নোয়াখালীতে বিআরটিসি বাস উদ্বোধনের একদিন পরই বন্ধ

Passenger Voice    |    ১১:২৩ এএম, ২০২২-০৭-০১


নোয়াখালীতে বিআরটিসি বাস উদ্বোধনের একদিন পরই বন্ধ

নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত বিআরটিসির বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র এক দিন পরই গতকাল বুধবার এটি বন্ধ হয়ে যায়। ব্যক্তি মালিকানাধীন সোনাপুর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির বাধার মুখে বন্ধ হয়ে যায় এ সেবা।

সোনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলিমিটার সড়কে কোনো ভালো মানের বাস সেবা নেই। বিশাল এ জনপদের মানুষ জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য নির্ভর হতে হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা মালিকানাধীন বাসের উপর। এতে নানা দুর্ভোগে পড়তে হয় এ পথে যাতায়াত কারীদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েও বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে বিবাধেও লিপ্ত হতে হয় যাত্রীদের। বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে যাত্রীদেরকে মারধর করারও বেশ নজির রয়েছে এ সড়কে। এসব বিষয় বিবেচনা নিয় বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ চারটি বাস সার্ভিস শুরু করে। যার ভাড়া সোনাপুর থেকে ঘাট পর্যন্ত ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর ব্যক্তি মালিকানাধীন বাস নিচ্ছে ৬০ টাকা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে নিচ্ছে ১২০ টাকা করে। 

স্থানীয়রা জানান, উদ্বোধনের পর দিন সোনাপুর-চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত দুটি বাস চালু করা হয়। বাস দুটির মধ্যে একটি সোনাপুর বিআরটিসি ডিপো থেকে বের হয়ে সোনাপুর জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত গেলেই সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও বাস মিনিবাস মালিক সমিতির শ্রমিকদের তোপের মুখে পড়ে। কোনোভাবে সোনাপুর থেকে চরজব্বার পর্যন্ত গেলে সেখানে শ্রমিকরা বাধায় দেয়, বাধা ঠেলে একবার গেলেও ওই দিনই বাধ্য হয়ে বাস সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বিআরটিসি সোনাপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার মো. রাজু মোল্লা বলেন, সোনাপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির লোকজনের বাধার মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন এ সার্ভিস বন্ধ করতে বাধ্য হন তারা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃক্ষকে জানানো হয়েছে।

বাধার দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সোনাপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. সামছুল হক সোহেল বলেন, এ রুটে বর্তমানে ২০-২৫টি বাস চালু রয়েছে। পর্যাপ্ত বাস চালু থাকা স্বতেও আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে বিআরটিসি বাস চালু করায় লোকসানের মুখে পড়তে হবে। শুধু বাস মালিকরাই নয়, এখানে সিএনজি ও বাসের দুই হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। তাই শ্রমিকরা বিআরটিসির বাস সার্ভিসে বাধা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান জানান, বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বসে সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি সার্ভিসে যারা বাধা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।