চায়ে সুসময় ফিরেছে

passengernews    |    ০১:৩৪ পিএম, ২০১৮-১২-১৭


চায়ে সুসময় ফিরেছে

এক বছর খারাপ যাওয়ার পর দেশে চা উৎপাদনে আবার সুসময় ফিরেছে। চলতি বছর বেশির ভাগ সময় আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। পাশাপাশি চায়ের দাম ভালো থাকায় মালিকেরাও বাগানের ভালো যত্ন নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে বছর শেষে চা উৎপাদন বেশ ভালো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দেশে চা উৎপাদন ভালো হয়েছিল ২০১৬ সালে। ওই বছর রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদিত হয়। এরপর গত বছর ছন্দপতন ঘটে। এবার আবার উৎপাদন বেড়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাস পর্যন্ত চলতি বছরের ১১ মাসে ৭ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। বছর শেষে তা ৮ কোটি ২০ লাখ কেজিতে উন্নীত হবে বলে ধারণা বোর্ডের কর্মকর্তাদের। অবশ্য বছরের শুরুটা ভালো ছিল না। চা বোর্ড ও বাগানমালিকেরা জানিয়েছেন, বছরের প্রথম দুই মাসে অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে চা উৎপাদন কম হয়। ফলে সার্বিক উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। ফেব্রুয়ারির পর থেকে এ পর্যন্ত আবহাওয়া চা উৎপাদনের অনূকূলে ছিল। জানতে চাইলে চা বোর্ডের উপপরিচালক (পরিকল্পনা) মো. মুনির আহমেদ বলেন, চা উৎপাদনে এখন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। আবার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দেশের চা–বাগানগুলো নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হয়েছে। চা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মজুরি বাড়ানোয় তাঁদের কর্মদক্ষতা বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, চা–বাগানের জমি যাতে ভিন্ন কাজে ব্যবহার না হয়, সেটিও মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে যাচাই করছে। উৎপাদন বাড়াতে এমন নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই গত বছরের চেয়ে এবার উৎপাদন বেড়েছে। চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালিনীছড়া চা-বাগানের মাধ্যমে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয়। বর্তমানে নিবন্ধিত চা-বাগানের সংখ্যা ১৬৪। চা চাষের জমির পরিমাণ ২ লাখ ৭৫ হাজার ২১৭ একর। সবচেয়ে বেশি চা-বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। এ ছাড়া হবিগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড় ও রাঙামাটি এলাকায় চা চাষ হচ্ছে। চা উৎপাদনের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ৮ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। গত বছর চা উৎপাদন নেমে আসে ৭ কোটি ৮৯ লাখ ৪৯ হাজার কেজিতে। নিলামে চায়ের দাম ভালো পাওয়ায় বাগানমালিকেরাও চা উৎপাদনে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এইচআরসি গ্রুপের চা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রথম আলোকে বলেন, মালিকেরা চা–বাগান সংস্কার করছেন। এর সুফল পাওয়া যাবে আগামী বছরগুলোতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে বাড়বে।