ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড

Passenger Voice    |    ০১:০৮ পিএম, ২০২০-০৩-১৬


ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড

নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। অভিযোগ রয়েছে, যানজট নিরসনের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পরিদর্শক ও তার স্ত্রীর নিজেরই নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ রুটে রয়েছে দশটি অটোরিকশা। এ ছাড়া তাদের মাধ্যমে এ রুটে নেমেছে আরও বিশটি গাড়ি, যেগুলোর আয়ের একটি অংশ তারা মাসোয়ারা হিসেবে পেয়ে থাকেন। এমন আরও ত্রিশটি অটোরিকশা রয়েছে, যেগুলো থেকে আরেক ট্রাফিক কনস্টেবল মাসোয়ারা পান। আর যাদের সঙ্গে মাসোয়ারার ব্যবস্থা নেই তাদের কাছ থেকে দিনে একশ' টাকা হারে চাঁদার বিনিময়ে চাষাঢ়া থেকে অটোরিকশা চলাচল করতে দেয় ট্রাফিক পুলিশ। ফলে নিজেদের সুবিধার জন্যই এই পুলিশ সদস্যরা চাষাঢ়া মোড়ে অবৈধভাবে অটোরিকশা স্ট্যান্ড তৈরি করে নিয়েছেন। জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হলেও উচ্ছেদ হচ্ছে না এই অবৈধ স্ট্যান্ড।

বর্তমানে নগরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ার যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা ট্রাফিক পরিদর্শক মো. কামরুল। কয়েকজন অটোরিকশাচালক বলেন, ট্রাফিক পরিদর্শক কামরুল মুন্সীগঞ্জ থাকতেই তার ও তার স্ত্রীর দশটি অটোরিকশা নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ রুটে চলাচল করত। আগে এগুলো মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের মণ্ডলপাড়া পর্যন্ত চলাচল করত। কিন্তু তিনি নারায়ণগঞ্জে যোগ দেওয়ার পর যাত্রী বেশি পাওয়ার জন্য এ অটোরিকশা স্ট্যান্ড চাষাঢ়া মোড়ে নিয়ে আসেন। চাষাঢ়ার অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে যানজট লেগে থাকছে। অন্যদিকে মণ্ডলপাড়ায় সিটি করপোরেশন থেকে বৈধভাবে ইজারা নেওয়া স্ট্যান্ডের অটোরিকশা চালকরা যাত্রী পাচ্ছেন না।

অটোরিকশা মালিকরা আরও জানান, এ দশটি অটোরিকশা ট্রাফিক পরিদর্শকের নিজের কেনা। তার কেনা গাড়িগুলো আবিদ-যূথী পরিবহন হিসেবে নামকরণ করা। এর বাইরে তার বিভিন্ন আত্মীয়, সহকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের আরও বিশটি অটোরিকশা ট্রাফিক পরিদর্শক কামরুলের মাধ্যমে এ রুটে নেমেছে, যেগুলো তার ভাতিজার মাধ্যমে তিনি পরিচালনা করেন। এগুলোর একটি লভ্যাংশও তিনি পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া একটি লেগুনা নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ রুটে চলাচল করে, যেটির নম্বর ও রুট পারমিট গাজীপুরের।

একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে ট্রাফিক কনস্টেবল লুৎফরের বিরুদ্ধেও। তিনিও চাষাঢ়া থেকে ত্রিশটি অটোরিকশা পরিচালনা করেন। এগুলো তার নিজের নয়। তবে তার আত্মীয়, সহকর্মী ও নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার মালিকানাধীন। এগুলো পরিচালনার বিনিময়ে একটি লভ্যাংশ তিনি পেয়ে থাকেন। এসব অটোরিকশা পরিচালনার সুবিধার্থে তিনি বেশির ভাগ সময় চাষাঢ়া মোড়ে ডিউটি নেওয়ার চেষ্টায় থাকেন। তার পরিচালিত অটোরিকশাগুলোর বাইশটি নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ রুটে ও আটটি নারায়ণগঞ্জ থেকে চিটাগাং রুটে চলাচল করে বলে নাম অনেক অটোরিকশা মালিক জানান।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান এ ব্যাপারে বলেন, চাষাঢ়ায় সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্টে এমন একটা অবৈধ স্ট্যান্ড একদিকে যানজট তৈরি করছে, অন্যদিকে ব্যাংকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। চাষাঢ়া মোড়ের সুগন্ধা বেকারির সামনেও অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে যানজট লেগে থাকছে।

ট্রাফিক পরিদর্শক কামরুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বা আমার স্ত্রীর কোনো অটোরিকশা নেই। তবে আমার এক অসুস্থ আত্মীয়ের তিন-চারটি অটোরিকশা রয়েছে। সেগুলো আমি মাঝেমধ্যে দেখাশোনা করি। সেখান থেকে বা কোনো যানবাহন থেকে আমি মাসোয়ারা নিই না। অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশ কনস্টেবল লুৎফর রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের এএসপি (ট্রাফিক) সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা চাকরিতে থাকাকালীন কোনো পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হতে পারেন না। অভিযুক্তদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাষাঢ়ায় যাতে অটোরিকশা স্ট্যান্ড না থাকে, সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।