অবহেলিত রেলে উন্নয়ন বরাদ্দ বেড়েছে বহুগুণ

যাত্রী সেবায় নেই কোনো উন্নয়ন, ট্রেন নয় যেনো ‘লোকাল বাস’

Passenger Voice    |    ১১:৩৩ এএম, ২০২২-০২-০১


যাত্রী সেবায় নেই কোনো উন্নয়ন, ট্রেন নয় যেনো ‘লোকাল বাস’

দীর্ঘদিন অবহেলিত রেলে উন্নয়ন বরাদ্দ বেড়েছে বহুগুণ। গত পাঁচ বছরে উন্নয়নে খরচ হয়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা। বিপুল বিনিয়োগের পরও লাইনের ঝুঁকি বিবেচনায় কমানো হয়েছে ট্রেনের গতি। শুধু তাই নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ আর ফিটনেসবিহীন ইঞ্জিন দিয়েই চলছে যাত্রী পরিবহন। এছাড়া ৭০ শতাংশ রেল সেতুও ঝুঁকিপূর্ণ। গত ১০ বছরে রেলের উন্নয়নে খরচ হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। যা ছাড়িয়েছে পদ্মা সেতুকেও। বিপুল বিনিয়োগের পরও দশ বছরে রেলের লোকসান সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। অথচ এখনও ৮০ শতাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন আর ৬৩ ভাগ ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন দিয়েই চলছে ট্রেন।

বিপুল পরিমানে বিনিয়োগের পরও ট্রেনের গতিও বাড়েনি একটুও। বরং অনেক রুটেই কমেছে ট্রেনের গতি। কোথাও কোথাও চালকদের ধীর গতিতে ট্রেন চালানোর নোটিশও দেয়া হয়েছে। সেই ব্রিটিশ আমলেও ইঞ্জিন দিয়ে এখনও চলছে রেল, পাকিস্তান আমলের ইঞ্জিনও চলছে কোথাও কোথাও। মেয়াদোত্তীর্ণ এসব ইঞ্জিনের মধ্যে কিছু কিছু আবার মেরামত করে চালানো হচ্ছে।

একদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ লাইন-দুই মিলিয়ে ট্রেনের গতি যেন লোকাল বাসের চেয়েও কমে এসেছে। কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ গতি ২০ কিলোমিটার বেঁধে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।১০ বছর আগে যাত্রীদের যে সব অভিযোগ ছিল তার একটুও কমেনি। যাত্রী সেবার মান বাড়েনি একটুও। এখনও ট্রেনের জন্য প্লাটফর্মে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। টিকিট যেন সোনার হরিণ। গাদাগাদি করেই বসতে হয় যাত্রীদের। তাদের অভিযোগ, কমলাপুর থেকে সিরাজগঞ্জ যেতে আগে যেখানে সময় লাগত তিন ঘণ্টা, সেখানে এখন লাগে সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। এছাড়া প্লাটফর্মে এসে অপেক্ষার প্রহর তো আছেই।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় মিলছে না সুফল। অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে মুখ থুবড়ে পড়ছে রেল।বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হকের মতে, রেলে অনেক উন্নয়ন হচ্ছে- এটা ঠিক। কিন্তু সেটা অবকাঠামো উন্নয়ন, যাত্রীদের সেবায় কোনো উন্নয়ন নেই। এখানেই রেলওয়ে ভুল করে যাচ্ছে।

রেল মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলছেন, রেলের সামর্থ্য অনুযায়ী এই খাতকে স্বাবলম্বী করতে স্বল্পমেয়াদী থেকে নেওয়া হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। আমরা সবধরণের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।বর্তমানে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৪৩টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান।