২ বছরেও সংস্কার হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত বুড়িগঙ্গা সেতু

Passenger Voice    |    ০২:১৫ পিএম, ২০২২-০৬-১৭


২ বছরেও সংস্কার হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত বুড়িগঙ্গা সেতু

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সব কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ২৫ জুন বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন করা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতার ফসল পদ্মা সেতু। ২৬ জুন থেকে যানবাহন চলাচল করবে ওই সেতু দিয়ে। সারা দেশ তথা বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে রয়েছে ওই দিনটির দিকে।

অথচ পদ্মা সেতুর সড়কের ওপর ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’ (১ম) বা পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গা সেতুর নিচের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘ দুই বছর ধরে সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটির ওপর বাঁশ ও লোহারপাত দিয়ে ব্যারিকেড ও ঘর বানিয়ে রেখেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। ফলে সেতুর এক লেনে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচল শুরু হলে ক্ষতিগ্রস্ত বুড়িগঙ্গা সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যাবে। এতে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সাধারণ মানুষ ধারণা করছেন।

২০২০ সালের ২৯ জুন সকালে মুন্সীগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা এমভি মর্নিং বার্ড নামের একটি লঞ্চ শ্যামপুর পৌঁছায়। এ সময় চাঁদপুরগামী এমভি ময়ুর-২ একটি লঞ্চ পেছনের দিকে বাঁক নিতে গিয়ে এমভি মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চটিকে ধাক্কা দিলে লঞ্চটি ডুবে যায়। এ সময় লঞ্চটিতে প্রায় ৬০ যাত্রী ছিল। ডুবুরিরা ৩৪ লাশ উদ্ধার করেন। ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চ উদ্ধার করতে এসে উদ্ধারকারী লঞ্চটির ধাক্কায় পোস্তগোলায় অবস্থিত বুড়িগঙ্গা সেতুর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সেতুর ওপর দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল নিষেধ করে মুন্সীগঞ্জ জেলার সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। 

পরে বুয়েটসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজন এসে সেতুটি পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে সেতুর ওপর ক্ষত জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় এবং ভারি যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি নেই বলে জানানো হয়। 

সরেজমিন দেখা যায়, বুড়িগঙ্গা সেতুটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামতের জন্য দীর্ঘ দুই বছর আগে সেতুর ওপর বাঁশ দিয়ে  ব্যারিকেড ও লোহার পাত দিয়ে ঘর বানিয়ে সড়কের এক লেন বন্ধ করে রাখা হয় এবং সেতুর দুই পাশে দুটি সিঁড়ি বানানো হয়। অথচ দুই বছর পার হলেও সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি এখনো মেরামত বা সংস্কার করা হয়নি। 

সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। পোস্তগোলা ব্রিজের ওপর মেনুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায়ের কারণে এখনই যানজট লেগে থাকে। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যাবে। ফলে যানজট তীব্র আকারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  এ ছাড়া সেতুর ওপর একপাশের বাতিগুলো জ্বললেও অন্যপাশের বাতি জ্বলতে দেখা যায় না।

এদিকে লরিচালক আবুল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে এই সেতু দিয়ে ভারি যানবাহন চালিয়ে যাওয়া অনেকটা অনিরাপদ ও ঝুঁকি মনে করছি। ফলে লরি নিয়ে বাবুবাজার ব্রিজ দিয়ে চলাচল করি।  

পোস্তগোলা ব্রিজের ওপর টোল আদায়কারী একজন জানান, সেতুর দুর্ঘটনার পর থেকে এদিক দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল কমে গেছে।

ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, আর কয়েক দিন পরই পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতুটি উদ্বোধন হলে ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাবে। বুড়িগঙ্গা সেতুটির ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি মেরামত করা অতীব জরুরি।

ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুল ইসলাম মনু বলেন, আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সারাবিশ্বকে তাক লাগিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করেছেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হলে বুড়িগঙ্গা সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল বেড়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত বুড়িগঙ্গা সেতুটি মেরামত করা খুবই জরুরি। তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে সায়েদাবাদ বাসটার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়, দোলাইরপাড় মোড়সহ এ সড়কে যানবাহন চলাচল বেড়ে যাবে। যানজটমুক্ত রাখতে সড়কের পাশের ফুটপাতে দোকানপাট যেন বসতে না পারে সে জন্য সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া জরুরি।

মুন্সীগঞ্জ জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবুল কাশেম মোহাম্মদ নাহিন রেজা বলেন, সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কাজ শেষ করেই ব্যারিকেড খুলে দেওয়া হবে। কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। তবে পদ্মা সেতু চালু হলে এ সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ বেড়ে যাবে। সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা ঠিক হবে না।

 

সূত্র: যুগান্তর