শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:৩৬ পিএম, ২০২২-০৪-৩০
করোনা মহামারীর কারণে গত দুই বছর ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ ছিল তুলনামূলক কম। পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ হয়ে আসায় এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চিরচেনা রূপে ফিরেছে দেশের সড়ক-মহাসড়ক, রেল ও নৌপথ। ঈদ যাত্রার তৃতীয় দিনে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোয় বেড়েছে ঘরমুখী মানুষের চাপ। তবে এবার যানজট তুলনামূলক কম। রেলপথে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় না হলেও আসনক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছাড়ছে প্রায় প্রতিটি ট্রেন। লঞ্চও ছাড়ছে ভরা যাত্রী নিয়ে। বাড়তি যানবাহনের চাপে ফেরিঘাটগুলোয় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। নদী পার হতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
ঈদের আগে-পরে সবচেয়ে বেশি যানজট হয় ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে। তবে এবার মহাসড়কটির জয়দেবপুর-এলেঙ্গা অংশের চার লেনের নতুন সড়ক, নবনির্মিত সেতু-ফ্লাইওভারের বদৌলতে যানজট খুব একটা হচ্ছে না। এবার ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত শুরু হয়েছে মূলত ২৭ এপ্রিল থেকে। ২৭ ও ২৮ এপ্রিল মোটামুটি নির্বিঘ্নেই ঢাকা ছেড়েছে মানুষ। এ দুদিন দেশের মহাসড়কগুলোয় যানবাহনের চাপও ছিল কম। ফলে কোথাও তেমন যানজট হয়নি।
তবে গতকাল সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে। এর জেরে সকালের দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয়। যদিও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে।
জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ভোগান্তি কমাতে বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ের জন্য টোলবুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে যানবাহন চলাচলের লেন। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দুটি লেন করা হয়েছে। এর পরও সেতুর পূর্ব প্রান্তের গোলচত্বর থেকে টোল প্লাজা পর্যন্ত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট কার্যালয়ের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক অবস্থায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ের জন্য তিন-চারটি লেন চালু রাখা হয়। এবার সাতটি লেনে টোল আদায় করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর মহাসড়কের উত্তরবঙ্গমুখী লেনে যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। বণিক বার্তার সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল থেকেই মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু গোলচত্বর থেকে মুলিবাড়ী, কড্ডার মোড়, ঝাঐল ওভারব্রিজ হয়ে নলকা মোড় পর্যন্ত ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ যানজট হাটিকুমরুল পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশি তত্পরতায় দুপুর ১২টার পর থেকে যানজট কিছুটা কমে। তবে মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতি রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুত্ফর রহমান জানান, ঈদযাত্রায় মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি স্থানে অতিরিক্ত ২০০ পুলিশ সদস্য কাজ করছেন।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৭ এপ্রিল থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রথম দুদিন মোটামুটি নির্বিঘ্নেই রেলপথে ঢাকা ছেড়েছেন মানুষ। তবে গতকাল থেকে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত আসনের বাইরে দাঁড়িয়েও অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার আমিনুল হক জানান, শুক্রবার সারা দিনে ১২২টি ট্রেন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। এর মধ্যে চারজোড়া ছিল ঈদ স্পেশাল ট্রেন।
একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের পর ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বেলা ১১টা পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মোট ২০ জোড়া ট্রেন যাতায়াত করেছে। দুটি ট্রেন স্টেশনে আসতে বিলম্ব করলেও আমরা দ্রুত সেগুলো ক্লিন করে আধা ঘণ্টায় গন্তব্যে ছেড়ে দিতে পেরেছি। আমরা চেষ্টা করেছি কীভাবে, কত দ্রুত ঢাকা থেকে ট্রেনগুলোকে ছেড়ে দেয়া যায়। বিলম্বিত ট্রেন দুটির যাত্রাপথ অনেক দূর এবং যাত্রী ওঠানামা ও বিরতিতে কিছু সময় অতিরিক্ত ব্যয় হওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে সে সময় কমিয়ে আনা যায়। বঙ্গবন্ধু সেতু এক লেন হওয়ায় সেখানেও কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
প্রতি ঈদেই শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। এবারো ঈদ উপলক্ষে ঘাট দুটিতে দেখা দিয়েছে বাড়তি যাত্রী ও যানবাহনের চাপ।
সূত্রে জানা যায়, লঞ্চঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। সকাল থেকেই প্রতিটি লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার করতে দেখা গেছে। কোনো কোনো লঞ্চে তিন গুণ যাত্রী পারাপারেরও অভিযোগ ওঠে। বিকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুল পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের যানজট তৈরি হয়। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, দৌলতদিয়া ঘাটের সমস্যা সারা বছরই লেগে থাকে। ঘাট কর্তৃপক্ষ ফেরি কম চালানোয় এমন সমস্যা বলেও দাবি তাদের।
নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গতকাল দুপুরে শিমুলিয়া ঘাট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিমুলিয়া ঘাটের চাপ ও বিড়ম্বনা এড়াতে যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলেন, এবারের ঈদে যাত্রী পারাপারের জন্য অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথকে। ফেরিঘাট ঈদে ঘরমুখী মানুষের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে ২৫টি ফেরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। আজ থেকে পোশাক কারখানা বন্ধ হচ্ছে। বিকালের পর থেকে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে চাপ আরো বাড়বে।
ঈদ উপলক্ষে ঢাকার সদরঘাটেও বেড়েছে যাত্রীর চাপ। গতকাল সকাল থেকে যাত্রীর চাপ থাকলেও দুপুরের পর থেকে ভিড় বাড়তে শুরু করে। লঞ্চগুলো যাতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে, সেজন্য বারবার বিআইডব্লিউটিএর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মাইকে সতর্কবাণী প্রচার করছে নৌ-পুলিশ।
সূত্র: বণিক বার্তা
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত