শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫২ এএম, ২০২১-১১-১৩
রেলকে তুলনামূলক নিরাপদ বাহন ধরা হলেও পর্যাপ্ত পাথরের অভাবে দেশের রেলপথ যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে রেলবহরে যুক্ত হওয়া অত্যাধুনিক ট্রেনগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী গতি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না পাথরবিহীন রেললাইনের কারণে।
বুধবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দিনের পর দিন পাথরবিহীন লাইনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তা নিরসনে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে না। বস্তুত যাদের এসব দেখার কথা, তারা এক থেকে দুবার ট্রলি দিয়ে রেলপথ পরিদর্শন করে দায়িত্ব শেষ করেন। রেললাইনে প্রয়োজনীয় পাথর না থাকায় ঘন ঘন দুর্ঘটনাও ঘটছে। অবস্থা এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, কোনো কোনো জায়গায় পাথরের ছিটেফোঁটাও নেই।
পাথরবিহীন রেললাইনে ঘনঘন ট্রেন লাইনচ্যুতির আশঙ্কা থাকে। রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, পাথরবিহীন রেলপথের কারণে ট্রেনের প্রায় ৯০ শতাংশ লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। প্রশ্ন হলো, এসব নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা আছে কি? জানা গেছে, রেলে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৪০৩ কিলোমিটার রেল ট্র্যাক রয়েছে। খবর যুগান্তর
এসব ট্র্যাকে প্রায় তিন যুগ ধরে পাথর স্বল্পতা বিদ্যমান। লাইনের ধরন অনুযায়ী স্লিপারের নিচে ৬ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত পাথর থাকতে হয়। একইসঙ্গে লাইনের দুই পাশে ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত পাথর থাকা দরকার। স্লিপারের মধ্যস্থলে পাথর সমান রাখতে হয়। অথচ পুরো রেললাইনের কোথাও নিয়ম-নির্দেশনা অনুযায়ী পাথর নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্লিপারের নিচে মাটি দেখা যায়। পাথরবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ লাইন হওয়ায় অত্যাধুনিক ট্রেনগুলো সক্ষমতার অর্ধেক গতি নিয়ে চলছে।
রেলপথে পাথর স্বল্পতা বহু বছরের। জানা গেছে, ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাথর আমদানি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্বজনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালীরা পাথরের টেন্ডার ও মালামাল ক্রয়ের বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের ইশারায় নির্ধারিত হচ্ছে কে টেন্ডার পাবে।
এ ধারা চলতে থাকলে বিভিন্ন প্রকল্পের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বভাবিক। রেলে প্রয়োজনের তুলনায় অর্থের বরাদ্দ কম পাওয়া যায়। এ অবস্থায় বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। রেলের দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করা না হলে, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে রেলকে যাত্রীবান্ধব বাহনে পরিণত করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত