ফিলিং স্টেশনগুলোতে কমছে না ভিড়

Passenger Voice    |    ১০:৫৬ এএম, ২০২৬-০৪-০৭


ফিলিং স্টেশনগুলোতে কমছে না ভিড়

‘মহাখালী রেলক্রসিং পার হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিই ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে যাব। কিন্তু দুপুর ১টার দিকে জাহাঙ্গীর গেটের আগেই লাইনে দাঁড়াতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে আসি প্রায় ৪টায়। এই পাম্পে যেতে আরও ঘণ্টাখানেক লাগতে পারে। আদৌ তেল পাব কি না জানি না। কারণ রবিবার অনেকেই তেল পাননি।’ 

নীলক্ষেত থেকে আসা বাইকচালক মো. রবিন এভাবেই সোমবার (৬ এপ্রিল) তেল না পাওয়ার ব্যাপারে হতাশার কথা জানান। 

শুধু এই পাম্পেই নয়, আসাদগেটের তালুকদার পাম্পেও চালকরা তেল পাবেন কি পাবেন না, সে ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করেন। 

ফিলিং স্টেশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের ট্যাগ অফিসাররা পাম্পে আসছেন। তেলের সরবরাহ ও মজুত দেখেছেন। ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের অধিকাংশ সময় পাম্প বন্ধ থাকছে। সেটা তারা দেখছেন, জানতে পারছেন। কিন্তু তার পরও বাড়ছে না তেলের সরবরাহ।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে এক মাস ধরে জ্বালানিসংকট চলছে। অন্যদিনের মতো গতকালও সকাল ও বিকেলে দেখা যায় অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ। তার পরও চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বেলা ১১টার দিকে দেখা যায়, আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশন বন্ধ।

মো. মন্টু মিয়াসহ অনেক চালক বলেন, ‘সকাল ৬টায় চন্দ্রিমা উদ্যান পার হয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং মোড় দিয়ে খামারবাড়ির দিকে লাইনে দাঁড়াই। এখন দুপুর ২টা বাজে। কখন তেল পাব জানি না। কারণ পাম্প থেকে কিছুই জানাচ্ছে না।’ 

শুধু মন্টুই নন, অন্য চালকরা অপেক্ষা করছেন প্রচণ্ড রোদে পুড়ে। তার পরও তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। লাইনে দাঁড়ানো অনেকেই রাইড শেয়ার করেন। পাম্প বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্টরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। 

এ ব্যাপারে তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার তন্ময় বারি বলেন, ‘তেল আছে, নেই অবস্থা। এটা স্বাভাবিক চিত্র হয়ে গেছে। কারণ চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না। সারা দিনে এক গাড়ি অকটেন পাই। শেষ হলেই পাম্প বন্ধ। লাইন যতই বড় হোক, আমাদের করার কিছু্ নেই।’ 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে তেল এলে রাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য দিনের অধিকাংশ সময় তেল পাচ্ছেন না চালকরা। বেশি পেলে এ সমস্যা থাকবে না। কিন্তু ডিপো থেকে দিচ্ছে না। ট্যাগ অফিসাররা প্রতিদিন পাম্পে আসছেন। তারা দেখছেন কতটুকু তেল পেয়েছি। বিক্রি কত হয়েছে। মজুত কত আছে। তার পরও সরবরাহ বাড়াচ্ছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।’

সকাল ১০টার দিকে আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় চালকদের দীর্ঘ লাইন। অন্য দিনের মতো মোহাম্মদপুর পোস্ট অফিসের পাশ দিয়ে ইকবাল রোড থেকে দীর্ঘ লাইন। তাদের আসাদগেটে আসতেই অধিকাংশ সময় পার হয়ে যাচ্ছে। পাম্পে দেখা যায় মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ২ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। 

রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও, নীলক্ষেত, কল্যাণপুর ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় অভিন্ন দৃশ্য। তেল না থাকায় অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে। তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, তেল পেতে চালকদের দীর্ঘ লাইন। এই লাইন জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়ে গেছে। 

মো. হাসান বলেন, ‘৩ ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে এসেছি। কখন পাব জানি না।’ মো. রবিনসহ অন্য চালকদেরও একই বক্তব্য। 

পাম্প অপারেটর শিমুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘আগের তুলনায় পদ্মা অয়েল কোম্পানি থেকে তেল বেশি পাচ্ছি। তাই বাইকে ১ হাজার ও প্রাইভেট কারে ৩ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। ট্যাগ অফিসাররা দিনে দুবার আসছেন। সবকিছু দেখছেন।’ 

এ ছাড়া তেজগাঁও এলাকার সাউদার্ন অটোমোবাইল ফিলিং স্টেশন, সিটি ফিলিং স্টেশন ও সততা ফিলিং স্টেশনেও চালকদের প্রচুর ভিড় দেখা যায়। কোথাও কোথাও সড়কে তিন থেকে চার লাইনেও চালকরা দাঁড়িয়ে আছেন ২ ঘণ্টা পর্যন্ত। 

রফিক নামে এক বাইকচালক সাউদার্ন ফিলিং স্টেশনে বলেন, ‘দুপুর ১টায় লাইনে দাঁড়িয়েও ৩টার দিকে তিনি পাম্পের কাছে আসেন। ৫০ থেকে ৬০টি বাইক তার আগেই দাঁড়িয়ে আছে। তেল পাবেন কি না অনিশ্চয়তার কথা জানান। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নেই।’