প্রথমবার আলো জ্বলল পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে

Passenger Voice    |    ০২:০৩ পিএম, ২০২২-০৬-০৫


প্রথমবার আলো জ্বলল পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে

আলোকিত হলো স্বপ্নের পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর নান্দনিক ল্যাম্পপোস্টের আলোয় আলোকিত মাওয়া প্রান্ত। প্রথমবার জ্বলল ২৪টি স্ট্রিটলাইট। সফল পরীক্ষায় উচ্ছ্বসিত প্রকৌশলীরা। পদ্মার বুকে আলোর ঝিলিক দেখে আনন্দে ভাসছেন নদীপাড়ের মানুষও।

প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক স্ট্রিটলাইট জ্বলানো হয় সেতুর পশ্চিম পাশে। মূল সেতুর ২ ও ৩ নম্বর মডিউলে একে একে ২৪টি লাইট জ্বলে উঠে। উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন প্রকৌশলীরা।

মূল সেতুতে ৩২৮ এবং দুই প্রান্তের সংযোগ সেতুতে ৮৭ লাইট জ্বলবে। এ ছাড়া সেতুর দুই পাড়ের অ্যাপ্রোচ সড়কে রয়েছে আরও ২০০ ল্যাম্পপোস্ট। এখন প্রতিদিনই অন্য বাতিগুলোও পরীক্ষামূলক জ্বালানো হবে। পদ্মার বুকে এই আলোর ঝিলিকে উচ্ছ্বসিত নদীপাড়ের মানুষ।

তারা বলছেন, পদ্মা সেতুতে লাইট জ্বলছে। এ দৃশ্য দেখে খুবই আনন্দ লাগছে। আরও লাইট জ্বলবে। আমাদের স্বপ্নের সেতু ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে আমরা খুবই খুশি।

এই বাতিগুলো দিনের আলোর মতোই আলোকিত রাখবে সেতু। যানবাহনের চালকদের চোখে লাগবে না। মাওয়া ও জাজিরায় দুটি সাব-স্টেশনের আওতায় সেতুর ওপরে প্যারাপেট ওয়ালে ৪টি মূল এবং ৪ সাব মোট ৮টি সার্কিট প্যানেলের বাতিগুলো জ্বলবে।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন বলেন, একটা সার্কিটের অধীনে ২৪টি লাইট জ্বলছে। মডিউল ২ থেকে ৩ এর মধ্যে ৪০ মিনিটের মতো জ্বলছে। পার আওয়ারেও যদি বাতাস আসে, ঝড়ে পড়বে না। এটা হোয়াইট নিউটাল আলো, যানবাহনের জন্য চোখে লাগবে না, সমস্যা হবে না।

১৭৫ ওয়াটের এলইডি লাইটগুলোর একটি থেকে অপরটি সাড়ে ৩৭ মিটার দূরত্বে অবস্থান। সহ্য করতে পারবে ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বাতাসের গতি।

আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরায় হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এরপর মাদারীপুরের শিবচরে জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষ্যে ওই এলাকায় ১০ লাখ মানুষের জমায়েত করার পরিকল্পনা করেছে আওয়ামী লীগ।

খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৪ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে মূল পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি ছাড়িয়েছে ৯৯ শতাংশ। সার্বিক অগ্রগতি সাড়ে ৯৪ শতাংশের বেশি।

পদ্মা সেতু দেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেলসেতু। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে।

দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের স্তরটিতে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসানো হয়। ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত হয়েছে স্বপ্নের এ সেতু।