শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:৫৫ পিএম, ২০২০-০৩-১৬
নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা পুলিশের আপত্তির পরও ফ্লাইওভারের নিচে ফাঁকা জায়গায় যানবাহনের পে-পার্কিং কার্যক্রম চালুর পথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ইতিমধ্যে পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের কার্যক্রম চালুর ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে দাবি করছে তারা। তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, নগরীর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের ওয়াসা মোড়, জিইসিসহ বিভিন্ন জায়গায় সাদা কালি দিয়ে পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ করার পর সেখানে যানবাহন পার্কিং করার সুযোগ নিচ্ছে। এজন্য গাড়ি প্রতি একটা ফি তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। পুলিশ বলছে, এই কার্যক্রমের ফলে লালখান বাজার থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে উভয় পাশের সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফ্লাইওভারের নিচে উভয় পাশের সড়ক সবসময় ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি সড়কটিতে দ্রুত গতিতে যানবাহন চলাচল করে থাকে।
নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া আজাদীকে বলেন, ফ্লাইওভারের নিচে চসিকের পে-পার্কিং কার্যক্রম চালু হলে এটার ফল ভালো হবে না। ইচ্ছেমতো পার্কিং সুবিধা থাকায় পার্কিং নিয়ে বড় ধরনের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। এতে সমস্যা আরো বেড়ে যাবে।
তিনি বলেন, সাধারণত পার্কিং প্লেস থাকতে হয় রাস্তার বাইরে। এটার জন্য আবার একটি পরিকল্পিত ডিজাইন থাকতে হয়। ফ্লাইওভারের নিচের মাঝ অংশে পার্কিং প্লেস করা হলে সেখানে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটবে। বিশেষ করে পার্কিংয়ে গাড়িগুলো যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেবে। এতে দুর্ঘটনারও আশঙ্কা রয়েছে।
চসিকের প্রধান নির্বাহী মো. সামসুদ্দোহা আজাদীকে বলেন, সিএমপি দাবি করছে, পে-পার্কিং কার্যক্রম চালু হলে যানবাহনগুলো এলোমেলোভাবে পার্কিং করার ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। আমরা তাদের দাবির সাথে একমত হতে পারছি না।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন মনে করছে পে-পার্কিং কার্যক্রমের মাধ্যমে যানবাহনগুলো আরো শৃঙ্খলার আওতায় আসবে। বর্তমানে যে যার মতো করে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় এলোমেলোভাবে গাড়ি পার্কিং করছে। পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম নেই। কোনো কোনো গাড়ির মালিক সারা দিন ধরে সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং করে রাখছে। এতে যানজটসহ নানা বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। পার্কিংয়ের জন্য গাড়ির মালিকদের যদি ঘণ্টা হিসেবে একটা টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া যায়, সেক্ষেত্রে সড়কে বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কেটে যাবে।
প্রধান নির্বাহী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের দেওয়া নির্ধারিত জায়গায় গাড়িগুলো পার্কিং সুবিধা থাকায় সেখানে সুশৃঙ্খলভাবে পার্কিং করার পাশাপাশি পে সিস্টেমের ফলে এক ঘণ্টার বেশি পার্কিং করতে মালিকরা চিন্তা-ভাবনা করবেন। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সড়কে পার্কিং করে রাখার মানসিকতা থেকে তারা সরে আসবেন।
তিনি বলেন, পে-পার্কিং কার্যক্রম শুধু ফ্লাইওভারের নিচে না, সারা শহরেই চালু করা উচিত। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় পে-পার্কিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। বর্তমানে পার্কিংয়ের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না বলেই বিভিন্ন যানবাহন যত্রতত্র পার্কিংয়ের মাধ্যমে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।
তিনি জানান, বর্তমানে সিটি নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমটি শুরু করা যাচ্ছে না। নির্বাচনের পর চালু করা হবে। আমরা সারা শহরে এই কার্যক্রমটি চালু করার চিন্তা-ভাবনা করছি। এটা নিয়ে সিএমপির সাথে শীঘ্রই বৈঠক হবে।
এদিকে শুরু থেকে পে-পার্কিংয়ের বিরোধিতা করে আসছে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এটা নিয়ে গত মাসে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম মোস্তাক আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক পত্রে চসিককে সড়কে পে-পার্কিং কার্যক্রম থেকে সরে আসার অনুরোধ জানানো হয়।
এস এম মোস্তাক আহমেদ খান জানান, আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে ওয়াসা মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় পে-পার্কিং চালু হলে কিছু প্রতিষ্ঠান স্থায়ী পার্কিং হিসেবে সেখানে নিজেদের গাড়িগুলো রাখার সুযোগ নেবে। ওইসব এলাকায় কিছু সরু রাস্তা থাকায় সেটা দিয়ে যানবাহনগুলো স্বাভাবিক চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাবে না। এছাড়া অনেক যানবাহন পার্কিংয়ের জায়গা না পেয়ে ওইসব জায়গায় এলোমেলোভাবে পার্কিং করবে। এসবের ফলে অতিরিক্ত যানজট ও জনভোগান্তি তৈরি হবে। পাশাপাশি ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের চলাচলে বিঘ্ন হবে, নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হবে।
সিএমপি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নগরীতে সামান্য বৃষ্টিতে সড়ক পানিতে ডুবে যায়। ওইসময় গাড়ি চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। রাস্তায় পে-পার্কিং করা হলে বর্ষায় যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করবে। নগরীতে প্রায় আড়াই লাখ যানবাহন চলাচল করছে। এ সকল যানবাহন চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা নেই। এজন্য নগরীর মূল সড়ক, বাণিজ্যিক ও আবাসিক এবং বন্দর এলাকায় প্রায়শই যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকে। বর্তমানে সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নগরীর বিভিন্ন স্থানে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। এতে রাস্তাগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।
সিএমপির চিঠিতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট নিরসনে রাস্তায় পে-পার্কিং অনুমোদন না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন অতিরিক্ত কমিশনার মোস্তাক আহমেদ।
সূত্র: আজাদী।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত