দৌলতদিয়া ঘাটে পশুবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়

Passenger Voice    |    ১২:৪৬ পিএম, ২০২৪-০৬-১১


দৌলতদিয়া ঘাটে পশুবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে প্রতিদিন শতশত কোরবানির জন্য পশুবাহী গাড়ি পারাপার হচ্ছে। তবে এসব গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে কোরবানির পশুর গাড়ি ভিআইপি ভাবে পারাপার হলেও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরীঘাটে এসে নদী পারের অপেক্ষায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালক ও খামারিরা।

ফেরীর লুছ যাত্রীর ভাড়া আদায়ের নামে সুকৌশলে পশুবাহী গাড়ি ও খামারিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা ও চাঁদা। আর পশুবাহী গাড়ি থেকে যারা চাঁদা নেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া। বর্তমানে ঈদ যাত্রায় চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে এ দৌলতদিয়া ঘাটে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, নদী পারাপারের জন্য শুধুমাত্র পায়ে হেটে ফেরীতে উঠলে লুছ যাত্রী হিসেবে টিকিট কাটতে হয়। আর ট্রাক বা বাসে বা অন্যান্য যানবাহনে নদী পারাপার হলে কোনো ব্যক্তির কোনো টিকিট কাটার প্রয়োজন হয় না। অথচ ঈদকে সামনে রেখে কোরবানি পশুর গাড়িকে টার্গেট করে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ঘাটে এক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লুছ যাত্রীর ফেরী ভাড়া আদায়ের নামে পশুবাহী ট্রাক থামিয়ে খামারিদের নামিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা ও চাঁদা।

যেখানে বিআইডব্লিউটিসি বলছে পশুবাহী কোনো ট্রাকের রাখাল ও খামারিদের কোনো বাড়তি টাকা ও টিকিট কাটার কোনো প্রয়োজন নেই, ফেরী ঘাটে সেখানে কয়েকজন যুবক সংঘবদ্ধ হয়ে টিকিট ছাড়াও সরাসরি টাকা নিচ্ছে। এতে আতংকিত হচ্ছে পশুবাহী ট্রাকে থাকা রাখাল ও খামারিরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক সপ্তাহের অধিক সময় ধরে রাতে ও দিনে ২৪ ঘণ্টায় এ চাঁদা উঠানো হচ্ছে পশুবাহী গাড়ি থেকে। ফেরী ঘাটে পশুর গাড়ি আসা মাত্রই সংঘবদ্ধ কয়েকজন যুবক গাড়ির সামনে গিয়ে গাড়ি থামায় এবং তাদের প্রত্যেকের কাছেই মেসার্স ফিয়াদ এন্টার প্রাইজ এর ফেরীর লুছ যাত্রীর ভাড়া আদায়ের (৩৬) টাকার টিকিট হাতে থাকে। পশুবাহী গাড়িতে থাকা রাখাল ও খামারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নিচ্ছে। ঘাটে সচল তিনটি ফেরীঘাটের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়।

ঘাটে আসা রতন শেখ নামের এক খামারি বলেন, ঘাটে আমাদের কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। ফেরীতে পারাপারের জন্য ফেরীর টিকিট কিনেছি তারপরও ফেরীতে উঠার সময় আমাদের বাধ্য করে ৫০ টাকা করে জনপ্রতি নিয়ে টিকিট ধরিয়ে দিচ্ছে। ঘাটে আমাদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে।

রফিক বেপারী নামের আরেক খামারী বলেন, কোরবানির ঈদ আসলেই দৌলতদিয়া ঘাটে বাড়তি টাকার নামে চাঁদা দেওয়া হয়। এ চাঁদা দিতে আমরা বাধ্য হই। সরকার ও প্রশাসন কী এ বিষয়টা দেখে না। আমাদের গাড়ি থামিয়ে খারাপ ব্যবহার করে বাধ্য করে টাকা দিতে।

ইমরান ফকীর নামের পশুবাহী ট্রাকের চালক বলেন, ঈদের সময় ঘাট দিয়ে পারাপার হলেই বাড়তি টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে আমাদের খুব মারধর করে খারাপ ব্যবহার করে। আমরা বাধ্য হয়েই বাড়তি টাকা দেই ফেরীতে উঠার আগেই। এ বাড়তি টাকা অন্যায়ভাবেই আমাদের কাছ থেকে নিচ্ছে ঈদের সামনে এটা কারোই চোখে পড়বে না।

মোসলেম উদ্দিন নামের খামারি বলেন, ফেরী ঘাটে আসা মাত্রই কয়েকজন যুবক আমাদের গাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামায়, আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম এ সময়। তারপর বলে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে দিতে। আমরা বলি এটা কিসের টাকা। তারা বলে টাকা না দিলে গাড়ি ফেরীতে উঠতে দেব না। আমরা ১২ জন ছিলাম ৬০০ টাকা দিয়েছি তাদের। টাকা দেওয়ার পর টিকিট চেয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের কোনো টিকিট দেয়নি এবং খুব খারাপ ব্যবহার করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ঘাট কর্তৃপক্ষের কেউ অভিযোগ স্বীকার করেননি। তবে ফেরি ঘাটের সামনে টিকিট হাতে বিক্রি করা লোকজনকে জনপ্রতি ৩৬ টাকার টিকিট ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, ভাংতি না থাকায় কখনো দু’চার টাকা কম-বেশি নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, বিষয়টি খুবই পরিষ্কার ফেরীর লুছ যাত্রীর ভাড়া আদায়ের নামে ঘাটে আসা পশুবাহী কোনো গাড়ি থেকে বাড়তি টাকা কেউ নিতে পারবে না। ফেরীর লুছ যাত্রী অর্থাৎ যারা পায়ে হেটে ফেরীতে উঠবে সেই সকল যাত্রীই ৩৬ টাকার টিকিট কাটবে। এর ব্যতীত কাউকে কোনো যানবাহনের যাত্রী বা পশুবাহী গাড়ি থেকে বা পশুবাহী গাড়িতে থাকা খামারিদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। এটা অন্যায়, এটা অনিয়ম।

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র জানান, এ বিষয়টি আমি প্রথম শুনলাম। ঘাটে আসা পশুবাহী গাড়ি থেকে কেউ কোনো বাড়তি টাকা নিতে পারবে না। ঈদকে সামনে রেখে দৌলতদিয়া ঘাটে কোনোরকম অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। ঘাট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম জানান, পশুবাহী বিভিন্ন যানবাহন বিশেষ করে ট্রাক এগুলো আমাদের পুলিশ হেডকোয়াটার্স থেকে নিষেধ করা আছে এগুলো কেউ দাড় করাবে না বা চাঁদা উঠাবে না। যদিও এ ব্যাপারে আমরা জেলা পুলিশ রাজবাড়ী শক্ত অবস্থানে রয়েছি। কেউই এ ধরণের যানবাহন থেকে কোনো প্রকার চাঁদা আদায় করতে পারবে না। সেটা যে কোনো ভাবেই হোক বা যেকোনো নামেই হোক। কোনো ভাবেই এটা আমরা করতে দেব না।

প্যা/ভ/ম