শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:৩০ পিএম, ২০২১-১০-০৯
হেফাজতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন পুনঃসংস্কার ও সব ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা নাগরিক ফোরাম।
শনিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলষ্টেশনের ২নং প্লাটফর্মে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, 'হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ৩দিন তাণ্ডব চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থাপনাসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে ষ্টেশনটি পুড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে এই ষ্টেশনটির কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ষ্টেশনটিতে বর্তমানে দূরপাল্লার আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রারবিরতি বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। এ অবস্থায় বিকল্প ষ্টেশন আখাউড়া-ভৈরব এবং আশুগঞ্জ হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম সিলেট যাতায়ত করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রীরা। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন জেলার নাগরিকেরা।
মানববন্ধনে নদী নিরাপত্তা বিষয়ক সামাজিক সংগঠন নোঙরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি শামিম আহমেদ বলেন, হেফাজতের তাণ্ডবের পর থেকে যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ষ্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনর যাত্রাবিরতী বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সাত মাস পার হলেও এখনো স্টেশনটি চালু হয়নি। আমরা হেফাজতের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সাথে দ্রুত সব ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন আহমেদ তফসির বলেন, আমরা আশা করব শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি আদায় করতে পারব। যদি শান্তিপূর্ণভাবে দাবি না মানা হয় তাহলে আমরা অন্যপথ বেছে নেব। তখন তার দায়-দায়িত্ব আমরা বহন করব না।
জেলা জাসদের সভাপতি আক্তার হোসেন সাঈদ বলেন, আজকের এই দাবি নাগরিক ফোরামের একার দাবি নয়। এই দাবি পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর। আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী আজকে যে অসুবিধা ভোগ করছি, এটি শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নয়, আশেপাশের জেলার মানুষও ভোগ করছে। যাত্রী উঠানামার দিক দিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের স্থান। কিন্তু সেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ অনেকদিন ধরেই কষ্ট করছে। যদি দ্রুত ট্রেনের যাত্রাবিরতি না দেয়া হয়, তাহলে আমরা বাধ্য হব রেলপথ অবরোধ করতে। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত এখানে ট্রেনের যাত্রাবিরতি।
মানববন্ধনে জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি পীযুষ কান্তি আচার্য বলেন, দীর্ঘ ৭ মাস হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না। শুধু আন্ত:নগর একটি ট্রেন ছাড়া বাকি ট্রেনগুলো থামছে না। আমাদের প্রশ্ন, একটি ট্রেন যদি থামতে পারে তাহলে বাকি ট্রেনগুলো কেন থামতে পারছে না। এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে থামানো হচ্ছে না। আগামী ১৫দিনের মধ্যে যদি সবগুলো ট্রেনের স্টপেজ না দেয়া হয় তাহলে রেলপথ অবরোধের মত কর্মসূচি দেয়া হতে পারে।
মানববন্ধনে ৫ শতাধিক সাধারণ মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত