দেশবাসীর সাড়া না পেলে পদ্মা সেতু করতে পারতাম না: প্রধানমন্ত্রী

Passenger Voice    |    ১১:৩৫ এএম, ২০২২-০৬-১৭


দেশবাসীর সাড়া না পেলে পদ্মা সেতু করতে পারতাম না: প্রধানমন্ত্রী

দেশবাসীর সাড়া না পেলে পদ্মা সেতু করা সম্ভব হতো না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার ঘোষণা দেয়, তখন দেশবাসী সে সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে এগিয়ে এসেছিল।

বৃহস্পতিবার সকালে পল্লী জনপদ, রংপুর এবং বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বাপার্ড), কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় দেশবাসীর কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া যদি আমি না পেতাম, তাহলে এটা করতে পারতাম না। সেটাই আমাকে সাহস জুগিয়েছিল, শক্তি জুগিয়েছিল। কারণ মানুষের শক্তিতেই আমি বিশ্বাস করি।

পদ্মা পারের মানুষের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণাঞ্চল বা পদ্মা পারের মানুষ বরাবরই অবহেলিত ছিল। দারিদ্র্য আমাদের নিত্যসঙ্গী। এখন আর সেই পরিস্থিতি থাকবে না। কারণ আমরা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করেছি, যা ২৫ জুন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।

যে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সারা জীবন অবহেলিত ছিল, এখন আর অবহেলিত থাকবে না। কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে সেখানকার অর্থনৈতিক অবস্থা এমনিতেই উন্নত হয়। এটাই হলো বাস্তবতা।

২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবে। সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, সেতু উদ্বোধনের পর সেখানে গাড়ি নিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতা করবেন না, খেয়াল রাখবেন যেন কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটতে পারে।

পদ্মা সেতুর ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে খরস্রোতা নদীগুলোর অন্যতম এ পদ্মায় বাংলাদেশ যে সেতু নির্মাণ করতে পারে সেটা অনেকের ধারণাতেই ছিল না। তারপর আবার সেতুটি একটি দ্বিতল সেতু, নিচ দিয়ে ট্রেন এবং ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে। যেটা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ এবং পৃথিবীতে এ ধরনের কাজ বোধ হয় এটাই প্রথম। এখানে যে ধরনের মেশিনারিজ ব্যবহূত হয়েছে, সেটাও বোধ হয় আর কোথাও হয়নি। এ সেতু নির্মাণে যে বাধা-বিপত্তি ছিল সেটাও আপনারা জানেন।

এ সেতু করতে গিয়ে তার, তার পরিবার এবং সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলে তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সেই অভিযোগ প্রমাণের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।