শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:০৭ পিএম, ২০২২-০৩-০৩
কক্সবাজার শহর থেকে সম্প্রতি ঘোষিত ঈদগাঁও উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। এ পর্যটন শহরের হোটেল–মোটেল জোন পেরিয়ে দুই কিলোমিটার যেতে চোখে পড়বে বন ও পাহাড় কেটে রেলপথ নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ। আরেকটু সামনে এগোলে ঈদগাঁও ইউনিয়নের শুরু। ওই পথের মোড়ে মোড়ে চোখে পড়বে হাতির ছবি দেওয়া বিলবোর্ড। লেখা, ‘হাতি চলাচলের পথ, সাবধানে চলুন’। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই রেললাইন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। ২০১৮ সালে ওই রেলপথের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে হাতি হত্যা ও মৃত্যু বেড়েছে।
এ সময়ের মধ্যে ৫৫টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকসংখ্যক হাতি মারা গেছে বিদ্যুৎসৃষ্ট ও অস্ত্রের আঘাতে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বনভূমি এলাকায় এসব ঘটনা বেশি ঘটেছে।
রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগে ওই সব এলাকায় বছরে তিন থেকে সাতটি হাতি মারা পড়ত। এ তথ্য খোদ বন বিভাগের। তবে প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন, বাংলাদেশের হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি।
আজ বিশ্ব বন্য প্রাণী দিবস। জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘বিপন্ন বন্য প্রাণী রক্ষা করি, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারে এগিয়ে আসি।’
আইইউসিএনের ২০১৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট হাতির সংখ্যা ২১০ থেকে ৩৩০। চট্টগ্রাম অঞ্চলে হাতি রয়েছে ২৬৮টি। সবচেয়ে বেশি হাতি দেখা যায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগে। এখানে হাতি রয়েছে ৬৫টি। কক্সবাজার দক্ষিণে ৫৪টি, উত্তরে ৬৩টি, লামায় ৩০টি, বান্দরবানে ১১টি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তরে ২৮টি এবং দক্ষিণে ১৭ হাতি রয়েছে।
অবকাঠামোর বিপদ
হাতির বসবাসের এলাকা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বনভূমি, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন বনভূমি, শেরপুর ও ময়মনসিংহের বনভূমির ভেতরে একের পর এক বিদ্যুৎ–সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। গত জানুয়ারিতে কক্সবাজারের ঈদগাঁও সংরক্ষিত বন, চুনতি বন, চকরিয়া, ফাসিয়াখালী বনভূমিতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইন দেখা গেল। বনের বাইরে সংরক্ষিত বন লেখা সাইনবোর্ড থাকলেও ভেতরে গিয়ে দেখা গেল, ধান চাষ হচ্ছে। ভেতরে গ্রাম এবং খণ্ড খণ্ড বসতি গড়ে উঠেছে। দেশের অন্যান্য এলাকার বনভূমির মধ্যে লাউয়াছড়া, লাঠিটিলা বনভূমিসহ অন্যান্য বনেও একইভাবে সড়ক, রেলপথ, বিদ্যুতের লাইন নেওয়া হয়েছে। এসবই হাতি হত্যা ও মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ পথের দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের ১২৮ কিলোমিটারের মধ্যে চুনতি দিয়ে যাবে ১৫.৮ কিলোমিটার, ফাঁসিয়াখালী বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য অঞ্চল দিয়ে ১০.৩ কিলোমিটার এবং দশমিক ৯ কিলোমিটার পথ যাবে মেধাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্কের মধ্য দিয়ে। ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুয়েল গেজ এ রেললাইন নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০২৩ সালে। এর মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতি চলাচলের ফুটওভারব্রিজসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে।
বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের পরিচালক মোল্লা রেজাউল করিম বলেন, ‘সরকারের অন্যান্য যেসব সংস্থা এসব অবকাঠামো নির্মাণ করছে, তাদের হাতি রক্ষার বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।’ তবে রেললাইনটির প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘আশা করি প্রকল্পটি নির্মাণ শেষ হলে হাতি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হবে না। বরং প্রকল্পের পাশে হাতির জন্য প্রয়োজনীয় গাছ রোপণ করা হচ্ছে, যাতে হাতি রেললাইনের কাছে না যায়।’
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার নির্মাণে হাতি চলাচলের আলাদা অবকাঠামো নির্মাণের প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নিজে সম্প্রতি ওই অবকাঠামোগুলো দেখে এসেছি। সেগুলো এমন ভুল নকশায় তৈরি করা হচ্ছে, যা হাতি চলাচলের উপযুক্ত নয়। এমনকি প্রয়োজনের চেয়েও অনেক কম পথ নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব অবকাঠামো হাতির নিরাপত্তা দিতে সহায়ক হবে না।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত