জোড়া সেতুতে দুঃখ লাঘব গোপালগঞ্জের তিন ইউনিয়নের

Passenger Voice    |    ০৫:১৯ পিএম, ২০২২-০৭-১৫


জোড়া সেতুতে দুঃখ লাঘব গোপালগঞ্জের তিন ইউনিয়নের

জলাভূমিবেষ্টিত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার গোপালপুর, ডুমরিয়া ও পিঞ্জুরী ইউনিয়ন। তিন ইউনিয়নের সীমান্তের তিনটি গ্রাম সোনাখালী, পূর্ব সোনাখালী ও তারইল। কাছাকাছি হলেও সেতু না থাকায় উপজেলার সঙ্গে অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে মানুষের। তবে সদ্যনির্মিত জোড়া সেতুতে ভাগ্য বদলে গেছে ওই তিন গ্রামের বাসিন্দার। সহজে যাতায়াতের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, উপজেলা, জেলা সদর ও ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল ওই তিন গ্রাম। সেখানে প্রচুর সবজি ও মাছ উৎপাদন হলেও তা নিয়ে বিপাকে পড়তেন কৃষকরা। গরু মোটাতাজা করলেও তা নিয়ে উদ্বেগে থাকতেন খামারিরা। কম দামে সবজি, মাছ ও গরু বিক্রি করতে বাধ্য হতেন গ্রামবাসী। তাদের দুঃখ লাঘবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সোনাখালী খালের ওপর জোড়া সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।


এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হক জানান, সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৫ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু পূর্ব সোনাখালী গ্রামের সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে। আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২ মিটার দীর্ঘ আরেকটি সেতু যুক্ত হয়েছে তারইল সড়কের সঙ্গে। এতে ওই এলাকার ৩০ হাজার মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়েছে।

তারইল গ্রামের বাসিন্দা গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, আগে এখানে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল নৌকা। শুস্ক মৌসুমে হেঁটে চলাচল করতে হতো। অনেকে সাঁকো পার হতে গিয়ে খালে পড়ে যেতেন। রোগী ও স্বজনরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। জোড়া সেতু হওয়ায় এখন ৩০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ায় যাওয়া যায়।

সোনাখালী গ্রামের শরৎ চন্দ্র তালুকদার বলেন, সেতু হওয়ায় তিন গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা বদলে গেছে। উৎপাদিত সবজি, মাছ ও গরু বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। ইজিবাইকচালক ফেরদৌস তালুকদার বলেন, সেতু হওয়ায় এখন দিনে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়।