ধ আছে।এ ট্রেনগুলো কবে নাগাদ চালু হবে আমাদেরকে কিছুই জানায়নি। এ ট্রেনগুলো চালু হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাবাসীর জন্য অনেক উপকার হবে।

রাজশাহী রেলওয়ের (পশ্চিমাঞ্চল) প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, রেলের লোকবল সঙ্কট থাকায় বন্ধ হওয়া ট্রেনগুলো চালু হচ্ছে না। শিগগির যথাযথ নিয়ম মেনে লোকবল নিয়োগ দিয়ে বন্ধ হওয়া ট্রেনগুলো চালু করা হবে।