জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে ঈদযাত্রা ঘরমুখো মানুষের

Passenger Voice    |    ০২:০৬ পিএম, ২০২২-০৫-০১


জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে ঈদযাত্রা ঘরমুখো মানুষের

বগির ছাদ, হাতল বা পাদানি কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। একেকটি ট্রেন এসে থামামাত্র হামলে পড়ছেন। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ইঞ্জিন, বগির হাতলে ঝুলে এবং ছাদে বসে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। শনিবার বিকেলে গাজীপুরের ব্যস্ততম জয়দেবপুর রেল জংশন স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে এ চিত্র।

জয়দেবপুর জংশন স্টেশনটি দেশের অন্যতম বড় এবং ব্যস্ততম জংশন স্টেশনগুলোর একটি। শ্রমিক অধ্যুষিত এ স্টেশন হয়ে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। ঈদের সময় এ সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি আন্তঃনগর ট্রেনটি গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে জয়দেবপুর স্টেশনে এসে থামে।  

গাজীপুর থেকে আসন মাত্র ২৫-৩০টি হলেও নারী-পুরুষ ও শিশুসহ কমপক্ষে আড়াই-তিন হাজার যাত্রী এ ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ট্রেন থামার পর যাত্রীরা বগির দরজায় হামলে পড়েন। কিন্তু ট্রেনের প্রতিটি বগি আগেই ছিল যাত্রীতে ঠাসা। অল্প কিছুসংখ্যক যাত্রী বগিতে উঠতে পারেন মাত্র। বাধ্য হয়ে বাকী যাত্রীরা বগি বেয়ে ছাদে এবং ইঞ্জিনে উঠতে শুরু করেন। মুহূর্তে ছাদও পরিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ১০ মিনিট বিরতির পর ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তে বগিতে উঠতে না পেরে অনেকে হাতল ও পাতালে ঝুলে পড়েন। একই অবস্থা দেখা গেছে সকালের রাজশাহী এক্সপ্রেস এবং বিকেলের জামালপুরগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনে। প্রচণ্ড ভিড়ে ট্রেনে উঠতে না পেরে অনেককে হাতাশ হতে দেখা গেছে।

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে খুলনা যেতে পরিবার ৪ সদস্যকে নিয়ে বিকাল ৫টার দিকে স্টেশনে আসেন ইউটা গার্মেন্টের সুভারভাইজার এমদাদ হোসেন। জানালেন, ৪ জনের মধ্যে অনেক কষ্টে টিকিট পেয়েছেন মাত্র দুইটি। আসনের তুলনায় স্টেশনে যাত্রীর সংখ্যা বহুগুণ বেশি। কিভাবে ট্রেনে উঠবেন তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।  

অপর যাত্রী একটি গার্মেন্টের অপারেটর মাহুমদা আক্তার জানান, বাসের টিকিট পাননি। ট্রেনের টিকিটিও কাটতে পারেননি। গ্রামে মা-বাবা ও সন্তান রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে বিনা টিকিটেই ট্রেনে উঠবেন।

জয়দেবপুর জংসন স্টেশনের মাষ্টার মো. রেজাউল করিম বলেন, আসনের তুলনায় প্রতিটি গন্তব্যের যাত্রীর সংখ্যা শতগুণ বেশি। গার্মেন্ট ও কল-কারখানা ছুটি হওয়ার পর রেলে গত দুই দিন ধরে বাড়তি যাত্রীদের চাপ রয়েছে। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ছাদ, ইঞ্জিন ও হাতলে ঝুলে ভ্রমণ করছেন। ছাদ ও ইঞ্জিনে ভ্রমণ সম্পূর্ণ অবৈধ। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। তারা ছাদে ও ইঞ্জিনে না উঠতে কাজ করছেন। কিন্তু অনেক সময় পেরে উঠা যায় না। প্রিয়জনের টানে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।