শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:১২ পিএম, ২০২২-০২-১৮
অর্থনীতি বড় হওয়ার সঙ্গে দেশে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক ও যানবাহনের পরিমাণ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে দেড় কোটি মোটরযান চালকের প্রয়োজন হতে পারে। সড়কে মানুষের জীবন নিরাপদ রাখার পূর্বশর্ত দক্ষ চালক। আর চালকের দক্ষতা আছে কি না, তাঁরা সড়কে যানবাহন চালানোর মতো যোগ্য কি না—এটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)। কিন্তু দক্ষ চালক নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সাংগঠনিক ক্ষমতা, কারিকুলাম নেই সংস্থাটির। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, চার স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সবার লাইসেন্স পাওয়ার কথা। কিন্তু আদতে কি সঠিকভাবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে? অনুসন্ধান বলছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যথাযথ যোগ্যতার যাচাই ছাড়াই লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে মানুষ।
বিশ্বের অতি দুর্ঘটনাপ্রবণ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ওপরের দিকে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। সরকারি হিসাবে, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৫ হাজার ৮৮ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। অবশ্য পুলিশের হিসাবের সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা দেশের বেসরকারি সংগঠনগুলোর তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬ হাজার ২৮৪ জন।
বিআরটিএর উচিত প্রথমে প্রশিক্ষক তৈরি করা। তারাই প্রথমে মোটরযান চালানো শেখাবে। বিআরটিএ প্রশিক্ষকদের তদারক করবে। এরপর প্রশিক্ষকের অধীনে লাইসেন্স প্রার্থী ঠিকভাবে শিখল কি না, তা যাচাই করবে বিআরটিএ। একই সঙ্গে প্রার্থীদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও লাগবে।
মোটরযানের চালক কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়। যেসব সড়ক দুর্ঘটনার পর মামলা বা সাধারণ ডায়েরি হয়, সেগুলোর তথ্য সংরক্ষণ করে পুলিশ। এর মধ্যে একটি ফরমে দুর্ঘটনার কারণও উল্লেখ করতে হয় তাঁদের। পুলিশের দেওয়া তথ্য ধরে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই)। ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তাদের তথ্যে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার পেছনে চালকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এআরআইয়ের হিসাবে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এসব তথ্য থেকে পরিষ্কার, সড়কে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি কমাতে মোটরযানের চালকের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে লাইসেন্স পেতে প্রথমে একজন আগ্রহীকে বিআরটিএ থেকে লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স কার্ড গ্রহণ করতে হয়। এই কার্ড দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে বাকি তিনটি পরীক্ষা—লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিকে (চালিয়ে দেখানো) অংশ নেওয়ার তারিখ জানিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ বিআরটিএ থেকে লার্নার কার্ড নেওয়ার পর সেটি দিয়ে যানবাহন চালাতে পারবেন না কেউ। এ সময়ে ওই ব্যক্তি যানবাহন চালানো, সড়ক ব্যবহার আইন, সড়কের নানা সাইন-সংকেত শিখে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
লার্নার কার্ড পেয়ে যানবাহন চালানো শেখা এবং অন্যান্য আইনকানুন জানার কাজটি কোথায় হবে, কীভাবে হবে—সেটি সড়ক পরিবহন আইনে পরিষ্কার করে বলা নেই। ফলে কেউ যায় অখ্যাত চালক লাইসেন্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে, কাউকে কাউকে শিখতে হয় পরিচিতদের কাছ থেকে। আর কেউ শেখে পেশাদার চালকের কাছে। এমন চালক ওস্তাদ নামে পরিচিত। দেশে বিআরটিএর অনুমোদিত ১৪০টির মতো চালক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্ভাব্য চালকদের কী শেখাচ্ছে, কোথায় শেখাচ্ছে, এর কোনো তদারকি নেই বিআরটিএর।
ফলে লাইসেন্স প্রার্থীদের অনেকেই পরীক্ষা এড়ানোর জন্য দালাল ধরেন। আর যাঁরা পরীক্ষায় অংশ নেন, তাঁরা লিখিত পরীক্ষার উত্তর দেন শুনে শুনে। যানবাহন চালিয়ে দেখানোর পর্যাপ্ত জায়গা বিআরটিএর নেই। এমন একটা পরিস্থিতিতে যেনতেনভাবেই শেষ হয় গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষাপর্ব।
ফলে অনেক সময় বৈধ লাইসেন্সধারী চালক পুরোপুরি দক্ষতা অর্জন করতে পারেন না। আবার অনেক চালকের যানবাহন চালানোর দক্ষতা থাকলেও বৈধ লাইসেন্স নেই। তবে সব ধরনের চালকের মধ্যেই সড়ক ব্যবহারসংক্রান্ত আইন, সাইন-সিগন্যাল সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত।
লার্নার কার্ড পেয়ে যানবাহন চালানো শেখা এবং অন্যান্য আইনকানুন জানার কাজটি কোথায় হবে, কীভাবে হবে—সেটি সড়ক পরিবহন আইনে পরিষ্কার করে বলা নেই। ফলে কেউ যায় অখ্যাত চালক লাইসেন্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে, কাউকে কাউকে শিখতে হয় পরিচিতদের কাছ থেকে। আর কেউ শেখে পেশাদার চালকের কাছে। এমন চালক ওস্তাদ নামে পরিচিত।
পরীক্ষা হয় যেনতেন
সরকারের কাছে কাগজে-কলমে চালকের লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবেই বিবেচিত। পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কাদের দায়িত্ব দেওয়া আছে, সেদিকে তাকালে এর কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়। মহানগর পর্যায়ে বিআরটিএর প্রতিটি কার্যালয়ে লাইসেন্সের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য একটি বোর্ড রয়েছে। এর নাম ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেস্ট বোর্ড। এর চেয়ারম্যান হচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)। সদস্য হলেন উপ বা সহকারী পুলিশ কমিশনার, মেডিকেল কলেজের একজন সহকারী অধ্যাপক, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের মেকানিক্যাল বা অটোমোবাইল বিভাগের একজন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও মোটরযান পরিচালনায় জ্ঞানসম্পন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একজন প্রশিক্ষক। আর বোর্ডের সদস্যসচিব বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বা মোটরযান পরিদর্শক।
তবে অনুসন্ধান বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরীক্ষাস্থলে বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত থাকেন না। কেউ কেউ অধীন ব্যক্তিদের পাঠিয়ে দায় সারেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের লাইসেন্স দিতে হলে সব সদস্যের সই প্রয়োজন। প্রতিনিধি দিয়ে তা সম্ভব নয়। এ জন্য বিআরটিএর অফিস সহকারীরা উত্তীর্ণ তালিকা সই করিয়ে আনতে কর্তাদের কার্যালয়ে দৌড়ঝাঁপ করেন। সদস্যদের সম্মানীর বাইরে তালিকা অনুমোদন করার জন্য বাড়তি অর্থ চাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া যায়।
সম্প্রতি বিআরটিএর একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বোর্ডের যেসব সদস্য নিজে আসেন কিংবা প্রতিনিধি পাঠান, তাঁদের একটা কক্ষে বসিয়ে চা-নাশতা খাওয়ানো হয়। এই ফাঁকে বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শকেরা লাইসেন্স প্রার্থীদের একসঙ্গে এক কক্ষে নিয়ে লিখিত পরীক্ষা নেন। মোটরযানের কারিগরি দিক ছাড়াও সড়ক ব্যবহারের নানা আইন-নির্দেশনা সম্পর্কে প্রশ্ন থাকে। অধিকাংশ পরীক্ষার্থীই এসব প্রশ্নের উত্তর জানেন না। সময় বাঁচানোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘ওই প্রশ্নের উত্তর অমুক’ এমন বলে চিৎকার করে সবাইকে জানিয়ে দেন। এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষার যে প্রশ্নপত্র, সেটাও হালনাগাদ হয় না। একই প্রশ্ন ঘুরেফিরে বছরের পর বছর চলছে।
ব্যবহারিক পরীক্ষার অবকাঠামো নেই
মোটরযানচালকদের দক্ষতা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক কিছু মানদণ্ড আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যবহারিক পরীক্ষায় যানবাহন চালানোর সক্ষমতা দেখা। এর জন্য ড্রাইভিং ট্র্যাক, র্যাম্প, ড্রাইভিং সিমুলেটর, কম্পিউটারাইজড হলরুম জরুরি। নতুন চালকদের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত প্রশিক্ষণ ও সেমিনার কক্ষও প্রয়োজন।
মোটরযানের কারিগরি দিক ছাড়াও সড়ক ব্যবহারের নানা আইন-নির্দেশনা সম্পর্কে প্রশ্ন থাকে। অধিকাংশ পরীক্ষার্থীই এসব প্রশ্নের উত্তর জানেন না। সময় বাঁচানোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘ওই প্রশ্নের উত্তর অমুক’ এমন বলে চিৎকার করে সবাইকে জানিয়ে দেন। এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষার যে প্রশ্নপত্র, সেটাও হালনাগাদ হয় না। একই প্রশ্ন ঘুরেফিরে বছরের পর বছর চলছে বাংলাদেশে এর কোনোটিই নেই। সারা দেশে জেলা ও মহানগর মিলে বিআরটিএর কার্যালয় আছে ৬৯টি। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমিতে কার্যালয় আছে ৫টি। এগুলোতে স্বল্প পরিসরে চালকদের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ আছে। তবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এত বেশি যে তাঁদের দাঁড়ানোরও জায়গা থাকে না। ফলে সবার চালানো দেখে পরীক্ষা নেওয়া হয় খুবই কম।
বাকি ৬৪টি কার্যালয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কোনায় এক-দুই কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কক্ষে শুধু দালিলিক কার্যক্রম চালানো হয়। যথাযথ পরীক্ষা নিয়ে চালকের লাইসেন্স দেওয়ার সুযোগই নেই। কখনো কখনো স্থানীয় স্কুলের মাঠ বা খোলা জায়গাকে পরীক্ষা নেওয়ার অস্থায়ী স্থান হিসেবে দেখানো হয়। তবে এসব স্থানে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা চোখে পড়ে না।
এমনকি চালকেরা যে যানবাহনে করে পরীক্ষা দেবেন, সেটি নিজের হবে নাকি ভাড়া করা হবে—এই বিষয়েও বিআরটিএর কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে চালকেরা পরীক্ষা দিতে এসে বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে থেকে গাড়ি বা মোটরসাইকেল ভাড়া করেন। এ জন্য একধরনের ব্যবসাও গড়ে উঠেছে। অনেকে বাস, ট্রাক কিংবা লরির মালিকের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেবেন, এমন সুযোগও নেই। কারণ, বিআরটিএর পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ফলে এদের ব্যবহারিক পরীক্ষা সেভাবে হয় না।
লোকবল সংকট
সড়ক পরিবহন আইনে বিআরটিএর ১৬টি কার্যাবলির উল্লেখ রয়েছে। এর জন্য জনবলের প্রস্তাব করা হয়েছিল ৩ হাজার ৫৮৭ জনের। কিন্তু সরকারের অনুমোদন আছে ৮২৩ জনের। বাস্তবে আছে এর চেয়েও কম। চালকের লাইসেন্স দেওয়ার পরীক্ষা এবং এ–সংক্রান্ত নথিপত্র তৈরির কাজটি করে থাকেন মোটরযান পরিদর্শকেরা। এ পদে সারা দেশে লোকবল আছে ১২৫ জন।
ঢাকায় বিআরটিএর মিরপুর কার্যালয়ের অধীনে সপ্তাহে দুই দিন চালকের পরীক্ষা নেওয়া হয়, জোয়ারসাহারায় বিআরটিসি ডিপোতে। প্রতিদিন পরীক্ষার্থী অংশ নেন ৬০০ থেকে ৯০০ জন। ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়ে মাসে এক-দুবার পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেখানেও ১৫০-২০০ পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
