শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:২০ এএম, ২০২২-০৭-০১
নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পদ্মা সেতুর খরচের টাকা উঠে আসবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৫ বছরের মধ্যে খরচের টাকা উঠে আসার কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন এর আগেই এ সেতুর নির্মাণ ব্যয় উঠে আসবে। বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদ নেতা বলেন, এ সেতুর ফলে যোগাযোগ আরো বিস্তৃত হবে। কাজেই ১৮-২০ বছরের মধ্যে আমাদের টাকা উঠে আসবে।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, ৩৫ বছরে পদ্মা সেতু নির্মাণের খরচের টাকা উঠে আসার কথা। ২০৫৭ সালের মধ্যে এ টাকা পরিশোধ হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী টোল আদায়ের মাধ্যমে ২৫-২৬ বছরে খরচ উঠে আসার পূর্বাভাস ছিল। নিজস্ব অর্থায়নের এ খরচের টাকা সেতু কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে। ১ শতাংশ সুদসহ ২৫ বছরে সরকারকে ফেরত দেবে। সেই চুক্তি করে সেতু কর্তৃপক্ষ ঋণ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সেতু হয়েছে আমাদের নিজেদের টাকায়। বাংলাদেশের টাকায়। আমি মনে করি অনেক আগেই আমরা এ সেতুর টাকা তুলে ফেলতে পারব।
তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা যেভাবে উন্নতি হয়েছে, তাতে এ সেতু আমাদের জন্য অনেক লাভজনক হবে। আমাদের অনেক বেশি উন্নতি হবে বলে বিশ্বাস করি। পদ্মা সেতুর সফল সমাপ্তিতে আমাদের বেশকিছু প্রাপ্তি যুক্ত হবে। এ সেতু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমাদের মর্যাদা বাড়াবে। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনে স্বকীয়তা বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করবে।
প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর ব্যয় বৃদ্ধির কারণও তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। সড়ক সেতুর সঙ্গে রেলপথ যুক্ত, নদী শাসনের পরিমাণ বৃদ্ধি, অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য ও পরিমাণ বৃদ্ধি, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, পাইলিংয়ের গভীরতা বৃদ্ধিসহ যেসব কারণে ব্যয় বেড়েছে তার বিস্তারিত তথ্য সমাপনী বক্তব্যে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। সমসাময়িক সময়ে নির্মিত সব সেতুর তুলনায় এ সেতুর ব্যয় অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। যৌক্তিকতার বাইরে কোনো কাজ বা ব্যয় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ ছিল না। এ ব্যয় যেকোনো বিচারে অত্যন্ত কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগই ছিল না।
বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলসহ দেশের যেসব অঞ্চল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শুকনো খাবার, ওষুধ ও তাঁবু পাঠানোর ব্যবস্থা সরকার নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ এসেছে। বিশেষ করে যেসব পণ্য আমাদের আমদানি করতে হয়, সেগুলোয় চাপ আসে। দ্রব্যমূল্য সহনশীল রাখার জন্য ভোক্তা অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সংস্থা দিয়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা জোরদার করেছি।
বাজেট অধিবেশন প্রাণবন্ত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা কথা বলার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন। তাদের ইচ্ছামতো তারা কথা বলতে পেরেছেন। আর আমাদের যারা অফিশিয়াল বিরোধী দল (জাতীয় পার্টি) তারাও আলোচনা করেছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত