শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৩৬ পিএম, ২০২২-০১-১২
মঙ্গলবার, রাত আনুমানিক আটটা। রাজধানীর কারওয়ানবাজারের অদূরে এফডিসি সংলগ্ন রেলগেটের পাশের পিলারে বিপদসংকেত লাল বাতি জ্বলছে। মিনিটখানেক আগেই ব্যারিকেড ফেলে দু’পাশের রাস্তার সব ধরনের যানবাহন আটকে দেওয়া হয়েছে। এসময় উল্টো রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার রেললাইনের দিকে ছুটে আসে। রেলগেট থেকে পাঁচ তারকা হোটেল সোনারগাঁওমুখী রাস্তায় যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ থাকায় প্রাইভেটকারটির পেছনের দুটি চাকা রেললাইন অতিক্রম করতে পারছিল না। এসময় গাড়ির চালক প্রথমে হর্ন বাজিয়ে ও পরে দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে সামনের গাড়িকে একটু জায়গা করে দিতে অনুরোধ জানান। কিন্তু পুরো রাস্তা যানবাহনে ঠাসা থাকায় সামনের গাড়িটি কিছুতেই সামনে এগোতে পারছিল না।
প্রাইভেটকারটির অর্ধেক অংশ রেলের ওপর দেখে উপস্থিত পথচারীসহ অন্যান্য গাড়ির যাত্রীরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেন। সবাই বারবার তেজগাঁও রেলস্টেশনের দিকে তাকাচ্ছিল। দেখছিল, কোনো ট্রেন এসে পড়লো কি না! এভাবেই মিনিট দুই কাটে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায়। এরপর রেলের ওপর থাকা প্রাইভেটকারের চাকা দুটি কোনোরকমে রেললাইন থেকে নিরাপদে সামনে সরে আসে। আর ঠিক তখনই তেজগাঁও রেলস্টেশন থেকে লম্বা হুইসেল বাজিয়ে একটি ট্রেন দ্রুত ছুটে আসতে থাকে। তাতে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পায় প্রাইভেটকারটি। সরেজমিনে এ প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তের অবতারণা হয়।
দেখা গেছে, প্রতিটি লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন আসার মাত্র কয়েক মিনিট আগেই দুপাশে ব্যারিকেড ফেলে যানবাহনের গতিরোধ করা হয়। কিন্তু তখনো অনেক গাড়ি ব্যারিকেড ফেলার আগে তাড়াহুড়ো করে রাস্তা পার হতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠে।
মঙ্গলবার রাতেও হাতিরঝিল মোড় থেকে সোজা রাস্তা ধরে এফডিসির অদূরে লেভেল ক্রসিয়ের সামনে এবং কারওয়ানবাজার থেকে সোজা মাছের আড়তের সামনের রাস্তায় যথারীতি ব্যারিকেড ছিল। কিন্তু অসংখ্য গাড়িতে রাস্তার উল্টো পাশ দিয়ে রেললাইন পার হয়ে যেতে দেখা যায়। শুধু যানবাহনই নয়, ট্রেনের লম্বা বাঁশি শোনার পরও পথচারীরা তড়িঘড়ি করে লেভেল ক্রসিং হচ্ছিলেন।
রেলের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত ছয় বছরে রেলে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৭৫ জন। এর মধ্যে ১৪৫ জনই প্রাণ হারিয়েছেন লেভেল ক্রসিংয়ে। গত বছর মারা গেছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে ৩৩ জনেরই মৃত্যু হয়েছে লেভেল ক্রসিংয়ে।
রেলপথে মুখোমুখি সংঘর্ষ, পেছন থেকে ট্রেনের ধাক্কা, ট্রেন থেকে কোচ আলাদা হয়ে যাওয়া, ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা, সংকেত অমান্য ও লাইনচ্যুতির খবর হরহামেশাই চোখে পড়ে। এর মধ্যে পথচারীদের অসচেতনতার কারণে ট্রেনের ধাক্কায় অনেকের প্রাণহানি হয়ে থাকে।
রেলওয়ের তথ্য অনুসারে, সারাদেশে মোট লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা ২ হাজার ৫৬১টি। এর মধ্যে অনুমোদন নেই ১ হাজার ৩২১টির। এসব ক্রসিংয়ের বেশিরভাগই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়কে। আরও আছে পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি করপোরেশন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সড়কে। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশের ৮২ শতাংশ লেভেল ক্রসিংই রয়েছে অরক্ষিত অবস্থায়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত