অযোক্তিক বদলি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন চট্টগ্রাম রেলের পরিবহন বিভাগ

Passenger Voice    |    ১১:০২ এএম, ২০২১-১২-০৪


অযোক্তিক বদলি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন চট্টগ্রাম রেলের পরিবহন বিভাগ

বার্ষিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলমান অবস্থায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগের ২৩ জন পয়েন্টসম্যানকে বদলি করা হয়েছে। বছরের শেষ সময়ে হঠাৎ বদলি-পদায়ন নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে। একসঙ্গে এত কর্মচারী বদলি রেলের ইতিহাসে বিরল ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন শ্রমিক নেতারা। এ ধরনের অযৌক্তিক বদলি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মচারীরা। যে কোনো সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে আন্দোলনে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন মেহের স্টেশনে কর্মরত পিম্যান মো. হাবিবুর রহমান। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক (পাস) প্রথম বর্ষের পরীক্ষা চলমান রয়েছে তার। আজ শুক্রবারও একটি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই তিনি পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বদলি করা হয়েছে। ২৫ নভেম্বর আদেশ জারির পর থেকে ডিটিও চট্টগ্রামের সঙ্গে তিনি কয়েক দফা সাক্ষাৎ করেও কোনো সুরাহা হয়নি।

সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের চাপে গতকাল বৃহস্পতিবার শশীদল স্টেশনে যোগ দিয়েছেন। নতুন কর্মস্থল থেকে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। পড়ার কোনো সুযোগ পাবেন না। তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া সালেহ আহমদ চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি থেকে তিনবার বদলি হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে গত বুধবার পরিবহন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে স্মারকলিপি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। হঠাৎ বদলিজনিত হয়রানি বন্ধ না হলে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, একটি স্টেশন চালু রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারী হলো একজন পয়েন্টসম্যান। ট্রেন চালাচলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তারাই করে থাকেন। ট্রেনের ইঞ্জিন-বগি সংযোজন বা বিয়োজনের কাজটিও তারা করেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারীদের অভাবে বর্তমানে অনেক স্টেশন বন্ধ রয়েছে। পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭৫ পিম্যান পদের বিপরীতে কাজ করছেন ১১৮ জন। অস্থায়ী ভিত্তিতে আছেন আরও ৪৭ জন। সংকটের কারণে স্টেশন চালু রাখতে একজন পিম্যানকে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে ওভারটাইম ছাড়াই। এরপরও ঘন ঘন বদলি করে তাদের ব্যাপক হয়রানি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বর মাসে পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) যোগদান করেছেন। ফলে মাঠ পর্যায়ের কাজ এখনো বুঝে ওঠতে পারেননি। এই সুযোগে পরিবহন বিভাগের একটি সিন্ডিকেট টাকার বিনিময়ে একসঙ্গে ২৩ জনের বদলি করিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, বছরের শেষ সময়ে অতীতে কখনো এতবড় বদলি আদেশ হয়নি। কিছু ফাঁকিবাজ কর্মচারীকে সুবিধা দিতে এ ধরনের বদলি করা হয়েছে। একসঙ্গে ২৩ জনের বদলি করা উচিত হয়নি বলে মনে করেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পয়েন্টসম্যান ও কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, রেলের ইতিহাসে কখনো ২৩ জন পিম্যান একসঙ্গে বদলি হয়নি। এটি একটি বিরল ঘটনা। অমানবিক এ ঘটনায় পরিবার নিয়ে সমস্যায় পড়েছে অনেকে। গতকাল সন্তানের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে, বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। এ অবস্থায় বদলির কোনো মানে থাকতে পারে না। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই।

এদিকে বদলির কোনো কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি পরিবহন কর্মকর্তা তারেক মুহাম্মদ ইমরান। তিনি বলেন, বদলি আদেশ নিয়ে বিভাগীয় সংস্থাপন কর্মকর্তা (ডিপিও) বলতে পারবেন। ডিপিও মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ডিটিও চূড়ান্ত অনুমোদন পাঠালে আমরা কেবল আদেশটা জারি করি। সব ধরনের সিদ্ধান্ত ডিটিও নিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, একসঙ্গে এতজনকে বদলি করার তো কথা না। আগামীতে যাতে এত বেশিসংখ্যক কর্মচারী একসঙ্গে বদলি না করতে বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপককে নির্দেশনা দেব।

জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে ৭ জন পিম্যান ও ২ জন গেটম্যান বদলির আদেশ করেছিলেন সাবেক ডিটিও স্নেহাশীষ দাশগুপ্ত। বিভিন্ন অভিযোগে একদিন পরই সেই আদেশ বাতিল করেছিলেন প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন। পাশাপাশি ওই ঘটনায় ডিটিওকে বদলি করেছিল রেল প্রশাসন।