শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:০১ পিএম, ২০২২-০৪-২১
বরগুনার আমতলীতে ইজারা আদায়ের রশিদ ব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে তরমুজভর্তি ট্রাক ও তরমুজ কিনতে আসা ব্যাপারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছেন একটি প্রভাবশালী সক্রিয় চক্র। এ নিয়ে ব্যবসায়ী, কৃষক ও ট্রাকচালকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁদের অভিযোগ, চাঁদা বন্ধে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কুকুয়া, আঠারোগাছিয়া, হলদিয়া, আমতলী সদর ও চাওড়া ইউনিয়নে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তরমুজ ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীরা এসে তরমুজ ক্রয় করে তা ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রির জন্য নিয়ে যান। তরমুজ পরিবহনে জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ট্রাক ও পিকআপগুলো গাজীপুর বন্দর, তালুকদার বাজার, সুবান্ধি, কাঠালিয়া, বিশ্বাসের হাট, কুকুয়া হাট এলাকায় অবস্থান করেন। এ সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী সক্রিয় চক্র একেকটি ট্রাক থেকে ৩০০, ৫০০, ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে বলে ভুক্তভোগী তরমুজ ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীরা অভিযোগ করেন।
চাঁদা আদায়ের জন্য প্রভাবশালী ওই চক্রটি কৌশলে ইজারার নামে ছাপানো রশিদ ব্যবহার করছে। আবার কেউ কেউ রশিদ ছাড়াই বল প্রয়োগ করে টাকা আদায় করছে। কোনো ব্যবসায়ী বা ট্রাকচালক চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের তরমুজ পরিবহন করতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক তরমুজ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন। তাঁরা জানান, দাবিকৃত টাকা না দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তরমুজভর্তি ট্রাক আটকে রাখা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেই তাঁদের ট্রাক ছাড়তে হচ্ছে।
আঠারগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. বাতেন দেওয়ান বলেন, তরমুজ বিক্রির শুরু থেকেই গাজীপুর বন্দর এলাকায় ট্রাকপ্রতি চালকদের কাছ থেকে ইজারার নামে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে একটি প্রভাবশালী মহল। তিনি আরো বলেন, ট্রাকচালকরা চাঁদা দিতে না চাইলে তাঁদের আটকে চাঁদা আদায়ে বাধ্য করা হচ্ছে। চাঁদাবাজদের এমন দৌরাত্ম্যের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে তরমুজসংশ্লিষ্টরা।
আজ (বৃহস্পতিবার) সরেজমিনে উপজেলার গাজীপুর বন্দর, বিশ্বাসের হাট, অফিস বাজার, তালুকদার বাজার, সুবান্ধি, কুকুয়া হাট, সাহেব বাড়ীসহ উপজেলা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি স্পটে তরমুজ পরিবহনের জন্য একাধিক ট্রাক সড়কের পাশে অবস্থান করছে। ওই সকল ট্রাক থেকে নানা কৌশলে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে ড্রাইভার ও তরমুজসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সত্যতা পাওয়া গেছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রসংলগ্ন সড়কে প্রতিটি ট্রাক থেকে জোরপূর্বক ৮০০ থেকে ১৫০০ পর্যন্ত টাকা আদায় করেছে ওই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ওহাব হাওলাদারের লোকজন।
গাজীপুর এলাকায় ট্রাকচালক সোলায়মান মিয়া বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় আমার তরমুজভর্তি ট্রাকটি ৩ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। তারপর ১৫০০ টাকা চাঁদা পরিশোধ করলে ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়। বিশ্বাসের হাট এলাকায় অপর ট্রাকচালক সফিউল্লাহ জানান, ইজারার রশিদ দিয়ে আমার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। খুলনার আ. হালিম ব্যাপারীর কাছ থেকে সুবন্দি বাজারের ইজারাদারের রশিদে তরমুজের ট্রাক বাবাদ ২৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ওদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়কারীরা জানান, ইজারা নিয়ে ইজারার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাক ও ব্যাপারীদের কাছ থেকে রশিদ দিয়ে তাঁরা টাকা তুলছেন। কোথা থেকে ইজারা নিয়েছেন এমন প্রশ্নের উত্তর তাঁরা দিতে পারেননি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সি এম রেজাউল করিম বলেন, তরমুজ পরিবহনে চাঁদা বন্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে তরমুজচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা নেই। এ রকম চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। '
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ মুঠোফোনে বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্তসাপেক্ষে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে। '
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত