এবার নিবন্ধনের আওতায় আসছে যানবাহন মেরামত কারখানা

Passenger Voice    |    ১০:৪৩ এএম, ২০২৪-০৬-০৫


এবার নিবন্ধনের আওতায় আসছে যানবাহন মেরামত কারখানা

সারা দেশে প্রায় ৩০ হাজার যানবাহন মেরামত কারখানা রয়েছে। তথ্যটি বাংলাদেশ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা এসব যানবাহন মেরামত কারখানা নিবন্ধনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। গতকাল(৫ জুন) বিআরটিএ কার্যালয়ে রিপোর্টার্স ফর রেল অ্যান্ড রোড (আরআরআর) ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার।

যানবাহন মেরামত, নকশা পরিবর্তন ছাড়াও মোটরগাড়ির যেকোনো সমস্যার সমাধানে যন্ত্রাংশ সংযোজনসহ নানান কাজ মেরামত হয় ওয়ার্কশপে। নতুন বডি তৈরি, গাড়ি রিমডেলিং, ইঞ্জিনের নাট, চেসিস, বিয়ারিং, টায়ার ও স্প্রিংসহ ছোট-বড় নানা সমস্যা সমাধান করা হয় এখানে। তবে এবার এসব ওয়ার্কশপকে নিবন্ধনের আওতায় আনছে বিআরটিএ। বিআরটিএ বলছে, এতে ঠিক থাকবে যন্ত্রাংশের গুণগত মান।

যদিও বিআরটিএর এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন যানবাহন মেরামত কারখানার মালিকরা। তারা বলছেন, যে আইনের (সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮) মাধ্যমে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, সেই আইনটি প্রণয়নের সময় কারখানা মালিকদের মতামত গ্রহণ করা হয়নি।

মতবিনিময় সভায় বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘যানবাহন মেরামত কারখানাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর জন্য বিভাগীয় কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিটি তালিকা করবে কোথায় কোথায় যানবাহন মেরামত কারখানা আছে। তারপর এসব কারখানাকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে। সেই লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়ে গেছে।’

অন্যদিকে বিআরটিএর এ উদ্যোগকে কারখানা মালিকদের ওপর এক ধরনের জুলুম হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির সভাপতি ইসমাইল করিম চৌধুরী। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‌যে আইনের মাধ্যমে যানবাহন মেরামত কারখানাগুলো নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেই আইন তৈরি করার সময় আমাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। এখন নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়ে আমাদের ওপর এক প্রকার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, এটা অন্যায়। এর বিরুদ্ধে আমরা দ্রুতই প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করব। প্রয়োজনে আইনেরও দ্বারস্থ হব।’

গতকালের মতবিনিম সভায় যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নীতিমালার বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘‌আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ করে সড়কের পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই স্পিড লিমিট গাইডলাইন করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কমানোর জন্যই এ নীতিমালা করা হয়েছে। কারণ দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ গতি।’ 

তিনি জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস টার্মিনাল এলাকায় কোনো পরিবহনের একাধিক কাউন্টার থাকতে পারবে না। একাধিক বাস কাউন্টার থাকায় সেখানে বাস দাঁড়িয়ে থাকে। এতে যাত্রীদের গন্তব্যে যেতে দেরি হয়। পাশাপাশি সড়কে তৈরি হয় যানজট। এ সময় বিআরটিএর নানা ধরনের ডিজিটাল সেবার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান।

মতবিনিয়ময় সভায় আরআরআর সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম, বিআরটিএর পরিচালক (অপারেশন) লোকমান হোসেন মোল্লা, পরিচালক (রোড সেফটি) মাহবুব-ই-রাব্বানিসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আরআরআরের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্যা/ভ.ম