শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:৪৬ পিএম, ২০২১-১১-১৮
বাংলাদেশ রেলওয়েতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের কাছে বিনিয়োগের জন্য ১০টি অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্পের একটি তালিকা দিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য অগ্রাধিকারভুক্ত হিসেবে দেয়া হয়েছে আরো পাঁচটি প্রকল্পের তালিকা। সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব প্রকল্পে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল।
বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য বিশ্বব্যাংকের এ মিশনের কর্মসূচিতেও প্রাধান্য পেয়েছে মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ প্রকল্প। আজ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কর্মশালা আয়োজন করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। কর্মশালার প্রধান আলোচ্য বিষয় মাল্টিমোডাল হাব। এতে মাল্টিমোডাল হাবের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা এবং মাল্টিমোডাল হাব গড়ে তোলার মাধ্যমে কীভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে লাভবান হতে পারে তা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি একটি অভিজ্ঞতা বিনিময় সেশনের আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে ভারতীয় রেলের বাণিজ্যিকীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোকপাত করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের কাছে বাংলাদেশ রেলওয়ে যে ১০টি অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্পের তালিকা দিয়েছে, তার মধ্যে তিনটি মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব নির্মাণ সম্পর্কিত। ঢাকার কমলাপুর, তেজগাঁও ও বিমানবন্দর স্টেশনে হবে এসব মাল্টিমোডাল হাব। কমলাপুর মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণের জন্য ৯ কোটি ৩২ লাখ ডলার, তেজগাঁও মাল্টিমোডাল হাবের জন্য ৯ কোটি ৯০ লাখ এবং বিমানবন্দর মাল্টিমোডাল হাবের জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ কোটি ৮৩ লাখ ডলার।
এর মধ্যে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনকে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ করছে কাজিমা করপোরেশন নামের একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে প্রকল্পটিতে জাপানি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা বলছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। এমনটা হলে বিশ্বব্যাংকের জন্য তেজগাঁও ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে মাল্টিমোডাল হাব গড়ে তোলার কাজে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
প্রস্তাবিত তিন মাল্টিমোডাল হাবের তিনটিই পিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে। তবে বিশ্বব্যাংক যদি তেজগাঁও ও বিমানবন্দরে মাল্টিমোডাল হাবে বিনিয়োগ চূড়ান্ত করে, তাহলে এ দুটি প্রকল্প পিপিপির তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার বলেন, সবকিছু এখনো প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। আমরা বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি।
মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে তিনটি মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ ছাড়াও আরো সাতটি অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বে টার্মিনালে রেলওয়ে লিংক নির্মাণ, ধীরাশ্রমে আইসিডি নির্মাণ, পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধার মধ্যে নতুন রেলপথ নির্মাণ, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে বিদ্যুচ্চালিত ট্রেন প্রবর্তনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প। এর বাইরে কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করার উদ্দেশ্যে আরো তিনটি প্রকল্পের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে ভবিষ্যতের জন্য অগ্রাধিকারভুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে আরো পাঁচটি প্রকল্প। এগুলো হলো ব্রড গেজ ও মিটার গেজ রিলিফ ক্রেন সংগ্রহ, দাড়িপাড়ায় রেলওয়ের কারখানা নির্মাণ, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট থেকে সিজিপিওয়াই পর্যন্ত নতুন ডুয়াল গেজ লাইন নির্মাণ, তিস্তা নদীর ওপর নতুন রেল সেতু নির্মাণ এবং আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটার গেজ রেলপথ ডুয়াল গেজে রূপান্তর।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত ২ আগস্ট বিশ্বব্যাংকের রিজিওনাল ডিরেক্টর (সাউথ এশিয়া) অব ইনফ্রাস্ট্রাকচার গুয়াংজে চেনের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তাব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ আগস্ট রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজাকে একটি চিঠি দেন বিশ্বব্যাংকের রিজিওনাল ডিরেক্টর (সাউথ এশিয়া) অব ইনফ্রাস্ট্রাকচার গুয়াংজে চেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সবুজ, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার রেলওয়ে খাতটিকে নিয়ে যেভাবে পরিকল্পনা করছে, তা বিশ্বব্যাংকের লক্ষ্যের সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ। আমরা পরিবহন খাতকে কার্বনমুক্ত করার উদ্যোগগুলোকে সহযোগিতা করতে চাই।
বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে ৯ নভেম্বর বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে। বাংলাদেশ রেলওয়েকে সহযোগিতার জন্য আলোচনা ও বিনিয়োগের খাতগুলো চূড়ান্ত করা বিশ্বব্যাংকের এ মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার জন্য রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালকসহ ১১ কর্মকর্তাকে মুখপাত্র হিসেবে নিযুক্ত করেছে রেলওয়ে।
সূত্র: বণিক বার্তা
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত