শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:৩১ পিএম, ২০২২-০২-০৭
সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে রাজধানী ঢাকায় ছয়টি মেট্রোরেল গড়ে তুলছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ চালু হবে সবক’টি মেট্রো। উত্তরা-মতিঝিল-কমলাপুরের মধ্যে বর্তমানে একটি মেট্রোর (এমআরটি-৬) কাজ চলমান রয়েছে। বিমানবন্দর-কমলাপুর; নতুনবাজার-পূর্বাচল (এমআরটি-১) ও হেমায়েতপুর-মিরপুর-ভাটারার (এমআরটি-৫, নর্দান রুট) মধ্যে আরো দুটি মেট্রো নির্মাণ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়েছে। ঢাকার পর বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। চট্টগ্রামে পরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা এবং মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার করতে একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
চট্টগ্রামে পরিবহন পরিকল্পনা ও মেট্রো নির্মাণের সমীক্ষা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা। কোরিয়া সরকারের অনুদানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে এরই মধ্যে কোরিয়া থেকে একটি বিশেষজ্ঞ সার্ভে টিম বাংলাদেশ সফরে এসেছে। দলটি ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি সময়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবে বলে গতকাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী।
গতকাল সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জাং কেউন এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর খিম থে হিয়ন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় প্রায় ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এতে কোরীয় সরকারের অনুদান ৫১ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য একটি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে। এর পাশাপাশি ম্যাস ট্রানজিট লাইন বা মেট্রোরেলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও করা হবে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান নগরীর উন্নয়ন চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে সার্কুলার রোড, রেডিয়াল রোড, মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, বাস টার্মিনালের জন্য স্থান নির্ধারণ, বাস রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার সমীক্ষাও সম্পন্ন করা হবে। এ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রাম বন্দর হয়েই দেশের সিংহভাগ আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। চট্টগ্রামের অফুরন্ত সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। মন্ত্রী এ সময় চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের এ শুভলগ্নে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন এবং চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্নের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় কোরিয়া সরকার ও কোইকাকে ধন্যবাদ জানান। ঢাকার ছয়টি মেট্রোর মধ্যে বর্তমানে একটির কাজ চলমান। উত্তরা-মতিঝিল-কমলাপুরের মধ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে এ লাইনটি। চলতি বছরের ডিসেম্বরে লাইনটির প্রথম অংশ উত্তরা-আগারগাঁওয়ের মধ্যে যাত্রী পরিবহন শুরুর পরিকল্পনা করছে সরকার। একইভাবে পুরো লাইনটি আগামী বছরের ডিসেম্বরে যাত্রী পরিবহন শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ঢাকার প্রথম পাতাল মেট্রো নির্মাণ করা হচ্ছে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুরের মধ্যে। ২০ কিলোমিটার পাতালপথের পাশাপাশি নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার উড়ালপথও হবে একই প্রকল্পে। এটিকে অভিহিত করা হচ্ছে এমআরটি লাইন-১ নামে। পুরো রোলিংস্টকসহ লাইনটি বানাতে খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে জাইকা। অবশিষ্ট ১৩ হাজার ১১১ কোটি টাকার জোগান দিচ্ছে সরকার। অনুমোদন হওয়া ঢাকার তৃতীয় মেট্রো এমআরটি-৫-এর নর্দান রুট। হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যালে মোড় নিয়ে মিরপুর-১০ দিয়ে সোজা ভাটারা পর্যন্ত যাবে। এর ২২ কিলোমিটারের রুটটির সাড়ে ১৩ কিলোমিটার হবে আন্ডারগ্রাউন্ড (পাতাল)। শুরুতে হেমায়েতপুর-আমিনবাজার ও শেষে নতুনবাজার-ভাটারা অংশের সাড়ে ছয় কিলোমিটার হবে উড়ালপথ (এলিভেটেড)। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো লাইনটিতে নির্মাণ করা হবে ১৪টি স্টেশন। এর মধ্যে উড়াল অংশে নির্মাণ করা হবে পাঁচটি স্টেশন। প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে মেট্রোটি নির্মাণে।
পরিকল্পনাধীন এমআরটি-৫-এর সাউদার্ন রুটটি হবে গাবতলী-আসাদগেট-রাসেল স্কয়ার-পান্থপথ-সোনারগাঁও হোটেল-হাতিরঝিল-রামপুরা-আফতাবনগরের মধ্যে। ২০৩০ সালের মধ্যে লাইনটি বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। একইভাবে কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জের মধ্যে এমআরটি-৪ ও আশুলিয়া-সাভার-গাবতলী-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-কমলাপুরের মধ্যে এমআরটি-২ গড়ে তোলা হবে ২০৩০ সালের মধ্যে।
সূত্র: বনিক বার্তা
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত