বেনাপোল বন্দর দিয়ে বেড়েছে যাত্রীদের যাতায়াত

Passenger Voice    |    ০১:১৯ পিএম, ২০২২-০৫-১১


বেনাপোল বন্দর দিয়ে বেড়েছে যাত্রীদের যাতায়াত

করোনা সংক্রমণ কমে আসায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে বেড়েছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত। গত ১ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৩৪ হাজার ৪২৮ জন যাতায়াত করেছে। এসব যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন ১৮ হাজার ৫৮৯ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ১৫ হাজার ৫৩৯ জন।

এদিকে করেনার বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় এ পথে বেড়েছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যও। তবে বন্দরে জায়গা সংকট আর যাত্রী সেবার বৈধ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে যেমন ভোগান্তি বেড়েছে বাণিজ্যে তেমনি যাত্রী যাতায়াতে।

ভারতগামী যাত্রী অনিমেষ হালদার জানান, ভারত ভ্রমণে নানান শর্তের কারণে এতদিন ভারতে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও তিনি যেতে পারেননি। তবে এখন সব শর্ত উঠে ভিসা সহজ হওয়ায় ভারতে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশে ভোগান্তি কিছুটা কমলেও ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে পুলিশের জনবল কম থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজতে হচ্ছে। জনবল বৃদ্ধি আর যাত্রী ছাওনি তৈরি করা হলে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।

সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, করোনার কারণে নানান শর্ত মানতে চাহিদা মতো পণ্য আমদানি-রফতানি করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে এখন শর্ত প্রত্যাহারে ঝামেলা কমেছে কিন্তু বন্দরে জায়গা সংকট আর ক্রেন-ফর্কক্লিপের সমস্যায় পণ্য লোড-আনলোড ব্যহত হচ্ছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকার আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার রফতানি বাণিজ্য হয়। এছাড়া চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষাগ্রহণ ও ভ্রমণ ভিসায় বছরে প্রায় ১৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করে। বাণিজ্যখাতে সরকারের ৬ হাজার কোটি টাকা ও ভ্রমণখাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয় বেনাপোল বন্দর থেকে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন হলে আমদানি বাণিজ্য ও যাত্রী যাতায়াত সংখ্যা আরও বাড়বে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, আমদানির চাহিদা বাড়ায় বন্দরে পণ্যজট বেড়েছে। তবে কমাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত পণ্য খালাস নিতে পারেন সে বিষয়ে সংশিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাত্রী সেবা বাড়াতে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল তৈরিতে নতুন জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানন এ বন্দর কর্মকর্তা।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি জানান, গত ১ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৩৪ হাজার ৪২৮ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এসব যাত্রীদের মধ্যে ভারতে গেছে ১৮ হাজার ৫৮৯ জন। ভারত থেকে ফিরেছে ১৫ হাজার ৫৩৯ জন। যাত্রী সেবা বাড়াতে ইতোমধ্যে ইমিগ্রেশনে কাউন্টার বৃদ্ধি করা হয়েছে। ক্যানসারে আক্রান্ত ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা কাউন্টারে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে যাত্রীরা দ্রুত পাসপোর্টের কার্যক্রম শেষ করতে পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করতে।