আজ মহান মে দিবস!

Passenger Voice    |    ১০:৩৪ এএম, ২০২২-০৫-০১


আজ মহান মে দিবস!

মে দিবস আজ। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘শ্রমিক-মালিক একতা, উন্নয়নের নিশ্চয়তা’। ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে এবারের মে দিবসের কর্মসূচি শুরু করবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।

দিবসটির তাত্পর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি ছিলেন শ্রমজীবী মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। স্বাধীনতার পর মে দিবস রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায় এবং জাতির পিতা মে দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের নেতৃত্বে শ্রম মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন অধিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থা, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা ধানমন্ডি ৩২-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে ৮ মে সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। দিবসটি উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। সড়কদ্বীপ সজ্জিতকরণ, টিভি টক শো, টিভি স্ক্রলবার্তা, টিভি ডকুমেন্টারি, সচেতনতামূলক ভিডিও প্রস্তুতকরণ, মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ, জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।  এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন ও হেলথ ক্যাম্প আয়োজনসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

মহান মে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের এক অনন্য দিন। সারা বিশ্বে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। বাংলাদেশে সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয় দিনটি। শ্রমের উপযুক্ত মূল্য ও দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে ১৮৮৬ সালে শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকরা আত্মাহুতি দিয়ে শ্রমিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সূচনা করেছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে মহান মে দিবসকে শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের স্বীকৃতি প্রদান করেছিলেন। দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহান স্বাধীনতা লাভের পরের বছরই জাতির পিতার ঐকান্তিক ইচ্ছায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সদস্যপদ লাভ করে।