ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চট্টগ্রাম বন্দরের সর্ববৃহৎ ও অত্যন্ত লাভজনক স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে থমথমে ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ৩টায় বন্দর সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সূচি থাকায় সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও সড়ক অবরোধ এড়াতে পুরো বন্দর এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ফটকে পুলিশের অবস্থান দেখা যায়। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কম দেখা গেছে। বন্দর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাধারণ যানবাহনের প্রবেশ ও চলাচল লক্ষণীয়ভাবে কমে গেছে। মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সিএমপির বন্দর থানার পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের মতো দেশের অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। চুক্তি সম্পাদনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো এলাকা জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা বন্দরের পরিচালনগত কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে।’
বন্দর এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট তানভির হোসেন বলেন, ‘বিকেল ৩টায় চুক্তি স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করতে পারে এমন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বন্দরগামী সড়কগুলোতে আগাম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় গাড়ি প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে, যার কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল কম দেখা যাচ্ছে। তবে জরুরি পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন যাতে বিকল্প রুটে চলাচল করতে পারে। যানজটের ভোগান্তি না হয়, সে জন্য ট্রাফিক পুলিশ মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
এর আগে, বুধবার রাতে বিদেশিদের হাতে বন্দর ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষায় এক বিশাল মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বন্দর ভবনের মোড় থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পোর্ট কানেক্টিং রোড অতিক্রম করে বড়পুলে গিয়ে শেষ হয়। এতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি এবং বন্দর কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
স্কপ নেতা তপন দত্ত অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কন্টেইনার ও জাহাজ হ্যান্ডলিংসহ টার্মিনালের সব কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তারপরও এই টার্মিনালটি বিদেশীদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এটি দেশবাসী মেনে নিতে পারে না। এখানেই রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র।’
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি সচল কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ৪০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে এই টার্মিনালের মাধ্যমে। পাঁচটি জেটি ও ১৪টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনসমৃদ্ধ এই টার্মিনালটি ২০০৭ সালে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়। সম্প্রতি খসড়া কনসেশন চুক্তিতে অনুমোদন দেওয়া হলেও চূড়ান্ত চুক্তির আগে আরও কিছু প্রক্রিয়া শেষ করে আজ বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় ঢাকায় চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবুও বিদেশীদের হাতে টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার এই সিদ্ধান্তে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। চুক্তির বিরোধিতায় আন্দোলনকারীরা বন্দর এলাকায় বিকেলে সড়ক অবরোধ করার কথা রয়েছে।এতে মুলত অচল থাকবে বন্দরের কার্যক্রম।