হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু ‘বাংলার জয়যাত্রা’র

Passenger Voice    |    ০৪:০২ পিএম, ২০২৬-০৪-০৮


হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু ‘বাংলার জয়যাত্রা’র

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর; বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিএসসি।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটি এতদিন আটকে ছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় নতুন করে যাত্রা শুরু করা হয়েছে।

জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বহন করছে। হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের পর এর পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দর।

বিএসসি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরান নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক (বিএন) বলেন, আপাতত নোঙর তুলেছে জাহাজটি। এখন হরমুজের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। এখানে আন্তর্জাতিক বিমা করপোরেশনের একটি ছাড়পত্রের বিষয়ও রয়েছে। তবে এখন যেহেতু স্বাভাবিকভাবে হরমুজ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের জাহাজ নিয়ে ইরানের কোনো আপত্তি নেই সেহেতু স্বাভাবিকভাবে আমাদের জাহাজ চলে আসতে পারবে। বিমাসংক্রান্ত ছাড়পত্রও পেয়ে যাবো আশা করছি।

তিনি জানান, অন্য একটি জাহাজ সৌদি আরবের বন্দরে ক্রুড অয়েল নিয়ে আটকে আছে সেটিও নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। একটি জাহাজকে হরমুজ পার হতে ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে। হরমুজ পার হওয়ার পর
পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি কাতারের মেসাইয়েদ বন্দর থেকে প্রায় ৩৮ হাজার ৮০০ টন ইস্পাতের কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছায়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা অবনতি এবং নৌ চলাচলে সতর্কতা জারির কারণে পণ্য খালাস কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক অবস্থান করছিল। পরে পণ্য খালাস করে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করছিল। যুদ্ধ বন্ধ না হওয়ায় অন্য বন্দর থেকে সার লোড করে নতুন গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।