|

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ড গিলে খাচ্ছে রাস্তা

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ড গিলে খাচ্ছে রাস্তা

তেজগাঁওয়ের রেলগেট থেকে সাতরাস্তা মোড় পর্যন্ত মূল সড়কের দুই পাশে সারি করে রাখা হয়েছে ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যান। কোথাও পার্কিং, কোথাও আবার সড়কের ওপরই চলছে এসব পরিবহন মেরামতের কাজ। ফলে সড়কের বড় একটি অংশ চলে গেছে ট্রাক-পিকআপের দখলে। সংকুচিত হয়ে পড়েছে অন্যান্য যানবাহন চলাচলের জায়গা। ব্যস্ত সময়ে এই সংকট আরও প্রকট হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও চালকরা।

গত রবিবার সরেজমিন দেখা যায়, তেজগাঁও রেললাইন বা রেলগেট পার হলেই চোখে পড়ে বিভিন্ন আকারের ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যানের সারি। তেজগাঁও সাতরাস্তার মোড় পর্যন্ত মূল সড়কের দুই পাশেই রয়েছে এসব পরিবহন। সড়কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ট্রাক-পিকআপের দখলে থাকায় অন্যান্য যানবাহন চলাচলের জায়গা হয়ে পড়েছে সরু। ফলে ব্যস্ত সময়ে, বিশেষ করে অফিসের সময় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

কেবল সড়কের পাশে পার্কিং করেই থেমে নেই এসব পরিবহন। অনেক ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের মেরামতের কাজও চলছে সড়কের ওপর। এতে যানবাহন চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হচ্ছে। মূল সড়কের পাশাপাশি ভেতরের সড়কগুলোতেও এসব পরিবহন রাখা হয়েছে।

তেজগাঁওয়ের এই ট্রাকস্ট্যান্ডের পাশে আনসার কার্যালয়ের সামনেও ট্রাক-পিকআপ রাখতে দেখা গেছে। এমনকি শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ভবনের মূল ফটকের সামনেও কাভার্ড ভ্যান পার্ক করে রাখা হয়েছে।

একসময় দখলমুক্ত ছিল সড়ক

বহু বছর ধরেই সাতরাস্তা থেকে তেজগাঁও রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়ক ও আশপাশের সড়কগুলোতে অবৈধভাবে ট্রাক রাখা হতো। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আনিসুল হক সড়কটি দখলমুক্ত করেন। এ সময় ট্রাক শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখেও পড়েছিলেন তিনি। পরে সড়কটি পুরোপুরি দখলমুক্ত করতে সক্ষম হন তিনি।

সড়কটি দখলমুক্ত হওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল এবং এর সুফল পেয়েছিলেন নগরবাসী। তবে আনিসুল হকের মৃত্যুর পর সাতরাস্তা থেকে তেজগাঁও রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়কে ধীরে ধীরে আবার ট্রাক রাখা শুরু হয়। একটি-দুটি করে শুরু হয়ে বর্তমানে তা সারি সারি ট্রাকে পরিণত হয়েছে। এতে পুরোনো ভোগান্তিও ফিরে এসেছে।

‘অফিস সময়ে জ্যাম শুরু হয়’

ট্রাকস্ট্যান্ডের কারণে অফিস সময়ে ওই এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয় জানিয়ে রিকশাচালক মো. দুলাল বলেন, ‘এই ট্রাকগুলো তো সবসময়ই রাস্তার পাশে থাকে। রাস্তা থেকে আর ট্রাক সরানো যায় না। সিটি করপোরেশন ছাড়া কেউ সরাতে পারবেও না।’

ট্রাকের কারণে রিকশা চালাতেও সমস্যায় পড়তে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ট্রাকের কারণে অনেক সমস্যা হয়। সকাল ৮টার পর আবার অফিস ছুটির পরে জ্যাম শুরু হবে। আগে তো ফাঁকা ছিল, এখন এক গাড়ির রাস্তা আছে, ট্রাক ডাবল। তাই চালাতে অনেক সমস্যা হয়। আমার মতো যারা আছে, সবারই একই অবস্থা।’

তিনি বলেন, ‘এখন কিছু তো বলাও যায় না। তারা ক্ষমতায়। এই মোড়েও (রেলগেট) ট্রাক লাগিয়ে রাখছে। একদম সাতরাস্তা পর্যন্ত।’

রেললাইনের পাশে ট্রাক রাখার কারণে সন্ধ্যার পর ওই সড়কে যানজট বাড়ে বলে জানান কালাম মিয়া। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার পরে তেজগাঁওয়ের এই রাস্তায় জ্যাম লেগে যায়। কারণ অফিস শেষে সবাই ফিরতে থাকে, আবার অন্যদিকে ট্রাক তো এই রাস্তার দুই পাশেই থাকে। তাই রাস্তা সরু হয়ে গেছে। আর এ কারণেই জ্যাম লাগে।’

ট্রাকগুলো সড়কে থাকায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এক পাশ দিয়ে সব গাড়ি চলাচল করে। কারণ দুপাশেই ট্রাক পার্ক করা থাকে। একদম রেলগেটের একটু সামনে থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত একই অবস্থা।’

‘ট্রাকচালকরা আইনকানুন মানে না’

ট্রাকচালকরা আইন মানেন না অভিযোগ করে এই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী জুয়েল শাহেদ বলেন, ‘ট্রাকচালকরা তো আইনকানুন কিছু মানে না। আবার পুলিশ থাকলেও পুলিশকে ফুঁ-ও মারে না ওই ড্রাইভাররা। পুরো দুইটা রোডই ঢেকে রেখেছে। ট্রাফিককে মানে না। দুই রাস্তাজুড়ে ট্রাক রেখে তারা যে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করেছে, সেটাও তারা বুঝতে পারে না বা বুঝতে চায় না।’

‘জায়গা না পেয়েই রাস্তায় গাড়ি রাখি’

সড়কে পার্কিং করে রাখা ট্রাক ও পিকআপের চালকরা অবশ্য বলছেন, নির্ধারিত জায়গায় পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় বাধ্য হয়েই তারা রাস্তায় গাড়ি রাখেন। জায়গা পেলে সেখানেই গাড়ি রাখবেন বলেও জানান তারা। এতে তাদের যেমন সুবিধা হবে, তেমনি সাধারণ মানুষেরও ভোগান্তি কমবে বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার বলেন, ‘আমরা কেউই এখানে থাকতে চাই না। আমরা যেখানে আছি, সেটা কিন্তু পাবলিকের জায়গা, সরকারি জায়গা। পাবলিকের জায়গা, যদি কেউ মামলা করে দেয়, তাহলে আমরা এখানে থাকতে পারবো না। অথচ সরকারকে আমরা সর্বোচ্চ ট্যাক্স দিই। একটা গাড়িতে প্রতি বছর ৫০ হাজার টাকা ট্যাক্স দিই। কিন্তু আমাদের গাড়ি রাখার জন্য সরকার কোনও জায়গা দিচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাচ্ছিলাম ধউরের দিকে কোনও একটা জায়গা কিনে নিই। সরকার যদি নদীর পাড় বাদ দিয়ে একটা জায়গা আমাদের জন্য করে দেন ভালো হয়। আমরা রাস্তাঘাটে আসবো কেন? রাস্তায় গাড়ি রাখা তো অপরাধ। মহাখালীতে বাসের জন্য জায়গা দিচ্ছে সরকার, কিন্তু আমাদের দিচ্ছে না।’

তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার বলেন, ‘আমাদের যে স্ট্যান্ড আছে, ওই জায়গায় আসলে আমাদের জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। আমরা আছি মহাবিপদে।’

ডিএনসিসির জবাব মেলেনি

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জনসংযোগ বিভাগে প্রশাসক বরাবর লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও জবাব পাওয়া যায়নি। সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

Advertise with us
Advertise with us
তরুণদের যুক্ত করতে পারলে দেশ...
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Passenger Voice-এর খবর

Editor and Publisher
SAMSUDDIN CHOWDHURY
Dhaka Office
  • 26 Delwar Complex, Tikatuli, Wari, Bangladesh.
Chittagong Office
  • 35 Kadam Mobarak By-Lane, Jashim Bhaban (4th Floor), Momin Road, Chittagong.
Contact