ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে এত ভোগান্তি!

Passenger Voice    |    ০২:২৫ পিএম, ২০২২-০২-০৫


ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে এত ভোগান্তি!

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রায় ১২ লাখ আবেদনকারী আছেন অনিশ্চয়তায়। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত আবেদনকারীদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ২০১৯ সালের আবেদনকারীরাই এখনো লাইসেন্স পাননি। চালকের ভিসা নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশে ২০১৯ সালের নভেম্বরে হালকা যানবাহনের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করেন আইনুল মোল্লা। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন; আঙুলের ছাপও দেন। পরের বছরের ৩০ আগস্ট তাকে লাইসেন্স দেওয়ার কথা ছিল। এরমধ্যে তিন বছরের বেশি সময় পার হয়। দফায় দফায় সময় দেওয়া হলেও লাইসেন্স পাওয়া হয়নি আইনুলের। নতুন করে সময় পড়েছে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর। তত দিনে প্রায় তিন বছর সময় হবে, কিন্তু লাইসেন্স পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্বে থাকা সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে বলা হয়েছে, লাইসেন্স হয়ে গেলে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। আইনুল বলেন, ‘লাইসেন্স করতে দিছি বিদেশ যাইতে, লাইসেন্স না পাওয়ায় বিদেশ যাওয়াও অইল না। এখন বিআরটিএ যে সিলিপ দেয়, দেখাইলে ট্রাফিক কিছু বলে না, তবে কয়েক দিন পরপর নতুন করে মেয়াদ বাড়াইতে বিআরটিএ অফিসে যাইতে হয়।’

আইনুলের মতো প্রায় ১২ লাখ লাইসেন্স প্রার্থী আছেন এ রকম অনিশ্চয়তায়। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত আবেদনকারীদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ২০১৯ সালের আবেদনকারীরাই এখনো লাইসেন্স পাননি। তাই যারা ২০২১ সালে আবেদন করেছেন, তাদের সিরিয়াল আসতে কত সময় লাগবে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

জাল, অবৈধ বা ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারের প্রবণতা প্রতিরোধে ২০১১ সাল থেকে ইলেকট্রনিক চিপযুক্ত ডিজিটাল স্মার্টকার্ড-সংবলিত ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করা হয়। বিআরটিএর কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে সব জটিলতা কেটে যাবে। ভোগান্তি ছাড়াই আবেদনকারীরা পর্যায়ক্রমে তাদের লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। এদিকে, সম্প্রতি মিরপুরের বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ গ্রাহকই লাইসেন্স না পেয়ে রসিদে সময় বাড়িয়ে নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

সেদিন সৈয়দ ফজলুল করিম নামের একজন জানান, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে হালকা যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে এখনো পাননি। তিনি বলেন, ‘চারবার এসেও লাইসেন্স পাইনি। আজও পাওয়ার আশায় আসিনি, তবে কাগজের মেয়াদ না থাকলে পুলিশ ঝামেলা করে, তাই মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আসছি।’

২০১৯ সালের অক্টোবরে আবেদন করে এখনো লাইসেন্স পাননি রফিকুল ইসলাম। সাখাওয়াত হোসেন ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে এখনো পাননি। তাকে নতুন সময় দেওয়া হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর। বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘পেন্ডিং লাইসেন্স সরবরাহে আমরা বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিকে কাজ দিয়েছি। আশা করি আগামী তিন বা চার মাসের মধ্যে সবাই লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। এভাবে তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের এখন যে প্রডাকশন আছে, তা আরো বাড়বে।’

তিন মাসের মধ্যে কার্ড পেলে বিআরটিএ থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময় দেওয়া হচ্ছে কেন, জানতে চাওয়া হলে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘টাইম বাড়িয়ে দিলে তো সমস্যা নেই। কারণ কার সিরিয়াল কখন আসে, তার কোনো ঠিক নেই। তাই সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে তারা তার আগেই স্মার্টকার্ড পেয়ে যাবেন। একটু দেরি হলেও যেন আবার আসতে না হয়, সেজন্যই বাড়তি সময় দেওয়া।’

শুধু পুরোনো নয়, নতুনেও দেরি : পুরোনো লাইসেন্সের তুলনায় সময় কম লাগলেও নতুন লাইসেন্সেরও বেশ দেরি হওয়ার অভিযোগ করেন অনেক গ্রাহক। তাদের একজন রুবাইয়াত আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আগের লাইসেন্স হারিয়ে ফেলায় ৩১ জানুয়ারি নতুন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু আমাকে পরবর্তী যোগাযোগের সময় দেওয়া হয়েছে আগামী ২৪ জুলাই। প্রায় ছয় মাস। আমার তো বায়োমেট্রিকও লাগবে না। তাহলে এত সময় লাগছে কেন? সার্ভার থেকে তথ্য যাচাই করেই তো প্রিন্ট দেওয়া সম্ভব। না হলে এক মাস সময় লাগতে পারে। এত সময় লাগলে তাহলে ডিজিটাল হয়ে কী লাভ হলো?’

জুলাইয়েও লাইসেন্স পাওয়ার কোনো ঠিক নেই। অফিস থেকে বলছে, লাইসেন্স হলে মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে বিআরটিএ চেয়ারম্যান দাবি করেন, নতুন আবেদনে তেমন সময় লাগছে না। পুরোনোগুলোতে একটু সময় লাগলেও নতুনগুলো দ্রুত দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা দিয়ে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) দিলে পাঁচ সাত দিনের মধ্যেই পেয়ে যাচ্ছেন।

 

সুত্র: প্রতিদিনের সংবাদ