শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৫৬ পিএম, ২০২২-০৪-১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ শেখ অছিকুল ইসলাম, খুলনার সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার এই ব্যক্তি মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন গ্রহনের জন্য বিআরটিএ খুলনা সার্কেলে গেলে মোটর সাইকেলের সকল কাগজপত্র সঠিক থাকার পরেও বিভিন্ন ধরনের হয়রানী করেন এই সার্কেলের অফিস সহায়ক লিখন শেখ। শেষে তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে একপর্যায়ে গায়ে হাত তোলে এই কর্মচারি। এই ঘটনায় আজ সকালে খুলনা খানজাহান আলী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী এই গ্রাহক।
অভিযোগ প্রদানের বিষয়টি প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন খানজাহান আলী থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক দেবেশ কুমার মন্ডল।
অভিযোগে উক্ত গ্রাহক উল্লেখ্ করেন, আজ ১৭ এপ্রিল আমার আপন বড় ভাইয়ের মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন করতে বিআরটিএ খুলনা সার্কেলের ১০১ নং রুমে গেলে লিগ্যাল কাগজপত্র থাকার সত্বেও সকাল ১০.৫০ মিনিট থেকে ১১.০৫ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে অফিস সহায়ক লিখন শেখ। এবং তাকে গাড়ীর কাগজ করে দিবে না মর্মে হুমকি প্রদান, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও গায়ে হাত তোলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। একই বিষয়ে তিনি বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবরেও লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে জানিয়েছেন শেখ অছিকুল ইসলাম।
এই বিষয়ে জানতে খুলনা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক তানভীর আহম্মেদ চৌধুরীর সাথে প্যাসেঞ্জার ভয়েস যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। শেখ অছিকুল ইসলামকে তার গাড়ির কাগজ পত্র করে দিয়েছি। এবং অফিস সহায়ক লিখন শেখকে শোকজ করার ব্যবস্থা করছি। ৭ দিনের মধ্যে লিখন শেখ জবাব দিতে না পারলে চেয়ারম্যান স্যার দেশে আসার সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় লিখন শেখ বিআরটিএ খুলনা সার্কেলের দালালদের গডফাদার হিসেবে পরিচিত। এই সার্কেলের সমস্ত অপকর্মে তিনি জড়িত আছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। একজন পিয়ন হিসেবে সে নিজের দায়িত্ব পালন না করে সে খুলনা সার্কেলের গ্রাহকদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি গাড়ীর রেজিষ্ট্রেশন গ্রহনের জন্য বিআরটিএতে আসা গ্রাহদের ফাইল জমা দিতে হয় লিখন শেখকে। কোন গ্রাহক তার ইচ্ছেমত ঘুষ প্রদান না করলে সেই গ্রাহককে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী, হুমকি ধমকি প্রদান করে সে। সার্কেলের সমস্ত ঘুষের লেনদেন এই অফিস সহায়ক করে বলে কোন কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ। মেক্যানিক্যাল এসিস্ট্যান্ট, অফিস সহকারী ও মোটরযান পরিদর্শকদের অবৈধ ঘুষ লেনদেনের ভাগ প্রদান করে বিধায় তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের ব্যবস্থা নেয়া হয়না। এভাবে গত ৪ বছর ধরে এই সার্কেলে অপকর্ম করছে লিখন শেখ।
কয়েকজন কর্মকর্তা না প্রকাশ না করার শর্তে প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, এই সার্কেলে সকল দায়িত্ব লিখন শেখ পালন করেন। রেজিষ্ট্রেশনের ফাইল জমা নেয়া, ফিটনেস সনদ নবায়নের ফাইল জমা নেয়া, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষার্থীদের রোল নং ইস্যু ও ফাইল জমা নেয়াসহ সকল কাজ সে করে থাকে। কোন কর্মকর্তা-কর্মচারি তাদের নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারে না। এই সার্কেলের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারিকে সে মূল্যায়ন করেনা। সে নিজেকে সহকারী পরিচালক ও উপ-পরিচালকের নিজস্ব লোক দাবী করে কব্জির জোড় দেখিয়ে সবাইকে জিম্মি করে রাখে এবং গ্রাহকের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করে, ঘুষের একটি অংশ সে কর্মকর্তাদের মাঝে ভাগ করে দেন। এবং অফিসে দালালদের আতুড়ঘর হিসেবে তৈরি করেছে। প্রতিদিন তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ থাকলেও এই পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়ার নজির নেই।
আগামী পর্বে পড়ুন>>> ঘুষখোর লিখন শেখের বাহুবলে খুলনা বিআরটিএর কর্মকর্তারা।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত