নারী সাংবাদিকের নামে ‘অশ্লীল ভিডিও’: আটক ২,যা বলল পুলিশ

Passenger Voice    |    ০৫:১৪ পিএম, ২০২২-০২-১৪


নারী সাংবাদিকের নামে ‘অশ্লীল ভিডিও’: আটক ২,যা বলল পুলিশ

বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের একজন সুপরিচিত নারী সাংবাদিক ও উপস্থাপিকার নামে ভুয়া অশ্লীল ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশকে উদ্বৃত করে বিবিসি বাংলা তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, যাদের আটক করা হয়েছে তারা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। 

অন্যদিকে যে নারী সাংবাদিকের নামে এই ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হয়েছে তিনি সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ৭১-এ কাজ করেন। নাজনীন মুন্নী ওই চ্যানেলের একজন সুপরিচিত সাংবাদিক ও উপস্থাপিকা। মুন্নী বিবিসিকে বলেন, অনলাইনে বুলিং ও হয়রানি আমার জন্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার আমি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি- তা সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অন্য একটি অশ্লীল ভিডিওতে আমার নাম ব্যবহার করে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

নাজনীন মুন্নী মনে করেন, তার পেশার কারণেই তিনি এ ধরনের হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। তার ভাষ্য, ‘আমি যে টেলিভিশন চ্যানেলে কাজ করি সেটির এক ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় আছে। সবাই মনে করে যে এটা আসলে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে বা সরকারের পক্ষ হয়ে কাজ করে। সেদিক থেকে আমরা সবসময় তোপের মুখে থাকি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর।’

মুন্নী বলেন, ফেসবুকে আমার এক ফলোয়ার আমাকে প্রথম জানান যে আমার নামে একটি ভুয়া ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়েছে। আমার একটা নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ আছে। সেখানে আমার কিছু ফলোয়ার এসে নক দেওয়া শুরু করলেন যে আপু আপনার নামে একটা অশ্লীল ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। আপনি জানেন কি না? এক ফলোয়ার যখন আমাকে ইনবক্সে ভিডিওটা পাঠালেন বিষয়টি আমার জন্য খুবই শকিং ছিল, খুবই শকিং ছিল।

সাংবাদিক নাজনীন মুন্নীর নামে এই ভুয়া ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে তিনি গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। এরপর পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান জোনের উপকমিশনার মো. আসাদুজ্জামান শনিবার সাংবাদিকদের জানান, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে এবং তারা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

সাংবাদিক নাজনীন মুন্নী বলেন, ‘আমার নামে ভুয়া অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি আমার মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ তৈরি করেছে। সেজন্য আমি জানতে চাই এরসঙ্গে কারা জড়িত। কে বিশ্বাস করল আর কে বিশ্বাস করল না, তার চেয়েও বেশি মনে হচ্ছিল যে এই ঘটনা কে ঘটাচ্ছে আমার তাকে দেখতে হবে।’ তিনি জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে টার্গেট করা হয়েছে। পুলিশও তাই মনে করছে।