শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:৫৮ পিএম, ২০২২-০৫-৩০
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সতী নদীর ওপর ভাসমান ৫০ ফিট ড্রাম ব্রিজে দুঃখ ঘুচলো শিক্ষার্থীসহ ১৫ হাজার মানুষের। গত এক বছর ধরে ওই এলাকার শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে ভিজে চলাচল করতেন। ভাসমান ব্রিজে তাদের এখন স্বস্তি ফিরেছে। ড্রাম ও বাঁশের মাচা দিয়ে ৫০ ফিট দূরত্বে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য ব্রিজটি নির্মাণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইব্রাহীম আলী (৪৫) নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের সতী নদীর ওপর ড্রাম ব্রিজটি গত ২৫ মে উদ্বোধনের পর থেকে ওই এলাকার মানুষ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত শুরু হয়।
জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের শালমাড়া ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম আলীর স্কুলে যাওয়া আসার পথে ওই এলাকার সতী নদীটি। কিন্তু এটিতে অনেকদিন কোনো ব্রিজ বা সাঁকো নেই। হাঁটু বা কোমর পানিতে নেমে নদী পার হতে হতো মানুষের। শিক্ষার্থীসহ সবার এই ভোগান্তি দেখে ইব্রাহীম আলী ড্রাম ব্রিজ করার উদ্যোগ নেন। এরপর তিনি নিজে ও কয়েকজন এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ২০টি ড্রাম ও শতাধিক বাঁশের সমন্বয়ে একটি ভাসমান ব্রিজ নির্মাণ করেন। তার এমন উদ্যোগ এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে শালমাড়া ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম আলী বলেন, বেশ কিছুদিন থেকে সতী নদীর ওপর নির্মিত সেতু ভেঙে পড়ে যায়। এরপর থেকে নদীর দুই পাশে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ মাদ্রাসার কয়েক শত শিক্ষার্থী কোমর পরিমাণ পানিতে নেমে আলাদা পোষাক ব্যবহার করে স্কুল, কলেজে যাতায়াত করে। আমার স্কুলের অনেক ছাত্র-ছাত্রী পানি ও পোকামাকড়ের ভয়ে যাতায়াত করে। এ জন্য আমি নিজ উদ্যোগে ও দুই চারজন বন্ধুসহ কয়েক জন মিলে ২০টি ড্রাম দিয়ে প্রায় একশ’ বাঁশ দিয়ে পানির ওপরে সাঁকো নির্মাণ করি ওই এলাকায় যাতায়াতের জন্য। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে।
নওদাবাস দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. রুহুল আমিন বলেন, শালমারা ঘাটে একটি ব্রিজ ছিল। সেটি হঠাৎ ভেঙে যায়। এরপর থেকে মানুষের খুবই অসুবিধার সৃষ্টি হয়। এখানে নদীর একবুক পানি পার হয়ে ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। পরে কয়েকজন এলকাবাসী ও শালমাড়া ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম আলী পরিকল্পনা করেন, ড্রামের ওপর বাঁশের মাচা তৈরি করে যাতায়াত করা যাবে। পরে তার উদ্যোগেই এ ভাসমান সাঁকোটি তৈরি করা হল।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এক বুক পানি পেরিয়ে বাড়ি ফিরি অনেক কষ্ট আর দুর্ভোগ নিয়ে। এখন ড্রাম ব্রিজ হওয়ায় আমরা খুব খুশি। শিক্ষার্থীরাও খুব সহজেই স্কুলে যেতে পারবে।
স্থানীয় এক সংবাদকর্মী মো. আব্দুল আলীম বলেন, মৃত প্রায় সতী নদী বর্ষকাল আসলে প্লাবিত হয়ে যায়। আবার খরার সময়ও পানি থাকে। এই নদীর ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছে পানি পার হয়ে। তবে এই এলাকার শালমাড়া ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম চমৎকার উদ্যোগ নিয়ে ভাসমান সাঁকো করে মানুষের ভোগান্তি লাঘব করেছেন।
কলেজ শিক্ষার্থী সজল বলেন, আমি সাইকেল ঘাড়ে করে এক বুক পানি পাড় হয়ে আসা যাওয়া করতাম। এখানে একটি ব্রিজ ছিল। সেটি ভাঙ্গার পর দুর্দশায় ভুগছিলাম। এখন দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হলো।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আলম বলেন, ‘সতী নদীর ওপর আগে একটি ব্রিজ ছিল। সেটি ভেঙে যাওয়ার কারণে এলাকার মানুষ কষ্টে নদী পারাপার করছেন। ওই সেতুর টেন্ডার হয়েছে। কাজও চলছে।’
সূত্র: সমকাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত