শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৪৪ এএম, ২০২১-০৯-২২
রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে গত শুক্রবার মো. নাজমুল (১৮) নামে এক তরুণের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়েই মেট্রোরেল প্রকল্প থেকে মালামাল চুরির চক্রের সন্ধান পেয়েছে র্যাব। ইতোমধ্যে চক্রের মো. আশিক ও মো. হারুন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব বলছে, মেট্রোরেলের সরঞ্জাম চুরি চক্রের সদস্য ছিলেন মৃত নাজমুলও। অন্যদের সঙ্গে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে মারা যান তিনি।
র্যাব ৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরচক্রের ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় মেট্রোরেল প্রকল্প থেকে চোরাই মালামালসহ একটি পিকআপ ও সিএনজি অটোরিকশা। গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুলের মৃত্যু ও প্রকল্পের মালামাল চুরি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছে। র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, গত বৃহস্পতিবার নাজমুল তার মিরপুরের বাসা থেকে কাজের সন্ধানে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় একটি জিডি করা হয়। পরের দিন জানা যায়, তুরাগ থানা এলাকায় একটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মৃতদেহটি নাজমুলের বলে তার বাবা শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তুরাগ থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়। এর পরই র্যাবের একটি দল ছায়াতদন্ত শুরু করে।
গ্রেপ্তার আশিক ও হারুন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, নাজমুল ও তারা রাসেল এবং শামীম নামে আরও দুজনের সঙ্গে মিলে মেট্রোরেলের সরঞ্জামসহ বিদ্যুতের তার ও নানা জিনিস চুরি করত। গত বৃহস্পতিবার রাসেল ও শামীম নাজমুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ওই রাতে আশিকও তাদের সঙ্গে চুরির কাজে যোগ দেয়। যদিও সেদিন তাদের সঙ্গে হারুন ছিলেন না। তুরাগে বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে ওই দিন বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে ঘটনাস্থলেই নাজমুলের মৃত্যু হয়। এ সময় অন্যরা নাজমুলের লাশ সেখানে রেখে ভয়ে পালিয়ে যায়।
র্যাব বলছে, চক্রটি বেশ কিছু দিন ধরে মেট্রোরেল প্রকল্প ছাড়াও অন্যান্য সরকারি কাজের মালামাল এবং বৈদ্যুতিক তার চুরি করে আসছিল। চুরির কাজটি তারা মূলত কয়েক ধাপে সম্পন্ন করত। প্রথমে তারা প্রকল্পের কী মালামাল কোথায় আছে, তার তথ্য সংগ্রহ করত। পরে সে অনুযায়ী চুরির পরিকল্পনা এবং চুরি করা মালামাল একটি গোপন জায়গায় নিয়ে রাখত। আরেকটি গ্রুপ চোরাই মালামাল ভেঙে করে তুলতো সহজে বহনযোগ্য। পরবর্তীতে এ ধরনের মালামাল কেনেন, এমন ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেগুলো বিক্রি করা হতো।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত