রেলে হিসাব বিভাগের অধীনস্থতা নিয়ে দ্বন্দ্ব

Passenger Voice    |    ১১:২১ এএম, ২০২২-০৭-১৬


রেলে হিসাব বিভাগের অধীনস্থতা নিয়ে দ্বন্দ্ব

সিভিল, মিলিটারি ও রেলওয়ে এ তিনটি পৃথক অ্যাকাউন্টস ক্যাডার একীভূত করে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (নিরীক্ষা ও হিসাব) ক্যাডার গঠন করা হয়। কিন্তু নিয়ম ভেঙে হিসাব বিভাগকে নিজ সংস্থার অধীনস্থ রাখতে চাইছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আপত্তি সত্ত্বেও হিসাব বিভাগকে মহাপরিচালকের অধীনস্থ রাখতে একাধিক চিঠিও দিয়েছে সংস্থাটি। রেলওয়ের একাধিক তথ্য ও নথিতে এ নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি উঠে এসেছে।

গত ১৬ মার্চ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (পার্সোনাল) সাদরুল হক রেলের উভয় অঞ্চলের (পূর্ব-চট্টগ্রাম ও পশ্চিম-রাজশাহী) অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তাকে (এফএঅ্যান্ডসিএও) চিঠি দেন। নতুন জনবল নিয়োগের জিওতে নবম থেকে দ্বিতীয় গ্রেডের পদে প্রেষণে নিয়োগ প্রদান হলেও চিঠিতে দশম থেকে ২০তম গ্রেডের নবনিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিসহ সব সংস্থাপনিক কর্মকাণ্ড রেলওয়ে মহাপরিচালকের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং মহাপরিচালকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে নির্দেশ দেয়া হয়।

যদিও মহাপরিচালকের অধীনস্থতা ও নির্দেশনা প্রতিপালনের বিষয়টি নিয়ে বিব্রত বোধ করছে হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ৬ জুলাই রেলওয়ের মহাপরিচালকে এ-সংক্রান্ত একটি পাল্টা চিঠি দেয়া হয়। রেলওয়ের পরিচালকের (অর্থ) দেয়া ওই চিঠিতে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের পুনর্গঠিত সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, ফাইন্যান্স লাইন অব বিজনেস হিসেবে এডিজিসহ (অর্থ) বাংলাদেশ রেলওয়েতে কর্মরত অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারের সব কর্মকর্তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, বদলি, পদায়ন ও এসিআর লিখন রেলওয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সুযোগ নেই।

মূলত রেলওয়ে অ্যাকাউন্টস কোড অনুযায়ী, নিরপেক্ষভাবে প্রি-অডিট এবং আর্থিক পরামর্শ প্রদানের দায়িত্ব পালনের স্বার্থে সরকারি অর্থ ব্যয় ও হিসাব ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে ব্রিটিশ আমল থেকে রেলওয়ে প্রশাসন থেকে অর্থ ও হিসাব বিভাগকে পৃথক রেখে স্বকীয়তা ও স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মহাপরিচালক কার্যালয়ের চিঠিটি অর্থ ও হিসাব বিভাগে অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। দপ্তরাদেশটি প্রচলিত বিধিবিধান ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ কারণে রেলওয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিব্রত। অর্থ ও হিসাব বিভাগের কর্মরত জনবলের সংস্থাপনিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচ্য কোনো মতামত প্রদান করা যাবে না, এ ধরনের মন্তব্যও কাম্য নয় বলে দাবি করে অর্থ বিভাগ।

রেলওয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগ কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে হিসাব বিভাগ মূলত কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) অধীনস্থ। সিএজির অধীনে রয়েছে কম্পট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স (সিজিডিএফ), হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিজিএ) এবং রেলওয়ে অডিট অ্যান্ড হিসাব বিভাগের (এফএঅ্যান্ডসিএও) বিভাগ। সিজিডিএফ শুধু সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর হিসাব নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে রেলওয়ে শুধু রেলওয়ের হিসাব দেখবে। আর সিজিএ সারা বাংলাদেশের সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের হিসাব দেখবে।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে রেলপথ সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির, রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারকে পাওয়া যায়নি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন ও ভূমি) মো. ফারুকুজ্জামান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশ না করে রেলওয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহার, আয়-ব্যয়ের হিসাব ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান করতে পারে না। আইনের মাধ্যমে হিসাব বিভাগকে বিভিন্ন দপ্তর থেকে আলাদা করা হয়েছে। সিএজির অধীনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সব অডিট, হিসাব পরিচালিত হয়। প্রেষণে কিংবা সশরীরে সিএজির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করছে। সাংগঠনিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করে বেতনভাতাসহ বিভাগ অনুুযায়ী প্রাপ্য সব সুবিধা গ্রহণ করলেও প্রশাসনিক কাঠামোতে সিএজির অধীনস্থ হিসাব বিভাগের কর্মীরা। একমাত্র রেলওয়েই সাম্প্রতিক সময়ে হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের অধীনস্থ হিসেবে দাবি করছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সূত্র: বণিক বার্তা

 

প্যা.ভ/ত