আইন অনুযায়ী, প্রথমে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর মৌখিক পরীক্ষায় ৫-৬টি করে সড়কের সাইন-সংকেত বিষয়ে প্রশ্ন করার নিয়ম। অন্তত তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে উত্তীর্ণ ধরা হয়। এরপর মাঠে গিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেখাতে হয়। এই তিন পর্বের পরীক্ষার জন্য কম করে হলেও ৩০ মিনিট দরকার। এ ক্ষেত্রে ৬০০ পরীক্ষার্থীর পেছনে ৩০০ ঘণ্টা দরকার। ধরে নেওয়া হচ্ছে একাধিক মোটরযান পরিদর্শক ভাগ করে পরীক্ষা নেন। এ ক্ষেত্রে চারজন পরিদর্শক থাকলেও একেকজনের ভাগে ১৫০ জন পরীক্ষার্থী পড়ে। এতেও প্রত্যেকের ৭৫ ঘণ্টা দরকার। বাস্তবে এর কোনোটাই হয় না।
পরীক্ষার্থীদের অনেকে সশরীর উপস্থিত হন না। না এসেই দালালের মাধ্যমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছেন। আবার এলেও পাঁচ-দশ মিনিটের বেশি কাউকেই সময় দেওয়া হয় না।
দেশে মোটরযান ও চালকের সংখ্যা
বিআরটিএর হিসাবে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের সংখ্যা ৫০ লাখের কিছু বেশি। গত বছর সাড়ে চার লাখ যানবাহন নতুন যুক্ত হয়েছে। এই হারে যানবাহন বাড়তে থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ যানবাহনের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এ সময় চালকের প্রয়োজন পড়বে প্রায় দেড় কোটি।
মোটরসাইকেল কিংবা কারের প্রতিটির জন্য একজন চালক ধরা হয়। তবে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস এবং মালবাহী ট্রাকের জন্য গড়ে তিনজন চালক দরকার বলে বিশেষজ্ঞ মত। কারণ, এসব যান ২৪ ঘণ্টাই চলাচল করে। সড়ক পরিবহন আইন অনুসারে, একজন চালক আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে পারবেন না। টানা পাঁচ ঘণ্টা চালানোর পর বিরতি নিতে হবে। এ ধরনের যানবাহন আছে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার।
গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মোটরযানের লাইসেন্স আছে ৪৪ লাখ ৪৪ হাজার। অর্থাৎ নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যার চেয়েও লাইসেন্স কম। যত লাইসেন্স, তত চালকও নেই। কারণ, একজন ব্যক্তির একাধিক ধরনের লাইসেন্স থাকতে পারে। যেমন কেউ মোটরসাইকেল এবং হালকা যানবাহনের লাইসেন্স নিলে দুটি লাইসেন্স হিসেবে গণ্য হবে। এ বিবেচনায় দেশে যানবাহনের চেয়ে চালকের সংখ্যা অনেক কম। বিআরটিএর হিসাবে, লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা ৩৫ লাখের মতো।
চালকের লাইসেন্স দেওয়া থেকে শুরু করে ফিটনেস সনদ প্রদান, নিবন্ধন, মালিকানা বদলি, রুট পারমিট দেওয়া—বিআরটিএ যেসব সেবা দিয়ে থাকে, তা গ্রাহককে উচ্চ মূল্যে নিতে হয়। বিআরটিএর কোনো কাজেই সরকার কোনো ভর্তুকি দেয় না। গত অর্থবছর কর ও ফি বাবদ গ্রাহকের
কাছ থেকে ৩ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা আদায় করেছে বিআরটিএ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, মোটরযানচালক একটি আন্তর্জাতিক পেশা। ১৯৪৬ সালে জাতিসংঘ এটিকে সর্বজনীন করে দিয়েছে। সব দেশের জন্য সড়কে একই ধরনের সাইন-সংকেত করা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে লাইসেন্স পাওয়া চালকদেরও আন্তর্জাতিক মানের হওয়া উচিত। কিন্তু বিআরটিএ আন্তর্জাতিক রীতিনীতির বাইরে গিয়ে যেনতেনভাবে লাইসেন্স দিচ্ছে। ফলে সড়কে যে প্রাণহানি, এর দায় সংস্থাটিরও। ২০-৩০ মিনিট নামকাওয়াস্তে পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স দেওয়া আত্মঘাতী। এটা বন্ধ করতে হবে।
সামছুল হক বলেন, বিআরটিএর উচিত প্রথমে প্রশিক্ষক তৈরি করা। তারাই প্রথমে মোটরযান চালানো শেখাবে। বিআরটিএ প্রশিক্ষকদের তদারক করবে। এরপর প্রশিক্ষকের অধীনে লাইসেন্স প্রার্থী ঠিকভাবে শিখল কি না, তা যাচাই করবে বিআরটিএ। একই সঙ্গে প্রার্থীদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও লাগবে।
সূত্র: প্রথম আলো
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত