শোক, শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র

Passenger Voice    |    ০৪:৪৩ পিএম, ২০২১-০৮-১৫


শোক, শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র

শোক, শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণায় জাতি স্মরণ করছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিবসটি পালন করছে। তবে, এবারও বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের নানান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আজ রবিবার সারা দেশে জাতীয় শোক দিবস পালিত হচ্ছে। চট্টগ্রামে অনান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএতে শ্রদ্ধার সাথে এই দিবস পালিত হচ্ছে।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ, চট্টমেট্রো-১ সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. তৌহিদ হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক এম ডি শাহ আলম এর নের্তৃত্বে বিআরটিএ চট্টগ্রাম পরিবার নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে  বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে বিশেষ মোনাজাত ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের মাঠে বিআরটিএর সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ মোনাজাত আদায় করেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ। 

শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিআরটিএর ভবন জুড়েই ছিল নানা আয়োজন। বঙ্গবন্ধু পরিবারের নিহত সদস্যদের বড় বড় ছবি সংবলিত ডিজিটাল ব্যানার বসানো হয়েছে ভবনের চারপাশে। বিআরটিএর মাঠে বঙ্গবন্ধুর জীবনি আলোচনায় প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। এই স্থানে শনিবার রাত থেকেই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও দেশাত্মবোধক গান বাজানো হয়। আজ দুপুরে খাবার বিতরণ করা হয়।

আলোচনা সভায় বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ বলেন,  ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরের আলো ফোটার আগেই বাঙালি জাতিকে মুক্তির আলো দেখানো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করেছিলেন কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নীপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। সেসময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা গণতান্ত্রিক জনপ্রিয় সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান। আলোচনা সভায় তিনি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দীর্ঘ হায়াতের আরজি জানায়।

বিআরটিএ চট্টমেট্রো-১ সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. তৌহিদ হোসেন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকেই বাংলাদেশে এক বিপরীত ধারার যাত্রা শুরু করে। বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসনের অনাচারী ইতিহাস রচিত হতে থাকে। বাঙ্গালী জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী জাতি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করে তিনি আরো বলেন, 'সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সব সময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।'

শোকের কর্মসূচিতে শামিল যারা: বিআরটিএ চট্টমেট্রো-১ সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. তৌহিদ হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক এম ডি শাহ আলম, মোটরযান পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, কে এম সালাউদ্দিন, তীর্থ প্রতিম বড়ুয়া, আবু পলাশ, শহিদুল ইসলামসহ সকল কর্মকর্তা- কর্মচারী।