শিরোনাম
৩৬ বছরেও চালু হয়নি বাকৃবির রেলস্টেশন
Passenger Voice | ১২:৩৭ পিএম, ২০২২-০১-২৪
বন্ধের তিন যুগ পেরিয়ে গেলেও ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) রেলস্টেশনটি এখনো চালু হয়নি। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে এ স্টেশনে থামে না কোনো ট্রেন। ফলে স্টেশনের প্লাটফর্মটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কয়েক প্রজন্ম পেরিয়ে গেলেও ক্যাম্পাসের স্টেশনটি চালু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। জানা যায়, ১৯৮৭ সালে তোফাজ্জল হোসেন নামে একজন টিকিট টেকার (টিটি) উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ট্রেনের কেবিনের ভেতর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে তিনি নিহত হন। এরপর ৩৬ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকে সারা দেশে রেলস্টেশনগুলো। পরে বাকি সব রেলস্টেশন চালু হলেও বন্ধ থাকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত রেলস্টেশনটি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশ থেকে আসা প্রায় সাত হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। এছাড়া ক্যাম্পাসের পাশেই রয়েছে কয়েকটি গ্রাম। যেখানে বসবাস করে প্রায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ। সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলস্টেশনটি চালু হলে সবার ভোগান্তিই অনেকটা কমে যেত। কারণ ময়মনসিংহ জেলার সঙ্গে আশপাশের জেলার সড়ক ব্যবস্থা বেহালের কারণে রেলপথই এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নিরাপদ মাধ্যম। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীসহ সবার পছন্দ রেলপথ।
বাকৃবিতে শ্রেণীকক্ষের বাইরে যে কয়টি জায়গায় শিক্ষার্থীদের প্রাণের উচ্ছ্বাস দেখা যায়, সেই তালিকার প্রথম দিকে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লাটফর্ম। বহু বছরের পুরনো সারি সারি গাছের ছায়া, সঙ্গে পাখির কলকাকলি, ধোঁয়া ওঠা চা, বাকৃবি শিক্ষার্থীদের কাছে রেলস্টেশনটির প্লাটফর্ম যেন অন্য এক ভালোবাসার জায়গা। এ প্লাটফর্মের সামনে দিয়েই ঢাকা-ময়মনসিংহগামী ১৫টির বেশি ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু থামে না একটিও। কয়েক দশকের পরিক্রমায় টিকিট কাউন্টার ও সিগন্যাল ইউনিটটিও জরাজীর্ণ অবস্থায় রূপ নিয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেমু ট্রেন চালু করতে রেল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ দিন পার হলেও রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বাকৃবিতে সেই ডেমু ট্রেন চালু হয়নি।
রেলস্টেশন চালু করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার পরিষদের তত্কালীন সভাপতি মো. লুত্ফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মাহবুবুর রশীদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেয়া হয়। চিঠিতে সব ধরনের ট্রেনে বাকৃবি স্টেশনে যাত্রী ওঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করা হয়। কিন্তু কোনো ফল মেলেনি। স্থানীয় সুতিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, রেলস্টেশনটি চালু হলে আমাদের চলাচলে অনেক সুবিধা হতো। আমরা দ্রুত রেল স্টেশনটি চালুর দাবি জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুত্ফুল হাসান বণিক বার্তাকে জানান, রেলস্টেশনটি চালু হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমে যেত। তাই রেলস্টেশনটি চালু করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। শিগগিরই রেলস্টেশনটি চালু করার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত