বাংলালিংকের বিরুদ্ধে জেমস ও মাইলসের মামলা

Entertainment desk    |    ১০:৪১ এএম, ২০২১-১১-১১


বাংলালিংকের বিরুদ্ধে জেমস ও মাইলসের মামলা

জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা জেমস এবং আরেক জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলস সেলফোন অপারেটর বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আটটি গান অনুমতি ছাড়া ১৪ বছর ধরে ওয়েলকাম টিউন হিসেবে ব্যবহার করায় কপিরাইট আইনে বাংলালিংকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে মাইলসের পক্ষ থেকে হামিন আহমেদ ও নগরবাউল জেমস।

গতকাল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে এসব মামলা করেন তারা। আদালত তাদের এ বিষয়ে জবাব দেয়ার জন্য বাংলালিংকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এদিন জেমস আদালতে উপস্থিত হন। এছাড়া মাইলসের পক্ষে দুজন উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে জেমস ও মাইলসের আইনজীবী মিজানুর রহমান মামুন বলেন, ‘নীলা তুমি’ ও ‘ফিরিয়ে দাও’ মাইলস ব্যান্ডের এ দুটি গান কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করে ১৪ বছর ধরে ব্যবহার করে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক। গান দুটি সরিয়ে নেয়ার জন্য তাদের মৌখিকভাবে বলা হয়। এরপর ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট গান দুটি সরিয়ে নেয়ার জন্য তাদের লিগ্যাল নোটিস দেয়া হয়। এছাড়া তিনটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের গান সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়। এর পরও তারা তা সরিয়ে নেয়নি। চলতি বছরের ২১ অক্টোবর বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মামলা করতে গুলশান থানায় যাই। থানায় মামলা না নিলে আমরা আদালতে বিচারের জন্য এসেছি।

াতিনি আরো বলেন, নগরবাউলের ছয়টি গান অনুমতি ছাড়া ১৪ বছর ধরে ওয়েলকাম টিউন হিসেবে ব্যবহার করছে বাংলালিংক। তাদের এ বিষয়ে বলার পরও গান সরায়নি। আমরা তাদের গান সরাতে লিগ্যাল নোটিস পাঠাই। এছাড়া তিনটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের গান সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়। এর পরও তারা তা সরিয়ে নেয়নি।

এ বিষয়ে বাংলালিংকের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি আংকিত সুরেকা বলেন, আইন মান্যকারী একটি কোম্পানি হিসেবে আমরা কপিরাইট আইনসহ দেশের সব আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ ব্যাপারে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানতে পারিনি। তাই বিস্তারিত না জেনে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।

জানা যায়, ফোন অপারেটররা গ্রাহকদের যেসব ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস দেয় সেগুলোর চুক্তি হয় কনটেন্ট প্রোভাইডারের সঙ্গে। প্রোভাইডাররা শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কনটেন্ট সংগ্রহ করেন।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলা করতে আবেদন করেন জেমস ও মাইলসের আইনজীবী। এ সময় বিচারক তাকে গুলশান থানায় গিয়ে মামলা করতে পরামর্শ দেন। বেলা ১টার দিকে তিনি বিচারকের পরামর্শে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে সেদিন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) তাপস কুমার পাল বলেন, জেমস আদালতে বাংলালিংকের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনে মামলার আবেদন করতে আসেন। বিচারক গুলশান থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন। এছাড়া থানা যদি মামলা না নেয় তাহলে আদালতে এসে মামলার আবেদন করতে বলেন।

নগরবাউল জেমসের আইনজীবী তাপস কুমার বলেন, বাংলালিংকের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনে মামলার আবেদন করতে আসেন জেমস। আদালতের পরামর্শে তিনি মামলা না করে ফিরে যান।