রেলের টিকিট কালোবাজারি:সহজ ইঞ্জিনিয়ার রেজাউলের আয় ১০-১২ লাখ টাকা!

Passenger Voice    |    ১১:১৩ এএম, ২০২২-০৪-৩০


রেলের টিকিট কালোবাজারি:সহজ ইঞ্জিনিয়ার রেজাউলের আয় ১০-১২ লাখ টাকা!

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তারা হলেন, সহজ সিনেসিস ভিনসেনের (জেভি) সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার মো. রেজাউল করিম ও তার ঘনিষ্ঠ এমরানুল আলম সম্রাট। গতকাল বুধবার রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের স্মার্টফোন থেকে অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করা বিপুল পরিমাণ ট্রেনের ই-টিকিট জব্দ করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১ এর পরিচালক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।

আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, রেজাউল গত ৬ বছর ধরে ট্রেনের টিকিটিংয়ের সঙ্গে জড়িত। সহজ ডটকমের আগে অনলাইনে টিকিট বিক্রির দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠান সিএনএস বিডিতেও কর্মরত ছিলেন তিনি। টিকিট কালোবাজারে বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মৌসুমে রেজাউল আয় করতেন ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।  

রেজাউল পরিচিতজনদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা লাভে টিকিট বিক্রি করতেন জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, অন্যদের কাছে নির্ধারিত দামের চেয়ে ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকা বেশি দামে টিকিট বিক্রি করতেন। তার দাবি, রেলওয়ের বিভিন্ন ভিআইপিদের টিকিটের আবদার মেটানোর সুযোগে তিনি এ কাজ করে আসছিলেন।

র‌্যাব-১ এর প্রধান আল মোমেন বলেন, রেজাউল পরিচিতজনদের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে টিকিটপ্রত্যাশীদের একটি বড় শ্রেণি গড়ে তুলেছেন। সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুবাদে সার্ভার থেকে টিকিট বুক করে কিনে নিতেন তিনি।

ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিটের বিপুল চাহিদা থাকে জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা মোমেন বলেন, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করে আসছিল একটি চক্র। অধিকাংশ মানুষই অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে সকালে অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, এ অভিযোগে র‍্যাব-১ এর গোয়েন্দা দল কমলাপুর স্টেশন থেকে সহজ ডটকমের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমকে প্রথমে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টিকিট কালোবাজারির বিষয়টি নিশ্চিত হয় র‍্যাব। এরপর তার সহযোগী এমরানুলকে  গ্রেপ্তার করা হয়।  

চাকরিচ্যুত রেজাউল 

জেভির (পাবলিক রিলেশন্স) ম্যানেজার ফরহাত আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত রেজাউলকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির মতো ঘৃণ্য অপরাধ এবং প্রতিষ্ঠানের মানহানির অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, রেজাউল কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট বিক্রয় পরিচালনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। রেল ব্যবস্থাপনার কাজ সুষ্ঠুভাবে ও অভিজ্ঞ কর্মীর মাধ্যমে পরিচালনার লক্ষ্যে সহজ সিনেসিস ভিনসেন চলতি বছরের ২১ মার্চ তাকে নিয়োগ দেয়।