শিরোনাম
Passenger Voice | ০৮:৩৪ পিএম, ২০২১-০৯-১৬
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিশেষ পরিস্থিতিতে পাল্টে যাওয়া দৃশ্যপট এখনও বহাল রয়েছে রাজধানীর মিরপুরের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেলের কার্যালয়ে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে লাইসেন্স কিংবা যানবাহনের নতুন রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা বদলি এবং ফিটনেস করতে আসা মানুষের ভিড় লেগেই আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর সারাদেশে বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে দালাল ও তদবিরবাজদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব। এই অভিযানের পর বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়গুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমেছে। এ সুযোগে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক সুবিধাভোগীরাও নিয়মের আওতায় আসছেন।
আজ বৃহস্প্রতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রায় সারাদিন বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুরো এলাকায় নতুন মুখের আনাগোনা। বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ কাজে ব্যস্ত। তাদের কেউ নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করছেন, কেউ করছেন লাইসেন্স নবায়নের আবেদন। আবার কেউ লাইসেন্স হারিয়ে এখন ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করছেন। কেউ কেউ এসেছেন লাইসেন্স এর স্লিপের মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়ে যেতে।
মোটরযানের ফিটনেস পরীক্ষা করা, মালিকানা পরিবর্তন করা এবং ডিজিটাল নম্বরপ্লেট পাওয়াসহ বিভিন্ন কাজে আসা লোকজনকে শৃঙ্খলার সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে সরকারি এই সংস্থাটির অফিসে, যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও ছিল কল্পনাতীত। সেবা নিতে আসা লোকজন এখন নিজের কাজ নিজে করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
বিআরটিএ কম্পাউন্ডে বরাবরই ‘দালাল দৌরাত্ম্য’ ওপেন সিক্রেট হলে গত ক’দিনে সে চিত্রও বদলেছে। তাতে ভূমিকা রয়েছে বিআরটিএ’রও। বিআরটিএ ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক শফিকুজ্জামান ভুঁইয়ার দক্ষতা ও নির্দেশনা ও অনুরোধে গত বেশ কিছু দিন ধরে বিআরটিএ এবং এর আশপাশের এলাকায় কয়েকদফা দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হতে দেখা গেছে। সড়কের পাশে কিংবা আশপাশের মার্কেট ও দোকানগুলোয় গিয়ে অভিযান টিম হানা দিয়েছেন দালালদের আস্তানায়।
বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ের ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বেশিরভাগই প্রাইভেটকার। এ ছাড়া ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশাও অনেক। কিন্তু আগের মতো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। সিরিয়াল অনুযায়ী প্রতিটি যানবাহন ফিটনেস পরীক্ষা করছে। নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আসা লোকজন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সেবা গ্রহন ও অন্যান্য কার্যক্রম সেরে নিচ্ছেন।
বিআরটিএ’র তথ্যকেন্দ্র থেকেও একটু পরপরই ঘোষণা করা হচ্ছে, যেন দালালদের খপ্পরে কেউ না পড়েন। লাইসেন্স কিংবা অন্য কোনো ব্যাপারে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ডেস্কে নিয়ে কাজ সারার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেল অফিসকে দালালমুক্ত করার জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উক্ত সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিআরটিএ মিরপুর সার্কেলকে দালাল মুক্ত করার জন্য বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে দালালদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে। আমরা কার্যালয়ে আসা সম্মানিত গ্রাহকদের অনুরোধ করছি যে সব কাজ অনলােইনে হয় সেগুলো অনলাইনে করে ফেলার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখন বিআরটিএ’তে একরকম ‘শুদ্ধি অভিযান’ চলছে। কর্মকর্তারা কোনো ধরনের দালালের হয়রানি ও তদবিরের ঝামেলা ছাড়াই কাজ করতে পারছেন। এ অবস্থা চালু থাকলে দেশের পরিবহন ব্যবস্থা অনেকখানি নিয়মতান্ত্রিক হবে।
ফিটনেসের জন্য মিরপুর বিআরটিএ অফিসে আসা চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ফিটনেস প্রদানে এবার আর সিরিয়াল ব্রেক করার সুযোগ নেই। আনসার সদস্যরাও কর্তৃপক্ষের চাপে ভালো হতে বাধ্য হয়েছে। আগে টাকা দিলে সিরিয়াল ব্রেক করে গাড়ি সামনে নিয়ে যাওয়া হইত। এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার কারণে কষ্ট হয়েছে, কিন্তু কাজের শৃঙ্খলা ফিরেছে।’ এভাবে চললে দেরি হলেও কষ্ট নেই বলে মন্তব্য তার।
বিআরটিএ এর উপপরিচালক (ইঞ্জিঃ) শফিকুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, ‘র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও বিআরটিএর যৌথ অভিযানের ফলে দালাল মুক্ত, হয়রানী মুক্ত সেবা প্রদান করছে রাজধানীর সকল সার্কেল অফিস গুলো। সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। জনবলের স্বল্পতার কারণে পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ জনবল বাড়ানো হলে আরও বেশি মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিআরটিএ এখন সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ প্রতিষ্ঠান। এখানে যে কেউ চাইলে ঘরে বসে এখন ড্রাইভিং লাইসেন্স এর আবেদন, শিক্ষানবিস লাইসেন্স, ফিটনেস গ্রহনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিদিষ্ট সময়ে বিআরটিএতে গাড়ি উপস্থাপন করে ফিটনেস গ্রহন করতে পারছে। এতে একদিকে গ্রাহকের সময় বেচেঁ যাচ্ছে অন্য দিকে দালালের হয়রানী থেকে রক্ষা পাচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত