শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৩৫ এএম, ২০২২-০৫-১৭
রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মোস্তাফিজুর রাহমান। সোমবার (১৬ মে) জামালপুর থেকে রাতের যমুনা এক্সপ্রেসে এসে তিনি ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে নামেন। চলতি পথে তিনি বেশ কয়েকজন যাত্রীকে তার বগিতে (শোভন চেয়ার, নন এসি) দাঁড়িয়ে আসতে দেখেন। স্ট্যান্ডিং যাত্রীদের কারণে ট্রেনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে তার। চরম বিরক্ত হয়ে তিনি বলেন, স্বাচ্ছন্দ্যে যাত্রার জন্য অনেক কষ্ট করে টিকিট কাটি। কিন্তু সিটে বসেও শান্তি নেই। স্ট্যান্ডিংয়ের যাত্রীদের জন্য পা ফেলা দায় হয়।
শুধু মোস্তাফিজুর রাহমানই নন, তার মতো অধিকাংশ ট্রেন যাত্রীর অভিযোগ একই। তারা বলছেন, একটি ট্রেনে যে পরিমাণ সিট থাকে তার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। তাদের অনেকেই স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটেন না। অধিকাংশ সময় এসব যাত্রী ট্রেনের স্টাফদের ম্যানেজ করে ভ্রমণ করেন। কিন্তু স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীদের কারণে চরম অস্বস্তিতে থাকেন টিকিট কেটে ভ্রমণ করা যাত্রীরা।
মোস্তাফিজুর রাহমান বলেন, জামালপুর থেকে আমাদের বগিতে কয়েকজন যাত্রীকে ট্রেনে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে দেখেছি। ময়মনসিংহ ও গফরগাঁও স্টেশন থেকে আরও অনেক মানুষ ট্রেনে উঠে। তাদের অনেকেই দাঁড়িয়ে ট্রেনে ভ্রমণ করেছেন। তারা টিকিট কেটেছিলেন কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।
তিনি আরও বলেন, আমরা তো কষ্ট করে ট্রেনের আসনসহ টিকিট সংগ্রহ করি স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণের জন্য। কিন্তু তাদের দাঁড়িয়ে থাকার জন্য ট্রেনের ভেতরে চলাচলে অসুবিধা হয়। যেটা কোনভাবেই কাম্য নয়।
করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘ ২ বছরের সময় বেশি বন্ধ ছিল ট্রেনের আসনের অতিরিক্ত 'স্ট্যান্ডিং টিকিট' বিক্রি। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার (১২ মে) রাজধানীর রেল ভবনে এক বৈঠকে আবারও স্ট্যান্ডিং বিক্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখনও অফিসিয়াল আদেশ পৌঁছায়নি স্টেশনগুলোতে। কিন্তু ট্রেন ভেদে ২০ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করে থাকে স্টেশনগুলো। এদিকে ট্রেনে আসন না পেয়ে বিনা টিকিটে ভ্রমণ শুরু করেছেন যাত্রীরা। পরে বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
তবে শোভন শ্রেণির স্ট্যান্ডিং টিকিট হলেও অনেকেই স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে প্রথম শ্রেণি বা এসি বগিতে ভ্রমণ করছেন।
এদিকে অন্য একটি ট্রেনের এসি বগির যাত্রী নুবায়েত প্রত্যয় বলেন, ট্রেনের একেকটি এসি আসনের টিকিটের জন্য যে যুদ্ধ করতে হয়, সেটি ভাষায় প্রকাশের নয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং টিকিটসহ অন্য বগির যাত্রীরা এই বগিতে ভিড় করেন। খালি আসন থাকলে হুট করে বসে যান। টয়লেটের সামনে এমনভাবে ভিড় করেন যে, টয়লেটে যেতে বিব্রতবোধ হয়। এ ক্ষেত্রে নারী যাত্রীরা বেশি অস্বস্তি বোধ করেন।
তিনি আরও বলেন, সবারই যাতায়াতের প্রয়োজন আছে। স্ট্যান্ডিং টিকিটের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ আলাদা বগি দিতে পারে। যেখানে সবাই শুধু দাঁড়িয়েই যাবে। কষ্ট করে আসনসহ টিকিট সংগ্রহ করি আরামে যাব বলে। কিন্তু সেই আরাম হারাম হয়ে যায় স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীদের জন্য।
স্ট্যান্ডিং টিকিটের বিষয়ে রেলওয়ের সহকারী লোকোমাস্টার এস এম জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্ট্যান্ডিং টিকিট কিছুটা হলেও দিতে হবে। কারণ মানুষকে তো যাতায়াত করতে হবে। আমাদের দেশের মানুষ হিসেবে ট্রেনের আসন কম। যাতায়াতের জন্য স্ট্যান্ডিং টিকিটের বিকল্প নেই। কিন্তু স্ট্যান্ডিং টিকিটের চাপ পড়ে এসি বগিতে, সমস্যাটা এখানেই। যাত্রীরা ভাবে, দাঁড়িয়ে যখন থাকব তাহলে এসি বগিতেই থাকি।
তিনি আরও বলেন, এই সমস্যা সমাধানে স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীদের এসি বগি ছাড়া অন্য বগিতে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীদের জন্য এক্সট্রা বগি সংযোজন করতে হবে।
এদিকে ফেসবুকের পাবলিক সার্ভিসেস হেল্প গ্রুপে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'রেলের স্ট্যান্ডিং টিকিট বড় বিষয় নয়, ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে এসি কোচে ভ্রমণ। এমন অবস্থা যে, এসির যাত্রীরা টয়লেটে পর্যন্ত যেতে পারে না। একই অবস্থা হয় নন-এসির যাত্রীদেরও। সিটে বসে যাওয়া নারী যাত্রীদের পড়তে হয় সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা এবং বিব্রতকর অবস্থায়। স্ট্যান্ডিং টিকিট ইস্যু করা হয় শোভন শ্রেণির জন্য।'
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার স্ট্যান্ডিং টিকিট বিষয়ে বলেন, আমাদের ট্রেনের এসি বগিগুলোতে কেউ দাঁড়িয়ে যেতে পারবে না, এটা আমরা শতভাগ নিশ্চিত করেছি। ঈদে দুই একটা ঘটনা যে ঘটেনি, সেটি আমি বলব না। আমরা স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীদের নন এসি বগিতে নিয়ে গিয়েছি। স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীরা সর্বোচ্চ শোভন শ্রেণিতে ভ্রমণ করতে পারবেন। ট্রেনে এসি বগিতে স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীদের ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করি। আমাদের কর্মচারীরাও এসি বগিতে ওঠে না। কারণ তাদেরও এই বগিতে উঠলে ভাড়া দিতে হয়। এটার জন্য আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত