শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৫৫ পিএম, ২০২২-০৫-২৮
চলছে বোরো মৌসুম। বছরের এই সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক দখল করে চলছে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ। ব্যস্ততম সড়কগুলোর দুই ধার কৃষকদের দখলে থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও পথচারীদের। এতে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা, বালিয়াডঙ্গী, পীরগঞ্জ ও হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলো দখল করে দুই ধারে চলছে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ। বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় বেশিরভাগ কৃষক সড়কের ধারে শ্যালোচালিত ইঞ্জিন দিয়ে ধান মাড়াই করছেন এবং মাড়াই করা ধান ও খড় সড়কের ওপর বিছিয়ে শুকাচ্ছেন। সড়কের দুই ধারে ধান আর খড় থাকায় মাঝখান দিয়ে চলাচল করছে দ্রুতগামী যানবাহন। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান নামে একজন পথচারী জানান, ব্যবসার কাজে প্রতিদিন তাকে ঠাকুরগাঁও শহর থেকে বালিয়াডাঙ্গী ও রাণীশংকৈলের নেকমরদ হাটে যেতে হয়। কিন্তু সড়কের দুই ধারে ধান ও খড় শুকানোর কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাকে। এরই মধ্যে দ্রুতগামী ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে ধানের মধ্যে মোটরসাইকেলসহ পিছলে গিয়ে তার ডান পা আহত হয়েছে। অল্পের জন্য তিনি ট্রাকের চাকার নিচে না পড়ে জীবন রক্ষা করতে পেরেছেন। তারপরও সুস্থ হতে বেশ কয়েকদিন বিশ্রামে থাকতে হয়েছে তাকে।
মোহাম্মদ রিফাত নামে আরেক পথচারী জানান, ধান শুকাতে বাধা দিলে কৃষকরা উল্টো পথচারীদের উপর মারমুখী আচরণ করেন। সড়কের দুই দারে ধান আর খড় শুকানোর কারণে মাঝখানে যে সামান্য জায়গা থাকে তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। প্রতিদিন কেউ না কেউ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সব জেনে শুনেও স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।
রবিউল আউয়াল নামে একজন মোটরসাইকেলচালক জানান, সড়কে ধান শুকানোর কারণে গত বছর ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী সড়কে দুর্ঘটনায় ৩টি প্রাণ ঝড়েছে। এ বছর এরই মধ্যে ঘটেছে একাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে হয়তো পুলিশ ও প্রশাসনের বিষয়টি নজরে আসবে!
সড়কে ধান শুকানোর বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী দাস পাড়ার কৃষক অনুকুল রায়, সামসুল আলমসহ আরো বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, বৃষ্টির কারণে বাড়ির উঠানে ও মাঠে পানি জমে থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই সড়কে তারা ধান শুকাচ্ছেন। এতে অনেকের সমস্যা হচ্ছে। সরকারিভাবে আশপাশের মিলের চাতালে ধান শুকানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হলে তাদের খুব উপকার হবে এবং অনেক কৃষক সড়কে ধান শুকাবেন না।
ঠাকুরগাঁও পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান বাহন) আমজাদ হোসেন জানান, ধান শুকানোর কারণে সড়ক ও মহাসড়কগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েও সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। সড়ক ঝুঁকিমুক্ত করতে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. সামশুজ্জামান জানান, সড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প ব্যবস্থা করেও ধান শুকানো সম্ভব। দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইউনিয়ন জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মাইকিং প্রচারণা ও এ বিষয়ে কাজ চলছে। কৃষকরা যাতে সড়কে ধান না শুকান এজন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, এরপরও কাজ না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ঠাকুরগাঁওয়ে এ বছর ৫৮ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ৬০ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত