ড্রাইভার কাইয়ুম এখন কোটিপতি চেয়ারম্যান!

Passenger Voice    |    ০৫:২০ পিএম, ২০২১-১১-১২


ড্রাইভার কাইয়ুম এখন কোটিপতি চেয়ারম্যান!

পেশায় ছিলেন গাড়িচালক। ২০১২ সালে জেলার এক নেতার হাত ধরে আসেন রাজনীতির মাঠে। গাড়ি চালানোর পাশাপাশি শুরু হয় নেতার কাছে যাওয়া-আসা। রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে উপস্থিত হতেন চালক হিসেবে, সেই ভাড়া আদায় করতেন দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে। কারণ ভাড়া না পেলে সংসার চালানো দায় হয়ে যেত তার। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে রাজনৈতিক গুরু জেলার ওই নেতার কৃপায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন ইউপি চেয়ারম্যান। পাল্টাতে থাকে জীবনযাত্রার মান। শুরু হয় বিলাসবহুল জীবনযাপন।

বাড়িতে নির্মাণ করেছেন প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ডুপ্লেক্স ভবন। কিনেছেন তিনটি প্রাইভেট কার, যার একটিতে চড়েন নিজেই। এছাড়া ১৮ লাখ টাকা ‘ঘুষ’ দিয়ে ছেলেকে দিয়েছেন ব্যাংকে চাকরি। এখন প্রতিদিন পরেন নতুন নতুন জামা। যাকে নিয়ে এত কথা তিনি হলেন কুমিল্লার মুরাদনগরের চাপিতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া। সামান্য আয়ের গাড়িচালক থেকে হঠাৎই তার বিলাসবহুল জীবনযাপন দেখে এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। তারা বর্তমানে আবদুল কাইয়ুমকে আলাদীনের চেরাগ পাওয়া চেয়ারম্যান বলেই ডাকে।

চাপিতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা রহিম, আলাউদ্দিন ও কিবরিয়াসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও অনেকের অভিযোগ, তাদের ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিটি জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য গুনতে হয় ৫শ থেকে দেড় হাজার টাকা। আর সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যে-কোনো ভাতার কার্ড করাতে হলে যেতে হয় চেয়ারম্যানের স্ত্রী মমতাজ বেগমের কাছে। সেখানে তাকে দিতে হয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। টাকা না দিলে মেলে না ভাতার কার্ড।

ইউনিয়ন পরিষদটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য (মেম্বার) অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম সরকারি সব বরাদ্দের কোনো প্রকার হিসাব তাদের জানান না। ইচ্ছেমতো প্রকল্পের নাম দিয়ে বরাদ্দ নিয়ে আসেন। সদস্যদের তেমন কোনো কাজ দেন না চেয়ারম্যান। শুধু নিজের পছন্দের একজন নারী মেম্বার ও দু’জন পুরুষ মেম্বারের মাধ্যমে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ করান। এর বাইরে বাধ্য হয়ে অন্যদের মাঝেমধ্যে দুয়েকটি প্রকল্পের কাজ দিলেও সেখান থেকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ দেওয়ার নামে প্রতি লাখে ৩০ হাজার টাকা করে কেটে নেন।

চেয়ারম্যান কাইয়ুম ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ মাধ্যমে আর্জিত টাকা থেকে ১৮ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ছেলেকে ব্যাংকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন বলেও এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘আমার কোনো ধরনের ব্যবসা কিংবা উপার্জনের ব্যবস্থা নেই এটা সত্য। তবে আমি যা কিছু করেছি, বাড়িতে ভবন নির্মাণ, গাড়ি কেনা, ছেলেকে চাকরি দেওয়া, সবকিছুই আমার পৈতৃক ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করে করেছি। আমি যে জমিগুলো বিক্রি করেছি তা দেখলে আপনার নিজেরও চোখের পানি চলে আসবে।’

ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই ওই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্র: দেশ রূপান্তর